পড়ার নোট
পরিপাকে যকৃতের ভূমিকা প্রধানত পিত্তরস তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পর্কিত। খাদ্য মুখ থেকে গ্রাসনালি হয়ে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়; যকৃতের ভেতর দিয়ে যায় না। যকৃতের কোষে তৈরি রস নালির মাধ্যমে খাদ্যের কাছে পৌঁছে পরিপাকে সাহায্য করে। তাই যকৃত পৌষ্টিকনালির অংশ না হয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিপাকগ্রন্থি।
মুখে দাঁত ও জিহ্বা খাদ্য ছোট করে এবং লালার অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মল্টোজে ভাঙতে শুরু করে। পাকস্থলীতে পেশির চলনে খাদ্য মেশে; হাইড্রোক্লোরিক এসিড পেপসিনকে সক্রিয় করে এবং পেপসিন আমিষকে পলিপেপটাইডে ভাঙে। এভাবে তৈরি অম্লীয় অর্ধতরল মণ্ড বা কাইম ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। এখানেই পিত্তরসের কাজ বিশেষভাবে প্রয়োজন হয়।
পিত্তরস হলো যকৃতে তৈরি ক্ষারীয় পরিপাক-সহায়ক রস। এটি পিত্তথলিতে জমা থাকে। প্রয়োজন হলে পিত্তনালি দিয়ে ডিওডেনামে আসে। একই অঞ্চলে অগ্ন্যাশয়রসও পৌঁছায়। পিত্তে পানি, পিত্তলবণ, পিত্তরঞ্জক, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ থাকে, কিন্তু কোনো পরিপাককারী এনজাইম থাকে না।
পিত্তরসের কাজ দুটি ধারায় বোঝা যায়:
- পাকস্থলী থেকে আসা মণ্ডের অম্লভাব প্রশমনে সাহায্য করে। অগ্ন্যাশয়রসের সঙ্গে মিলে ক্ষুদ্রান্ত্রে এনজাইমের কাজের উপযোগী ক্ষারীয় পরিবেশ গঠনে অংশ নেয়। পাকস্থলীর পেপসিনের উপযোগী পরিবেশ আর ক্ষুদ্রান্ত্রের এনজাইমের উপযোগী পরিবেশ এক নয়।
- পিত্তলবণ বড় স্নেহবিন্দুকে ক্ষুদ্র দানায় ছড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে। ক্ষুদ্র দানা তৈরি হওয়ায় স্নেহের মোট উন্মুক্ত পৃষ্ঠতল বাড়ে এবং লাইপেজ সহজে কাজ করতে পারে।
সরিষার তেলে রান্না করা মাছ খাওয়ার উদাহরণ ধরো। ক্ষুদ্রান্ত্রে তেলের বড় বিন্দু পিত্তলবণের সাহায্যে ছোট হয়। এরপর অগ্ন্যাশয়রসের লাইপেজ স্নেহকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে। পিত্তরস তাই স্নেহের পরিপাক ও পরবর্তী শোষণে সাহায্য করে, কিন্তু নিজে এনজাইমের কাজ করে না।
একই সময়ে ট্রিপসিন আমিষের এবং অ্যামাইলেজ শ্বেতসারের পরিপাকে অংশ নেয়। আন্ত্রিক রসের মল্টেজ, ল্যাক্টেজ ও সুক্রেজ শর্করার পরিপাক সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে। যকৃতের রস এই সম্মিলিত কাজের উপযোগী অবস্থা তৈরি করে।
সাধারণ ভুল হলো পিত্তরস স্নেহকে সরাসরি ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে লেখা। পিত্ত ক্ষুদ্র দানা তৈরি করে; রাসায়নিক ভাঙন ঘটায় লাইপেজ।
মনে রাখো: যকৃতের পিত্তরস এনজাইম ছাড়াই অম্লভাব প্রশমন ও স্নেহের ইমালসিফিকেশনের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।