পড়ার নোট
যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এটি মধ্যচ্ছদার নিচে উদরের ডান দিকে অবস্থিত এবং গাঢ় বাদামি রঙের। এর ডান খণ্ড বাম খণ্ডের চেয়ে বড়। যকৃতে বহু ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে একে দেহের রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। পরিপাক ছাড়াও পুষ্টি সঞ্চয়, রক্তের উপাদান নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য তৈরিতে এর ভূমিকা আছে।
যকৃতের কোষ পিত্তরস তৈরি করে। এই ক্ষারীয় রস যকৃতের নিচের পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজনে ডিওডেনামে যায়। এতে পানি, পিত্তলবণ, পিত্তরঞ্জক, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ থাকে। পিত্তরসে এনজাইম নেই; এটি স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় ভাগ করে লাইপেজের কাজ সহজ করে। পাকস্থলী থেকে আসা খাদ্যের অম্লভাব প্রশমনেও সাহায্য করে।
যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। খাবারের পর অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করে। রক্তে গ্লুকোজ কমলে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছু অংশ আবার গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে মেশে। ফলে প্রয়োজনের সময় সঞ্চিত শর্করা কাজে লাগানো যায়।
ধরো, দুপুরে ভাত খাওয়ার পর শ্বেতসার পরিপাকে গ্লুকোজ তৈরি হলো। শোষিত গ্লুকোজের একটি অংশ যকৃতে সঞ্চিত হতে পারে। পরে দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তের গ্লুকোজ কমলে সেই সঞ্চয় থেকে গ্লুকোজ সরবরাহ হতে পারে। এভাবেই খাদ্য গ্রহণের বিরতি সত্ত্বেও সরবরাহ বজায় রাখতে যকৃত সাহায্য করে।
অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডের পরিবর্তনেও যকৃত অংশ নেয়। এদের নাইট্রোজেনযুক্ত অংশ থেকে তৈরি বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত করা হয়। ইউরিয়া রক্তে পরিবাহিত হয়ে বৃক্কে পৌঁছায় এবং মূত্রের সঙ্গে বের হয়। তাই ইউরিয়া তৈরি করা ও মূত্র ত্যাগ করা আলাদা অঙ্গের কাজ।
সাধারণ ভুল হলো পিত্তথলি পিত্তরস তৈরি করে ভাবা। পিত্ত তৈরি করে যকৃত; পিত্তথলি মূলত তা জমা রাখে। আবার যকৃত ক্ষতিকর পদার্থ পরিবর্তন করতে পারে বলে সব বিষ নিরাপদ করে দেয়, এমন ধারণাও ভুল।
মনে রাখো: যকৃত পিত্ত তৈরি, পুষ্টি সঞ্চয়, গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় অঙ্গ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।