offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৯

গলগণ্ড

পড়ার নোট

গলগণ্ড বলতে প্রচলিতভাবে গলার থাইরয়েড গ্রন্থির ফোলা বোঝায়। পুষ্টির অভাবজনিত গয়টার আলোচনায় বিশেষভাবে আয়োডিনের ঘাটতিতে এই গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে থাইরয়েড ফুলে যাওয়ার একাধিক কারণ আছে; তাই গলায় ফোলা দেখেই শুধু আয়োডিনের অভাব বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

আয়োডিন হলো থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। থাইরক্সিনসহ এই হরমোনগুলো দেহের বৃদ্ধি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। খাদ্যে আয়োডিন কম থাকলে পর্যাপ্ত হরমোন তৈরিতে বাধা পড়ে। হরমোনের চাহিদা পূরণের উদ্দীপনায় গ্রন্থি বড় হতে পারে এবং গলার সামনে ফোলা দেখা যায়।

সমুদ্র থেকে দূরের কিছু অঞ্চলের মাটিতে আয়োডিন কম থাকে। সেখানে উৎপন্ন খাদ্যেও আয়োডিনের পরিমাণ কম হতে পারে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি অঞ্চলে এ কারণে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত গয়টারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ খাদ্যের পুষ্টিমান কখনো পরিবেশে উপাদানের প্রাপ্যতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

প্রধান দৃশ্যমান লক্ষণ গলার সামনে ফোলা। ফোলা বেশি হলে গলায় চাপ, কথা বলতে অস্বস্তি বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। তবে শুধু ফোলার আকার দেখে রোগের কারণ বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায় না। প্রদাহ বা অন্য সমস্যাতেও থাইরয়েড বড় হতে পারে।

প্রতিরোধে প্রতিদিনের স্বাভাবিক লবণের পরিবর্তে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা সহজ উপায়। সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক শৈবাল আয়োডিনের উৎস; ডিম ও দুধও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। উদাহরণ হিসেবে উত্তরবঙ্গের একটি পরিবার ভাত, ডাল ও তরকারি রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে পরিচিত খাবারের মাধ্যমেই আয়োডিন পাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে।

গলায় ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নির্ণয় করতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী আয়োডিন, হরমোনের চিকিৎসা বা গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। সব ধরনের ফোলার চিকিৎসা একই নয়, এবং প্রতিরোধের খাবার চিকিৎসার বিকল্পও নয়।

সাধারণ ভুল হলো বেশি লবণ খেলেই বেশি উপকার হবে ভাবা। উদ্দেশ্য লবণের পরিমাণ বাড়ানো নয়, স্বাভাবিক পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত লবণ বেছে নেওয়া।

মনে রাখো: আয়োডিনের ঘাটতিজনিত গয়টার প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ কার্যকর, তবে গলার সব ফোলার কারণ আয়োডিনের অভাব নয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো