পড়ার নোট
নিঃসরণ বা মলত্যাগ বলতে খাদ্য গ্রহণের পর অপাচ্য ও অশোষিত অবশিষ্টাংশ মল হিসেবে পায়ু দিয়ে বের করে দেওয়া বোঝায়। সব খাদ্য উপাদান দেহের ভেতরে একইভাবে ব্যবহৃত হয় না। পরিপাক ও শোষণ শেষে যে অংশ পৌষ্টিকনালিতে থেকে যায়, তা অপসারণ করা প্রয়োজন। এটি খাদ্যের যাত্রার শেষ ধাপ।
ক্ষুদ্রান্ত্রে অধিকাংশ পরিপাক ও পুষ্টি শোষণ শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট মণ্ড বৃহদন্ত্রের দিকে যায়। এর মধ্যে অপাচ্য আঁশ, পানি, কিছু লবণ এবং অন্যান্য অবশিষ্ট পদার্থ থাকে। বৃহদন্ত্র এই পুরো মণ্ডকে সরাসরি বাইরে পাঠায় না। আগে পানি ও লবণের একটি অংশ পুনঃশোষিত হয়।
পানি কমে যাওয়ায় অবশিষ্টাংশ ক্রমে ঘন হয়ে মল তৈরি করে। অর্থাৎ মল তৈরি শুধু খাদ্য আটকে থাকার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে পানি শোষণ ও অন্ত্রের চলন জড়িত। বৃহদন্ত্রে নতুন করে পরিপাককারী এনজাইমের সাহায্যে প্রধান খাদ্য উপাদানের পরিপাক হয় না।
বৃহদন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া কিছু অপাচ্য পদার্থের গাঁজন ও পচনে অংশ নেয়। এতে গ্যাস উৎপন্ন হয় এবং মলের দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। মলে অপাচ্য খাদ্যের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া, কিছু লবণ এবং পিত্তরঞ্জকও থাকে। তাই মলকে শুধু না-হজম হওয়া ভাত বা সবজি ভাবা ঠিক নয়।
মল মলাশয়ে সাময়িকভাবে জমা থাকে। পরে অন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট পেশির সমন্বিত চলনে তা পায়ু দিয়ে বের হয়। মলাশয় মল সঞ্চয়ের অংশ, আর পায়ু বাইরে বের হওয়ার ছিদ্র। এই দুটি গঠনকে একই অঙ্গ হিসেবে লেখা একটি সাধারণ ভুল।
প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও পূর্ণ শস্যের আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন, শুধু মিহি খাবার না খেয়ে লাল আটার রুটি ও শাকসবজি খেলে আঁশ পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত মলত্যাগের অভ্যাস মল বের হওয়া সহজ রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত শক্ত মল ও মলত্যাগে অসুবিধা কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো মলত্যাগকে রেচনের সমার্থক ধরা। মলত্যাগের প্রধান কাজ পৌষ্টিকনালির অপাচ্য অবশিষ্টাংশ বের করা। রেচনে কোষের বিপাকে তৈরি বর্জ্য, যেমন ইউরিয়া, দেহ থেকে অপসারিত হয়। দুটি প্রক্রিয়ার উৎস ও প্রধান পথ আলাদা।
মনে রাখো: বৃহদন্ত্রে পানি শোষণের পর অবশিষ্টাংশ মল হয়, মলাশয়ে জমে এবং পায়ু দিয়ে বেরিয়ে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।