পড়ার নোট
আত্তীকরণ হলো পরিপাক ও শোষণের পর খাদ্য উপাদান দেহকোষের প্রোটোপ্লাজমের উপাদানে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া। শুধু খাদ্য খাওয়া বা রক্তে পুষ্টি উপাদান পৌঁছানোতেই দেহের গঠন সম্পূর্ণ হয় না। শোষিত সরল উপাদান থেকে কোষের প্রয়োজনীয় জটিল পদার্থ তৈরি হওয়া দরকার। আত্তীকরণের মাধ্যমে এই নির্মাণকাজ ঘটে।
এটি একটি উপচিতিমূলক প্রক্রিয়া। উপচয় বলতে সরল উপাদান থেকে জটিল পদার্থ গঠন বোঝায়। কোষের প্রোটোপ্লাজমের এনজাইমের সাহায্যে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। ফলে অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলের মতো পরিপাকজাত উপাদান দেহের উপযোগী পদার্থ গঠনে অংশ নেয়।
প্রধান কয়েকটি উদাহরণ হলো:
- অ্যামাইনো এসিড থেকে দেহের নিজস্ব আমিষ তৈরি হয়। এসব আমিষ নতুন কোষ ও টিস্যু গঠন এবং ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের মেরামতে কাজে লাগে। বিভিন্ন এনজাইম ও কিছু হরমোনও আমিষজাতীয়।
- গ্লুকোজ থেকে সঞ্চয়যোগ্য গ্লাইকোজেন তৈরি হতে পারে। যকৃত ও পেশিতে গ্লাইকোজেন জমা থাকে। এতে শোষিত শর্করার একটি অংশ ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য রাখা সম্ভব হয়।
- ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল থেকে দেহের স্নেহজাতীয় পদার্থ গঠিত হয়। সঞ্চিত স্নেহ শক্তির মজুত হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকের নিচের স্নেহ তাপক্ষয় কমাতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের পরিচিত খাবার ভাত, ডাল ও সেদ্ধ ডিম দিয়ে বিষয়টি বোঝা যায়। ডিম বা ডালের আমিষ প্রথমে পরিপাকে ছোট উপাদানে ভাঙে। অ্যামাইনো এসিড অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে পরিবাহিত হয়। কোষে সেগুলো দিয়ে নতুন আমিষ তৈরি হলে তা আত্তীকরণের উদাহরণ। খাওয়া ডিমের আমিষ অবিকৃত অবস্থায় পেশিতে জমে যায় না।
বাড়ন্ত শিক্ষার্থীর নতুন টিস্যু গঠনে এবং সব বয়সের মানুষের ক্ষয়পূরণে এই প্রক্রিয়া জরুরি। পুষ্টি উপাদান দেহের অংশে পরিণত হওয়ায় স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। পরিপাক উপাদান প্রস্তুত করে, শোষণ সেগুলো পরিবহনের পথে আনে এবং আত্তীকরণ দেহ গঠনে ব্যবহার করে।
সাধারণ ভুল হলো আত্তীকরণ ও শ্বসনকে একই প্রক্রিয়া ভাবা। গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি মুক্ত হওয়া শ্বসনের কাজ। পুষ্টি ব্যবহারের সঙ্গে দুটিই সম্পর্কিত হলেও আত্তীকরণের মূল বৈশিষ্ট্য দেহের জটিল উপাদান গঠন।
মনে রাখো: আত্তীকরণে শোষিত সরল খাদ্য দেহের নিজস্ব উপাদানে পরিণত হয়ে বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ ঘটায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।