পড়ার নোট
খাদ্য গ্রহণের নীতিমালা হলো দেহের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত খাবার নির্বাচন, পরিমাণ নির্ধারণ এবং নিয়ম মেনে খাওয়ার নির্দেশনা। সুষম খাদ্য দেহকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি যথাযথ পরিমাণে সরবরাহ করে। এতে রফেজও থাকতে হয় এবং খাবার সহজপাচ্য হওয়া দরকার।
খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু স্বাদ দেখলে চলবে না। বয়স, লিঙ্গ, পেশা, পরিশ্রম, স্বাস্থ্য, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করতে হয়। বেড়ে ওঠা শিশুর দেহ গঠনের চাহিদা আছে; গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়ের বাড়তি খাবার লাগে। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় খাবারের প্রাপ্যতাও পরিকল্পনার অংশ।
প্রতিদিনের অভ্যাসে কয়েকটি নিয়ম অনুসরণ করা যায়:
- নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত প্রধান খাবার খাও; প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝখানে হালকা খাবার রাখো। দীর্ঘ সময় না খেয়ে পরে একবারে অতিরিক্ত খাওয়া এড়াও।
- ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খাও। এতে খাবার ছোট হয়, লালার সঙ্গে মেশে এবং পরিপাকের প্রস্তুতি হয়।
- পছন্দের খাবার হলেও পরিমিত খাও। অতিরিক্ত তেল, মিষ্টি ও লবণযুক্ত খাবার নিয়মিত বেশি খেও না।
- প্রতিদিন টাটকা শাকসবজি ও মৌসুমি ফল রাখো। খাওয়ার আগে ফল পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নাও এবং এক ধরনের ফলের বদলে বৈচিত্র্য রাখো।
- খাবার তৈরি, পরিবেশন ও গ্রহণের সময় হাত, বাসন ও খাবার পরিষ্কার রাখো।
- পর্যাপ্ত পানি পান করো; পান করার পানি ফুটিয়ে নিরাপদ করো। সবার পানির চাহিদা এক নয়, পরিশ্রম ও গরমে তা বদলায়।
সকালে রুটি, ডিম ও সবজি এবং দুপুরে ভাত, ডাল, ছোট মাছ ও শাক একটি পরিচিত পরিকল্পনা। সঙ্গে মৌসুমি ফল রাখা যায়। লাল চাল, লাল আটা, দেশীয় শাক ও ডাল ব্যবহার করে সীমিত খরচেও পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন সম্ভব। টাটকা খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো।
সাধারণ ভুল হলো দামি খাবারই বেশি পুষ্টিকর ভাবা। সমমানের পুষ্টি দেয় এমন সস্তা খাবারও বেছে নেওয়া যায়। নিজের সাত দিনের খাবারের তালিকা লিখে দেখলে কোনো দল নিয়মিত বাদ যাচ্ছে কি না বোঝা সহজ হয়।
মনে রাখো: সুষম খাদ্য, ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ, নিয়মিত সময় ও পরিচ্ছন্নতা—সব মিলিয়েই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।