offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ২৫

গলাধঃকরণ

পড়ার নোট

খাদ্য গ্রহণ হলো মুখ দিয়ে দেহে খাদ্য নেওয়া। এর পর চিবানো খাদ্য গিলে ভেতরের দিকে পাঠানোর প্রক্রিয়া হলো গলাধঃকরণ। দুটি ঘটনা পরস্পর সম্পর্কিত, তবে একই অর্থে ব্যবহার করা ঠিক নয়। মুখে খাবার তোলা থেকে পাকস্থলীতে পৌঁছানো পর্যন্ত কয়েকটি অঙ্গ সমন্বিতভাবে কাজ করে।

ভাত ও ডাল খাওয়ার কথা ভাবো। মুখে নেওয়া ভাত প্রথমে দাঁতের সাহায্যে ছোট হয়। দাঁত দিয়ে কাটা, ছেঁড়া ও পেষার ফলে বড় খাদ্যখণ্ড ছোট ছোট টুকরোতে পরিণত হয়। জিহ্বা খাদ্যকে দাঁতের কাছে সরিয়ে দেয় এবং লালার সঙ্গে মেশাতে সাহায্য করে। তাই চিবানো শুধু খাবারের আকার কমানো নয়, তাকে গেলার উপযোগী করারও প্রস্তুতি।

লালাগ্রন্থি থেকে বের হওয়া লালা খাদ্য ভেজায়। লালার মিউসিন খাদ্যকে পিচ্ছিল করতে সাহায্য করে, ফলে গিলে নেওয়া সহজ হয়। চিবানো ও লালায় মেশানো খাদ্য একটি নরম পিণ্ড তৈরি করে। শুকনো মুড়ি মুখে নিয়ে চিবালে লালা মিশে তা গেলার উপযোগী হওয়া এই কাজের পরিচিত উদাহরণ।

গলাধঃকরণের ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে বোঝা যায়:

  • জিহ্বা নরম খাদ্যপিণ্ডকে মুখগহ্বরের পেছনে গলবিলের দিকে ঠেলে দেয়।
  • গলবিল থেকে খাদ্য গ্রাসনালিতে প্রবেশ করে।
  • গ্রাসনালির পেশির চলনে খাদ্য পাকস্থলীর দিকে এগোয় এবং শেষে সেখানে পৌঁছায়।

পেরিস্টালসিস হলো পৌষ্টিকনালির পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণে খাদ্য সামনের দিকে সরে যাওয়া। এটি ঢেউয়ের মতো অগ্রসর হয়। তাই খাদ্য কেবল নিজের ওজনে নিচে পড়ে পাকস্থলীতে যায়, এমন ধারণা ভুল। পেশির সক্রিয় চলন খাদ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে নরম খাদ্যপিণ্ড তৈরি সহজ হয়। তাড়াহুড়ো করে বড় টুকরো গিললে গলাধঃকরণে অসুবিধা হতে পারে।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো গ্রাসনালিতে খাদ্য পরিপাক হয় ভাবা। এখানে খাদ্য পরিবাহিত হয়; তবে মুখে চিবানোর সময়ই লালার সাহায্যে শ্বেতসারের পরিপাক শুরু হতে পারে।

মনে রাখো: গলাধঃকরণ খাদ্যকে ভেতরে পাঠায়, আর পেরিস্টালসিস গ্রাসনালি দিয়ে তাকে পাকস্থলীতে এগিয়ে নেয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো