পড়ার নোট
রাতকানা হলো কম আলোয় বা সন্ধ্যার পর ভালোভাবে দেখতে না পারা। এটি ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত চোখের রোগ জেরোফথালমিয়া-র প্রাথমিক স্তর। দিনের উজ্জ্বল আলোয় মোটামুটি দেখতে পেলেও রোগী অল্প আলোয় জিনিস অস্পষ্ট বা ঝাপসা দেখতে পারে। সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
চোখের রেটিনায় থাকা রড কোষ অল্প আলোয় দেখতে সাহায্য করে। এসব কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন এ প্রয়োজন। ভিটামিনের ঘাটতি হলে রড কোষের কাজ ব্যাহত হয়। ফলে আলো কমলে চোখ যথাযথভাবে দেখতে পারে না। এ জন্য রাতকানা নাম হলেও সমস্যাটি শুধু গভীর রাতে সীমাবদ্ধ নয়।
ধরা যাক, গ্রামের একটি শিশু দিনের আলোয় উঠানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে, কিন্তু সন্ধ্যায় ঘরে ঢুকে পরিচিত জিনিসে ধাক্কা খায়। এমন পরিবর্তন অল্প আলোয় দেখার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাকে অসাবধান বলে বকাঝকা না করে সমস্যাটি খেয়াল করা দরকার।
ভিটামিন এ-এর ঘাটতি চলতে থাকলে চোখ শুষ্ক হওয়া, অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া এবং কর্নিয়া ঘোলাটে হওয়ার মতো গুরুতর পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই প্রাথমিক রাতকানা ও পরবর্তী গুরুতর চোখের ক্ষতিকে একই অবস্থা ভাবা ঠিক নয়। অবহেলিত তীব্র ঘাটতিতে স্থায়ী দৃষ্টিহানিও হতে পারে।
প্রতিরোধে নিয়মিত ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার দরকার। মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, ডিম, দুধ ও মলা-ঢেলা মাছ উপকারী উৎস। সবুজ শাক এবং হলুদ বা কমলা রঙের ফল ও সবজি, যেমন পাকা আম, গাজর ও মিষ্টিকুমড়াও সাহায্য করে। পুঁইশাক, কলমিশাক বা পালংশাক দিয়ে স্থানীয় খাবারেই বৈচিত্র্য আনা যায়। স্তন্যদানকারী মায়ের খাদ্যেও এসব রাখা দরকার।
প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ ও চিকিৎসায় উন্নতি সম্ভব। শিশুদের নির্ধারিত ভিটামিন এ কর্মসূচি অনুসরণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গুরুতর কর্নিয়ার ক্ষতিতে অস্ত্রোপচার বা কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো রাতে কম দেখা স্বাভাবিক ভেবে অপেক্ষা করা অথবা শুধু গাজর খেলেই সব পর্যায় সেরে যাবে ভাবা।
মনে রাখো: অল্প আলোয় দেখতে অসুবিধা ভিটামিন এ-এর ঘাটতির প্রাথমিক সংকেত হতে পারে; দ্রুত ব্যবস্থা চোখের গুরুতর ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।