উদ্ভিদের পুষ্টি হলো দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ এবং ব্যবহারের প্রক্রিয়া। সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ার নাম সালোকসংশ্লেষণ।
পুষ্টি বলতে জীবের প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ ও দেহের কাজে ব্যবহার বোঝায়। প্রাণীর ক্ষেত্রে খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও আত্তীকরণের মাধ্যমে এই কাজ হয়। উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ থেকে বিভিন্ন মৌল গ্রহণ করে।
উদ্ভিদের কোনো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে যে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়, তাকে অভাবজনিত লক্ষণ বলে। পাতার রং, বৃদ্ধি, মুকুল ও কাণ্ডের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ঘাটতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
আদর্শ খাদ্য পিরামিড হলো সুষম খাদ্যের বিভিন্ন দলকে গ্রহণের আপেক্ষিক পরিমাণ অনুযায়ী সাজানো একটি নির্দেশক চিত্র। নিচে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং ওপরে কম পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্য বসালে পিরামিডের আকৃতি হয়।
দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির কারণে যেসব রোগ হয়, সেগুলোকে পুষ্টির অভাবজনিত রোগ বলে। দীর্ঘদিন শুধু পেট ভরে খাবার খেলেও নির্দিষ্ট উপাদান না পেলে এমন রোগ হতে পারে।
গলগণ্ড বলতে প্রচলিতভাবে গলার থাইরয়েড গ্রন্থির ফোলা বোঝায়। পুষ্টির অভাবজনিত গয়টার আলোচনায় বিশেষভাবে আয়োডিনের ঘাটতিতে এই গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রাতকানা হলো কম আলোয় বা সন্ধ্যার পর ভালোভাবে দেখতে না পারা। এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত চোখের রোগ জেরোফথালমিয়া-র প্রাথমিক স্তর। দিনের উজ্জ্বল আলোয় মোটামুটি দেখতে পেলেও রোগী অল্প আলোয় জিনিস অস্পষ্ট বা ঝাপসা দেখতে পারে।
রিকেট হলো শিশুদের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হওয়ার রোগ, যার প্রধান কারণ ভিটামিন ডি-এর অভাব। এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং দেহের ভার বহন করতে গিয়ে বাঁকা হতে পারে। এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ নয়।
রক্তাল্পতা হলো বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকা। লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতির সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত হতে পারে। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকায় থাকা অক্সিজেনবাহী পদার্থ।
খাদ্যশক্তি হলো খাদ্যের পুষ্টি উপাদান থেকে দেহের কাজে ব্যবহারের জন্য পাওয়া শক্তি। শ্বাসক্রিয়ায় খাদ্য উপাদান ভেঙে শক্তি মুক্ত হয়। হাঁটা, পড়াশোনা, খেলাধুলা, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডের কাজ চালাতে এই শক্তি লাগে।
খাদ্যের শক্তি হিসাবের আগে বিশুদ্ধ খাদ্য ও মিশ্রখাদ্য আলাদা করতে হয়। বিশুদ্ধ খাদ্যে একটি পুষ্টি উপাদান থাকে, যেমন চিনিতে শর্করা। মিশ্রখাদ্যে একাধিক পুষ্টি উপাদান থাকে, যেমন দুধ, ডিম ও খিচুড়ি।
ক্রিয়াকর্মে ব্যয়িত শক্তি হলো দেহের কাজ সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত শক্তি। পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে আমরা হাঁটি, দৌড়াই, সাঁতার কাটি ও খেলাধুলা করি। পেশির কাজের পরিমাণ বাড়লে সাধারণত শক্তির ব্যয়ও বাড়ে।
বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই হলো উচ্চতার তুলনায় দেহের ওজন মূল্যায়নের সূচক। এটি কম ওজন, স্বাভাবিক ওজন, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়।
বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই উচ্চতার তুলনায় ওজন কেমন, তা বোঝার একটি সহজ সূচক। শুধু কাউকে দেখতে মোটা বা চিকন লাগছে বলে তার ওজনের অবস্থা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। একই ওজনের দুই ব্যক্তির উচ্চতা আলাদা হলে তাদের বিএমআই-ও আলাদা হয়।
বিএমআই হিসাব করতে দেহের ভরকে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করা হয়: BMI=m/h²। এখানে m দেহের ভর, একক কিলোগ্রাম; h উচ্চতা, একক মিটার। এগুলো ভর ও দৈর্ঘ্যের SI একক। বিএমআই-এর একক kg/m²। দৈনন্দিন ভাষায় ভরকে ওজন বলা হয়।
মৌলবিপাকের হার বা বিএমআর বিশ্রামে দেহের মৌলিক কাজের জন্য শক্তি ব্যয়ের হার। হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস ও দেহের তাপ বজায় রাখার কাজ চলমান থাকে। তাই বিএমআর হলো দৈনিক শক্তিব্যয়ের একটি ভিত্তি, সম্পূর্ণ হিসাব নয়।
বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই উচ্চতার তুলনায় দেহের ওজন মূল্যায়নের সূচক। এর হিসাবের মধ্যে বয়স বা লিঙ্গ সরাসরি বসানো হয় না। কিন্তু পাওয়া মানের অর্থ বোঝার সময় বয়স ও লিঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরচর্চা হলো শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ। বিশ্রাম হলো শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের পর কাজের চাপ থেকে বিরতি নেওয়া, যাতে শরীর ক্লান্তি কাটিয়ে আবার কাজের উপযোগী হয়।
খাদ্য সংরক্ষণ হলো খাদ্যের পচন রোধ করে তার গুণাগুণ, গ্রহণযোগ্যতা ও খাদ্যমান বজায় রাখার প্রক্রিয়া। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি এবং চর্বির জারণে খাদ্য নষ্ট হতে পারে।
রঞ্জক পদার্থ হলো খাদ্যের রং পরিবর্তন বা আকর্ষণ বাড়াতে ব্যবহৃত পদার্থ। লজেন্স, আইসক্রিম, কৃত্রিম জুস, রঙিন পানীয়, মিষ্টি, বেগুনি ও বড়ায় রং ব্যবহার করা হয়।
খাদ্য গ্রহণ হলো মুখ দিয়ে দেহে খাদ্য নেওয়া। এর পর চিবানো খাদ্য গিলে ভেতরের দিকে পাঠানোর প্রক্রিয়া হলো গলাধঃকরণ। দুটি ঘটনা পরস্পর সম্পর্কিত, তবে একই অর্থে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
পরিপাক হলো জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্যকে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। ভাতের শ্বেতসার বা মাছের আমিষ সরাসরি একই অবস্থায় কোষে ব্যবহারযোগ্য হয় না। পরিপাক তাদের ছোট উপাদানে ভাঙে।
শোষণ হলো পরিপাক হওয়া সরল খাদ্য উপাদান অন্ত্রের প্রাচীর অতিক্রম করে রক্ত বা লসিকায় প্রবেশ করা। খাদ্য ছোট উপাদানে ভাঙলেই তা সব কোষে পৌঁছে যায় না। অন্ত্রের গহ্বর থেকে পরিবহন ব্যবস্থায় ঢোকার এই ধাপটি প্রয়োজন।
আত্তীকরণ হলো পরিপাক ও শোষণের পর খাদ্য উপাদান দেহকোষের প্রোটোপ্লাজমের উপাদানে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া। শুধু খাদ্য খাওয়া বা রক্তে পুষ্টি উপাদান পৌঁছানোতেই দেহের গঠন সম্পূর্ণ হয় না।
নিঃসরণ বা মলত্যাগ বলতে খাদ্য গ্রহণের পর অপাচ্য ও অশোষিত অবশিষ্টাংশ মল হিসেবে পায়ু দিয়ে বের করে দেওয়া বোঝায়। সব খাদ্য উপাদান দেহের ভেতরে একইভাবে ব্যবহৃত হয় না।
যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এটি মধ্যচ্ছদার নিচে উদরের ডান দিকে অবস্থিত এবং গাঢ় বাদামি রঙের। এর ডান খণ্ড বাম খণ্ডের চেয়ে বড়। যকৃতে বহু ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে একে দেহের রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
পরিপাকে যকৃতের ভূমিকা প্রধানত পিত্তরস তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। খাদ্য মুখ থেকে গ্রাসনালি হয়ে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়; যকৃতের ভেতর দিয়ে যায় না।
দেহে খাদ্য উপাদানের গঠন, ভাঙন ও ব্যবহারের রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে একত্রে বিপাক বলে। পরিপাকের ফলে শর্করা থেকে গ্লুকোজ এবং আমিষ থেকে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
অগ্ন্যাশয় হলো পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গ্রন্থি, যা পরিপাককারী রস ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসরণ করে। একই গ্রন্থি বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা—দুই ধরনের কাজ করলে তাকে মিশ্র গ্রন্থি বলে।
আন্ত্রিক সমস্যা বলতে পরিপাকতন্ত্রের কাজ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অসুস্থতাকে বোঝায়। ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের পরিপাক ও অধিকাংশ শোষণ ঘটে; বৃহদন্ত্রে অবশিষ্ট উপাদান থেকে পানি শোষিত হয় এবং মল তৈরি হয়।
অজীর্ণতা হলো খাদ্য পরিপাকে অসুবিধা বা ব্যাঘাত। এটি একটিমাত্র নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়; বিভিন্ন কারণে দেখা দেওয়া কয়েকটি উপসর্গের সমষ্টি। তাই পেট ভার লাগলেই তার কারণ শুধু বেশি খাওয়া—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
আমাশয় হলো অন্ত্রের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা, যাতে ঘন ঘন মলত্যাগ, পেটব্যথা এবং মলের সঙ্গে আম বা রক্ত যেতে পারে। এটি প্রোটোজোয়া Entamoeba histolytica অথবা Shigella নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলো মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া অথবা স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে অসুবিধা হওয়া। মলত্যাগের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং বেশি চাপ দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে পেট ভার, পেট ফাঁপা বা পেটব্যথাও থাকতে পারে।
অ্যাপেন্ডিক্স হলো আঙুলের আকারের একটি ছোট থলে, যা পেটের ডান দিকের নিচে বৃহদন্ত্রের শিকামের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর সংক্রমণ ও প্রদাহকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে।
পরজীবী হলো এমন জীব, যা অন্য জীবের দেহে বা দেহের ওপর থেকে খাদ্য ও আশ্রয় পায় এবং আশ্রয়দাতার ক্ষতি করে। মানুষের অন্ত্রে বাস করা গোলকৃমি, সুতাকৃমি ও ফিতাকৃমি এ ধরনের পরজীবী।
ডায়রিয়া হলো দিনে অন্তত তিনবার পাতলা বা জলীয় মলত্যাগ। সব বয়সে হলেও শিশুদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমিতে দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। দেহে পানির এই ঘাটতিকে পানিশূন্যতা বলে।
মুন্সীগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলয় বিদ্যালয়ের টিফিনে প্রায়ই অতিরিক্ত তেলযুক্ত সিঙ্গাড়া, সমুচা ও কৃত্রিম কোমল পানীয় গ্রহণ করে এবং কোনো খেলাধুলা বা শরীরচর্চা করে না। বর্তমানে তার দেহের ওজন ৮০ kg এবং উচ্চতা ১.৬০ m। সম্প্রতি সে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও মলত্যাগে তীব্র ব্যথাসহ অনিয়মিত মলত্যাগের মতো কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসক তাকে সুষম খাদ্য গ্রহণ, আঁশযুক্ত খাবার বা রাফেজ (roughage) বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দিলেন। অন্যদিকে তার সহপাঠী রাফি প্রতিদিন পরিমিত সুষম খাবার খায়, যার পৌষ্টিকনালিতে পাচক রস ও বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় খাদ্য সুষ্ঠুভাবে পরিপাক ও শোষিত হয়।
ক
রাফেজ (Roughage) কী?
উত্তর দেখাও
শস্যদানা, ফলমূল এবং শাকসবজির অপাচ্য সেলুলোজ নির্মিত উদ্ভিদ কোষপ্রাচীরজাতীয় খাদ্য আঁশকে রাফেজ (roughage) বলে।
খ
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ প্রয়োজন কেন—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
খাদ্যের রাফেজ বা সেলুলোজ আঁশ প্রচুর পানি শোষণ করে মলের আর্দ্রতা ও আয়তন বৃদ্ধি করে এবং মলকে নরম ও পিচ্ছিল রাখে। ফলে অন্ত্রের অনৈচ্ছিক পেশির পেরিস্টালসিস (peristalsis) চলন সহজ হয় এবং অপাচ্য বর্জ্য কোনো অস্বস্তি ছাড়াই মলাশয় দিয়ে সহজে বের হয়ে যেতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও বৃহদান্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
গ
উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে নিলয়ের দেহের বিএমআই (BMI) নির্ণয় করো এবং তার ওজনের স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়ন করো।
উত্তর দেখাও
আমরা জানি, BMI=(দেহেরউচ্চতা (m))2দেহেরওজন (kg)। উদ্দীপক অনুসারে নিলয়ের দেহের ওজন = ৮০ kg এবং উচ্চতা = ১.৬০ m। মান বসিয়ে পাই: BMI=(১.৬০)২৮০=২.৫৬৮০=৩১.২৫ kg/m2। এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তকের বিএমআই মানদণ্ড অনুসারে: ১৮.৫–২৪.৯ হলো আদর্শ ওজন, ২৫.০–২৯.৯ হলো অতিরিক্ত ওজন, এবং ৩০.০–৩৪.৯ হলো স্থূলতার প্রথম স্তর (Obesity class I)। অতএব, নিলয়ের বিএমআই ৩১.২৫ kg/m2, যা নির্দেশ করে সে স্থূলতার ১ম স্তরে রয়েছে এবং শারীরিক জটিলতা এড়াতে তার ওজন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাফির গৃহীত খাদ্যের পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক পরিপাক ও পুষ্টি শোষণে ক্ষুদ্রান্ত্রই প্রধান অঙ্গ—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখাও
ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্যের তিন প্রকার প্রধান উপাদানের (শর্করা, আমিষ ও স্নেহ) চূড়ান্ত পরিপাক এবং প্রায় সমগ্র পুষ্টি শোষণ সম্পন্ন হয়। প্রথমত, ডিওডেনামে যকৃত থেকে আসা পিত্তরস কাইমের অম্লভাব প্রশমিত করে ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি করে এবং পিত্তলবণ চর্বির ইমালসিফিকেশন ঘটায়। দ্বিতীয়ত, অগ্ন্যাশয় রসে থাকা ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ এবং অন্ত্রের আন্ত্রিক রসে থাকা মল্টেজ, সুক্রেজ ও পেপটাইডেজ এনজাইমগুলো একসাথে ক্রিয়া করে জটিল শর্করাকে গ্লুকোজে, আমিষকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে এবং চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে রাসায়নিক পরিপাক সম্পূর্ণ সমাপ্ত করে। তৃতীয়ত, ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম প্রাচীরে অবস্থিত লক্ষ লক্ষ আঙ্গুলের মতো অভিক্ষেপ বা ভিলাইয়ের (villi) রক্তজালিকা দ্বারা গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ল্যাকটিয়েল নালি দ্বারা ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল সরাসরি শোষিত হয়ে সংবহনতন্ত্রে প্রবেশ করে। পৌষ্টিকনালির অন্য কোনো অঙ্গে এই সর্বজনীন রাসায়নিক ভাঙন ও সার্বিক পুষ্টি শোষণ ঘটে না বলে ক্ষুদ্রান্ত্রই পরিপাক ও শোষণের প্রধান অঙ্গ।