offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৮

পুষ্টির অভাবজনিত রোগ

পড়ার নোট

দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির কারণে যেসব রোগ হয়, সেগুলোকে পুষ্টির অভাবজনিত রোগ বলে। দীর্ঘদিন শুধু পেট ভরে খাবার খেলেও নির্দিষ্ট উপাদান না পেলে এমন রোগ হতে পারে। কারণ শক্তি পাওয়া এবং সব পুষ্টি উপাদান পাওয়া এক বিষয় নয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ, তাদের কারণ ও লক্ষণ হলো:

  • গয়টার আয়োডিনের ঘাটতির কারণে হতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হওয়ায় গলার সামনে ফোলা দেখা যায়। আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক মাছ আয়োডিনের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে।
  • রাতকানা ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত চোখের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ। কম আলোয় দেখতে অসুবিধা হয়। মলা-ঢেলা মাছ, কলিজা, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, পাকা আম ও সবুজ শাক প্রতিরোধে সহায়ক।
  • রিকেটস প্রধানত ভিটামিন ডি-এর অভাবে হয়। ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে; অভাবে হাড় দুর্বল ও বাঁকা হতে পারে। দুধ, ডিম, মাছের তেল এবং সূর্যালোক থেকে উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্তাল্পতা হলো বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী রক্তে হিমোগ্লোবিন কম থাকা। বাংলাদেশে লৌহের অভাব প্রধান কারণ; ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি-১২-এর অভাবও কারণ হতে পারে। দুর্বলতা, ফ্যাকাসে ভাব, মাথাব্যথা ও বুক ধড়ফড় দেখা দিতে পারে।

রক্তাল্পতা শিশু, প্রজননক্ষম নারী ও গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কলিজা, মাংস, ডিম, ডাল, শাক ও গুড় লৌহ সরবরাহ করে। কৃমি বা রক্তপাতের মতো কারণ থাকলে শুধু খাবার বদলালেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয় না।

বাংলাদেশের পরিবারের খাবারে ভাতের সঙ্গে ডাল, শাক, ছোট মাছ এবং মৌসুমি ফল রাখলে বিভিন্ন উপাদান পাওয়া সহজ হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের নির্দেশে পুষ্টি সম্পূরক বা শিশুদের নির্ধারিত ভিটামিন এ কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া যায়।

সাধারণ ভুল হলো সব দুর্বলতাকে লৌহের অভাব ধরে নিজে ওষুধ খাওয়া। সঠিক কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হয়।

মনে রাখো: বৈচিত্র্যপূর্ণ সুষম খাবার ঘাটতি প্রতিরোধ করে; রোগের লক্ষণ হলে নির্দিষ্ট কারণ অনুযায়ী প্রতিকার দরকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. কুড়িগ্রামের একটি চরাঞ্চলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে নিয়ে আসা হলো। চিকিৎসক দেখলেন শিশুটির হাড়গুলো নরম ও ভঙ্গুর হয়ে গেছে, পায়ের দীর্ঘ অস্থিগুলো দেহের ভার সইতে না পেরে ধনুকের মতো বাইরের দিকে বেঁকে গেছে এবং তার হাঁটুর সন্ধি ও কবজি অস্বাভাবিক স্ফীত। এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে কোন ভিটামিনের অভাবে শিশুটির এই 'রিকেট' (rickets) রোগটি হয়েছে?

    1. ক

      ভিটামিন A

    2. খ

      ভিটামিন C

    3. গ

      ভিটামিন B-কমপ্লেক্স

    4. ঘ

      ভিটামিন D

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) ভিটামিন D

    1. ভিটামিন D অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ এবং অস্থি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুদের খাদ্যে ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামের চরম ঘাটতি হলে অস্থি সুগঠিত হতে পারে না এবং ক্যালসিফিকেশন ব্যাহত হয়ে নরম থাকে।
    2. নরম হাড় দেহের ভার বহন করতে পারে না বলে পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়, যাকে রিকেট (rickets) রোগ বলা হয়। পক্ষান্তরে ভিটামিন A-এর অভাবে রাতকানা ও জেরোপথ্যালমিয়া, ভিটামিন C-এর অভাবে স্কার্ভি ও মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ এবং ভিটামিন B-কমপ্লেক্সের অভাবে বেরিবেরি বা রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো