পড়ার নোট
রিকেট হলো শিশুদের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হওয়ার রোগ, যার প্রধান কারণ ভিটামিন ডি-এর অভাব। এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং দেহের ভার বহন করতে গিয়ে বাঁকা হতে পারে। এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ নয়। তাই রিকেটের কারণ বুঝতে জীবাণুর বদলে শিশুর পুষ্টি ও সূর্যালোক পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।
ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। এই খনিজ উপাদানগুলো দাঁত ও হাড় গঠনের জন্য দরকার। ফলে খাবারে ক্যালসিয়াম থাকলেও ভিটামিন ডি-এর অভাবে তার যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হতে পারে। বাড়ন্ত শিশুর হাড় গঠনের সময় এই ঘাটতির প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়।
রিকেটের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- দুর্বলতা ও হাড়ে ব্যথা।
- বিশেষ করে পায়ের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং হাঁটতে অসুবিধা।
- দেহের স্বাভাবিক কাঠামো ধরে রাখতে অসুবিধা, শীর্ণতা ও বুকের খাঁচার বিকৃতি।
- বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং দাঁত উঠতে দেরি হওয়া।
দুধ, ডিম, মাখন ও মাছের যকৃতের তেল ভিটামিন ডি-এর উৎস। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়; এর সক্রিয় রূপ তৈরির শেষ ধাপ কিডনিতে সম্পন্ন হয়। দিনের অধিকাংশ সময় ঘরের ভেতরে থাকলে বা ত্বকে সূর্যালোক না পৌঁছালে এই সুযোগ কমে যায়।
বাংলাদেশের কোনো শিশু যদি সারাদিন ঘরে থাকে, তবে তার খাবারে ডিম ও দুধ রাখার পাশাপাশি উপযুক্তভাবে সূর্যালোক পাওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার। শিশুর বয়স ও অবস্থার উপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে। লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে হয়।
সাধারণ ভুল: শুধু ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার দিলেই রিকেটের সব সমস্যা দূর হবে মনে করা। ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি-ও প্রয়োজন; আবার কেবল পা বাঁকা দেখেই রোগ নিশ্চিত করা যায় না।
মনে রাখো: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে শিশুদের হাড়ের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।