পড়ার নোট
উদ্ভিদের কোনো অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে যে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়, তাকে অভাবজনিত লক্ষণ বলে। পাতার রং, বৃদ্ধি, মুকুল ও কাণ্ডের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ঘাটতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এসব লক্ষণের কারণ হলো সংশ্লিষ্ট উপাদান ছাড়া উদ্ভিদের নির্দিষ্ট কাজ ঠিকভাবে চলতে না পারা।
ক্লোরোসিস হলো ক্লোরোফিলের ঘাটতিতে পাতার সবুজ রং হারিয়ে হলুদ হওয়া। সবুজ রং কমলে অন্য বর্ণকণার হলুদ রং প্রকাশ পায়। নেক্রোসিস হলো টিস্যু মরে গিয়ে মৃত অঞ্চল তৈরি হওয়া। তাই হলুদ পাতা ও মৃত দাগ একই পরিবর্তন নয়।
- নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোফিল তৈরি ব্যাহত হয়; সাধারণত পুরোনো পাতা আগে হলুদ হয়। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন কমায় পুরো গাছের বৃদ্ধি কমে।
- ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি হতে পারে এবং মৃত অঞ্চল তৈরি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে পড়ে; গাছ খর্বাকার হয়। প্রথম দিকে লক্ষণ স্পষ্ট নাও হতে পারে।
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ, কিনারা ও শিরার মধ্যবর্তী অংশ হলুদ হয়। কিনারা পোড়ার মতো বাদামি হয়, পাতা কুঁকড়ে যায় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যেতে পারে।
- ক্যালসিয়ামের অভাবে কচি পাতা ফ্যাকাসে বা বিকৃত হয়, মূলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় এবং শীর্ষ অংশ মরে যায়। ফুল ফোটার সময় কাণ্ড শুকিয়ে গাছ দুর্বল হতে পারে।
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে প্রধানত পুরোনো পাতার শিরার মধ্যবর্তী অংশে ক্লোরোসিস হয়। ক্লোরোফিল কমায় সালোকসংশ্লেষণও কমে।
- লৌহের অভাবে পাতায় হলুদ ছোপ ও ক্লোরোসিস দেখা দেয়, কখনও পুরো পাতা ফ্যাকাসে হয়ে যায়; কাণ্ড দুর্বল ও খাটো হয়।
- সালফারের অভাবে পাতা ফ্যাকাসে হয়, লালচে বা বেগুনি ছোপ পড়তে পারে। আগা থেকে নিচের দিকে টিস্যু মরে যাওয়াকে ডাইব্যাক বলে।
- বোরনের অভাবে বৃদ্ধিশীল টিস্যু মরে, পাতা বিকৃত ও ভঙ্গুর হয়, ফাটল ধরে এবং ফুলের কুঁড়ি গঠন ব্যাহত হয়।
বাংলাদেশের সবজিখেতে হলুদ পাতা দেখলে কোন পাতায় এবং কোথায় হলুদ হয়েছে, সেটিও দেখা দরকার। সাধারণ ভুল হলো সব ক্লোরোসিসকে নাইট্রোজেনের অভাব ভাবা; অন্য উপাদানের ঘাটতিতেও তা হয়। সঠিক ঘাটতি শনাক্ত করে উপযুক্ত পুষ্টি সরবরাহ করতে হয়।
মনে রাখো: ঘাটতি বুঝতে পাতার রঙের সঙ্গে দাগের অবস্থান, বৃদ্ধির পরিবর্তন ও মুকুলের অবস্থা মিলিয়ে দেখো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।