offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৩০

যকৃতের (Liver) কাজ

পড়ার নোট

যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এটি মধ্যচ্ছদার নিচে উদরের ডান দিকে অবস্থিত এবং গাঢ় বাদামি রঙের। এর ডান খণ্ড বাম খণ্ডের চেয়ে বড়। যকৃতে বহু ধরনের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে একে দেহের রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। পরিপাক ছাড়াও পুষ্টি সঞ্চয়, রক্তের উপাদান নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য তৈরিতে এর ভূমিকা আছে।

যকৃতের কোষ পিত্তরস তৈরি করে। এই ক্ষারীয় রস যকৃতের নিচের পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজনে ডিওডেনামে যায়। এতে পানি, পিত্তলবণ, পিত্তরঞ্জক, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ থাকে। পিত্তরসে এনজাইম নেই; এটি স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় ভাগ করে লাইপেজের কাজ সহজ করে। পাকস্থলী থেকে আসা খাদ্যের অম্লভাব প্রশমনেও সাহায্য করে।

যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। খাবারের পর অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয় করে। রক্তে গ্লুকোজ কমলে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছু অংশ আবার গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে মেশে। ফলে প্রয়োজনের সময় সঞ্চিত শর্করা কাজে লাগানো যায়।

ধরো, দুপুরে ভাত খাওয়ার পর শ্বেতসার পরিপাকে গ্লুকোজ তৈরি হলো। শোষিত গ্লুকোজের একটি অংশ যকৃতে সঞ্চিত হতে পারে। পরে দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তের গ্লুকোজ কমলে সেই সঞ্চয় থেকে গ্লুকোজ সরবরাহ হতে পারে। এভাবেই খাদ্য গ্রহণের বিরতি সত্ত্বেও সরবরাহ বজায় রাখতে যকৃত সাহায্য করে।

অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডের পরিবর্তনেও যকৃত অংশ নেয়। এদের নাইট্রোজেনযুক্ত অংশ থেকে তৈরি বিষাক্ত অ্যামোনিয়াকে কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত করা হয়। ইউরিয়া রক্তে পরিবাহিত হয়ে বৃক্কে পৌঁছায় এবং মূত্রের সঙ্গে বের হয়। তাই ইউরিয়া তৈরি করা ও মূত্র ত্যাগ করা আলাদা অঙ্গের কাজ।

সাধারণ ভুল হলো পিত্তথলি পিত্তরস তৈরি করে ভাবা। পিত্ত তৈরি করে যকৃত; পিত্তথলি মূলত তা জমা রাখে। আবার যকৃত ক্ষতিকর পদার্থ পরিবর্তন করতে পারে বলে সব বিষ নিরাপদ করে দেয়, এমন ধারণাও ভুল।

মনে রাখো: যকৃত পিত্ত তৈরি, পুষ্টি সঞ্চয়, গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় অঙ্গ।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ইলিশের চর্বি ও পিত্তরসের ইমালসিফিকেশনচালিয়ে দেখো

    দুপুরে ভাজা ইলিশ মাছ খাওয়ার পর পরিপাকনালিতে চর্বির একটি বড় ফোঁটা এসে পৌঁছাল। ফোঁটাটিকে ৬ cm বাহুবিশিষ্ট একটি ঘনক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, যার পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ২১৬ cm²। যকৃতের পিত্তরস চর্বির এই ফোঁটাটিকে ভেঙে প্রতি ধারের খণ্ড সংখ্যা ১০ করে মোট ১,০০০টি সমান অতি ক্ষুদ্র ড্রপলেটে পরিণত করল (ইমালসিফিকেশন)। সবগুলো ড্রপলেটের সম্মিলিত মোট পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ পৌষ্টিক গ্রন্থি যা পিত্তরস (bile) তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা রাখে। স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাকে পিত্তরসের প্রধান ক্রিয়া ও ভূমিকা সম্পর্কে নিচের কোন উক্তিটি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক?

    1. ক

      পিত্তরসে কোনো পরিপাককারী উৎসেচক (enzyme) থাকে না; এটি কেবল চর্বির বড় কণাগুলোকে ভেঙে ক্ষুদ্র সাবানের ফেনার মতো ফোঁটায় পরিণত করে ইমালসিফিকেশন (emulsification) ঘটায়

    2. খ

      পিত্তরসে বিদ্যমান শক্তিশালী গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ চর্বিকে সরাসরি আর্দ্রবিশ্লেষিত করে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে

    3. গ

      পিত্তরস অত্যন্ত অম্লীয় তরল হওয়ায় এটি পাকস্থলীর পেপসিন উৎসেচকের মতো অ্যাসিডিক পরিবেশে চর্বি হজমে সহায়তা করে

    4. ঘ

      পিত্তরসের পিত্তলবণ কেবল শর্করা ও আমিষকে ভেঙে গ্লুকোজ ও অ্যামাইনো অ্যাসিডে রূপান্তর করতে সাহায্য করে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) পিত্তরসে কোনো পরিপাককারী উৎসেচক (enzyme) থাকে না; এটি কেবল চর্বির বড় কণাগুলোকে ভেঙে ক্ষুদ্র সাবানের ফেনার মতো ফোঁটায় পরিণত করে ইমালসিফিকেশন (emulsification) ঘটায়

    1. যকৃতের হেপাটোসাইট কোষে পিত্তরস প্রস্তুত হয় এবং পিত্তথলিতে ঘনীভূত হয়ে জমা থাকে। পিত্তরসে পিত্তলবণ (সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট ও সোডিয়াম টরোকোলেট), পানি, কোলেস্টেরল ও পিত্তরঞ্জক থাকে কিন্তু এতে কোনো পাচক বা পরিপাককারী এনজাইম থাকে না।
    2. পিত্তলবণ চর্বির পৃষ্ঠটান হ্রাস করে বড় চর্বি পিণ্ডগুলোকে অতি ক্ষুদ্র ফোঁটায় পরিণত করে, যাকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) বলে। এর ফলে পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে অগ্ন্যাশয়ের লাইপেজ এনজাইমের পক্ষে চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভাঙতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো