পড়ার নোট
পুষ্টি বলতে জীবের প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ ও দেহের কাজে ব্যবহার বোঝায়। প্রাণীর ক্ষেত্রে খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও আত্তীকরণের মাধ্যমে এই কাজ হয়। উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির পাশাপাশি পরিবেশ থেকে বিভিন্ন মৌল গ্রহণ করে। তাই পুষ্টি বোঝার সময় জীবের ধরন এবং উপাদানের ভূমিকা দুটোই বিবেচনা করতে হয়।
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য আবশ্যক মৌলগুলোকে অপরিহার্য উপাদান বলে। এগুলো সরাসরি বিপাকীয় কাজে অংশ নেয়। কোনো একটি না থাকলে স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হয় এবং অন্য উপাদান দিয়ে তার অভাব পূরণ করা যায় না। উদ্ভিদের এমন উপাদান ১৬টি; নয়টি বেশি পরিমাণে এবং সাতটি অল্প পরিমাণে লাগে।
কয়েকটি উপাদানের ভূমিকা বুঝলে তাদের অপরিহার্যতার কারণ স্পষ্ট হয়:
- নাইট্রোজেন প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড ও ক্লোরোফিল গঠনে লাগে।
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিলের গাঠনিক অংশ এবং শ্বসনে সাহায্য করে।
- ফসফরাস ডিএনএ, আরএনএ ও এটিপির অংশ; মূলের বৃদ্ধি ও লম্বা হওয়ার জন্যও প্রয়োজন।
- পটাশিয়াম পানি শোষণ, পত্ররন্ধ্রের খোলা-বন্ধ এবং কোষ বিভাজনে সাহায্য করে।
- লৌহ সাইটোক্রোমের অংশ হিসেবে সবাত শ্বসনে এবং ক্লোরোফিল তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
অল্প প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোরও নির্দিষ্ট কাজ আছে। ম্যাঙ্গানিজ ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে, তামা শ্বসনে এবং বোরন বৃদ্ধিশীল অংশ ও শর্করা পরিবহনে সাহায্য করে। মলিবডেনাম অণুজীবের নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য প্রয়োজন।
প্রাণীর পুষ্টিতে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি প্রধান। রফেজ পুষ্টি উপাদান না হলেও মলত্যাগে সাহায্য করে। শর্করা ও আমিষ প্রতি গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি এবং স্নেহ ৯ কিলোক্যালরি শক্তি দেয়; ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি শক্তি দেয় না।
উদাহরণ হিসেবে ৫ গ্রাম বিশুদ্ধ শর্করার শক্তি প্রথমে কিলোক্যালরি, পরে কিলোজুল। এখানে ৫ গ্রাম শর্করার ভর; ভরের এসআই একক কিলোগ্রাম এবং শক্তির এসআই একক জুল।
ধানখেতে নাইট্রোজেনের জন্য ইউরিয়া, ফসফরাসের জন্য টিএসপি ও পটাশিয়ামের জন্য পটাশ সার দেওয়া হয়। সাধারণ ভুল হলো এক ধরনের সার দিয়েই সব ঘাটতি পূরণ হবে ভাবা।
মনে রাখো: অপরিহার্য উপাদানের প্রত্যেকটির নিজস্ব কাজ আছে; একটি দিয়ে অন্যটির অভাব পূরণ হয় না।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।