offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৩২

গ্লুকোজ এবং অ্যামাইনো এসিডের বিপাক

পড়ার নোট

গ্লুকোজের বিপাক

দেহে খাদ্য উপাদানের গঠন, ভাঙন ও ব্যবহারের রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে একত্রে বিপাক বলে। পরিপাকের ফলে শর্করা থেকে গ্লুকোজ এবং আমিষ থেকে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে শোষিত হয়ে এগুলো রক্তের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায় এবং পরে দেহের বিভিন্ন কোষে সরবরাহ হয়। তাই পরিপাক শেষ হলেই খাদ্যের কাজ শেষ হয় না; শোষিত উপাদানকে কাজে লাগানোও জরুরি।

গ্লুকোজ কোষের শক্তি উৎপাদনের প্রধান উপাদান। কোষীয় শ্বসনে অক্সিজেনের সাহায্যে গ্লুকোজ ভেঙে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি তৈরি হয় এবং শক্তি মুক্ত হয়। এই শক্তি হাঁটা, খেলাধুলা ও দেহের অন্যান্য কাজ চালাতে ব্যবহৃত হয়।

তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন নামের সঞ্চিত শর্করায় পরিণত হয়ে যকৃতে জমা থাকে। রক্তে গ্লুকোজ কমলে যকৃতের গ্লাইকোজেনের কিছু অংশ আবার গ্লুকোজ হয় এবং রক্তে মেশে। এভাবে যকৃত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আরও অতিরিক্ত গ্লুকোজ স্নেহপদার্থে রূপান্তরিত হয়ে সঞ্চিত হতে পারে।

অ্যামাইনো এসিডের বিপাক

অ্যামাইনো এসিড হলো আমিষ গঠনের সরল উপাদান। কোষ এগুলো দিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় আমিষ তৈরি করে। এর ফলে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ এবং এনজাইম ও কিছু হরমোন তৈরি হয়। যেমন, বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীর নতুন কলা গঠন এবং কেটে যাওয়া স্থানের ক্ষয়পূরণে আমিষ দরকার।

অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড গ্লাইকোজেনের মতো আলাদা ভাণ্ডারে জমা থাকে না। যকৃতে এর নাইট্রোজেনযুক্ত অংশ অপসারিত হয়। উৎপন্ন অ্যামোনিয়া থেকে কম ক্ষতিকর ইউরিয়া তৈরি হয়, যা শেষে মূত্রের সঙ্গে বের হয়। অবশিষ্ট অংশ শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত বা স্নেহপদার্থে রূপান্তরিত হতে পারে।

ভাত ও ডাল খাওয়ার উদাহরণে, ভাতের শর্করা থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শক্তি দেয়; ডালের আমিষ থেকে পাওয়া অ্যামাইনো এসিড দেহের আমিষ গঠনে লাগে। একই খাবারের বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার তাই ভিন্ন।

সাধারণ ভুল হলো গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে একই পদার্থ ভাবা, অথবা অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডও অপরিবর্তিত অবস্থায় জমে থাকে মনে করা।

মনে রাখো: যকৃত গ্লুকোজের সঞ্চয় ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডের নাইট্রোজেন অপসারণে সাহায্য করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো