offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ২৬

খাদ্য পরিপাক

পড়ার নোট

পরিপাক হলো জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্যকে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। ভাতের শ্বেতসার বা মাছের আমিষ সরাসরি একই অবস্থায় কোষে ব্যবহারযোগ্য হয় না। পরিপাক তাদের ছোট উপাদানে ভাঙে। তবে পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিনের মতো উপাদানকে একইভাবে ভাঙতে হয় না।

যান্ত্রিক পরিবর্তন

যান্ত্রিক পরিপাক খাদ্যের বড় টুকরোকে ছোট করা এবং রসের সঙ্গে মেশানো। মুখে দাঁত খাদ্য কাটে ও পেষে; জিহ্বা নাড়াচাড়া করে। পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশির চলন খাদ্যকে আরও মিশিয়ে মণ্ডের মতো করে। এতে পরিপাকরসের সঙ্গে খাদ্যের সংযোগ বাড়ে, কিন্তু শুধু চিবালেই আমিষ অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয় না।

ভাত ও মাছ খাওয়ার সময় ভালোভাবে চিবানো তাই পরবর্তী রাসায়নিক পরিবর্তনকে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে খাদ্য রসের সঙ্গে মিশে যে অর্ধতরল মণ্ড তৈরি করে, তাকে কাইম বলে। এই মণ্ড ধীরে ধীরে ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়।

রাসায়নিক পরিবর্তন

এনজাইম বা উৎসেচক হলো জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিতকারী বিশেষ প্রোটিন। পরিপাকের বিভিন্ন এনজাইম নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদানের ওপর কাজ করে। সব এনজাইমের কাজ বা কাজের উপযোগী পরিবেশ এক নয়।

  • মুখে লালার টায়ালিন বা স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মল্টোজে ভাঙতে শুরু করে। এখানে আমিষ ও স্নেহের উল্লেখযোগ্য পরিপাক হয় না। গ্রাসনালি খাদ্য বহন করে।
  • পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যবাহিত জীবাণু ধ্বংসে সাহায্য করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিবর্তন করে। পেপসিন আম্লিক পরিবেশে আমিষকে পলিপেপটাইডে ভাঙে।
  • ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়রস আসে। পিত্তরস অম্লভাব প্রশমনে সাহায্য করে এবং স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় ভাগ করে। এতে লাইপেজ সহজে কাজ করে স্নেহকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে।
  • অগ্ন্যাশয়ের ট্রিপসিন আংশিক পরিপাক হওয়া আমিষের ওপর কাজ করে। অ্যামাইলেজ শ্বেতসার পরিপাকে সাহায্য করে। আন্ত্রিক রসের মল্টেজ, ল্যাক্টেজ ও সুক্রেজ বিভিন্ন শর্করার পরিপাক সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।

পরিপাকের ফলে গ্লুকোজসহ সরল শর্করা, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল পাওয়া যায়। এগুলো শোষিত হতে পারে। বৃহদন্ত্র প্রধানত পানি ও লবণ শোষণ করে।

সাধারণ ভুল হলো পিত্তরসকে এনজাইম বলা বা লালার অ্যামাইলেজ সরাসরি সব শ্বেতসারকে গ্লুকোজ করে ভাবা। পিত্তে এনজাইম নেই; মুখে মল্টোজ তৈরির মাধ্যমে শ্বেতসার পরিপাক শুরু হয়।

মনে রাখো: পরিপাক খাদ্যকে শোষণযোগ্য করে; যান্ত্রিক পরিবর্তন ও এনজাইমের রাসায়নিক কাজ এতে পরস্পরকে সাহায্য করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ভাত, ডাল ও মাছের পরিপাক যাত্রাচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল দুপুরে গরম ভাত, মসুর ডাল ও রুই মাছ ভাজা দিয়ে খাবার খেল। ভাত হলো শ্বেতসার (শর্করা), মসুর ডাল হলো উদ্ভিজ্জ আমিষ এবং রুই মাছ হলো প্রাণিজ আমিষ। মুখে খাবার নেওয়ার পর দাঁত খাবারকে চিবিয়ে পিষে ফেলে এবং লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের টায়ালিন এনজাইম ভাতের সেদ্ধ শ্বেতসারকে ভেঙে মল্টোজে পরিণত করতে শুরু করে। কিন্তু রাতুলের খাওয়া ডাল ও মাছের আমিষের (protein) রাসায়নিক পরিপাক পৌষ্টিকনালির কোন অংশে প্রথম শুরু হয়?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দুপুরের খাবারে পদ্মার ইলিশ মাছ খাওয়ার পর মাছের আমিষের (protein) রাসায়নিক পরিপাক পাকস্থলীতে শুরু হয়। পাকস্থলীর অম্লীয় গ্যাস্ট্রিক রসে কোন সক্রিয় প্রোটিওলাইটিক উৎসেচকটি (enzyme) মাছের জটিল আমিষকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে?

    1. ক

      টায়ালিন (Ptyalin)

    2. খ

      পেপসিন (Pepsin)

    3. গ

      ট্রিপসিন (Trypsin)

    4. ঘ

      লাইপেজ (Lipase)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) পেপসিন (Pepsin)

    1. পাকস্থলীর অন্তর্গাত্রের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক রসে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন থাকে। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের অম্লীয় উপস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিন (pepsin) উৎসেচকে রূপান্তরিত হয়।
    2. সক্রিয় পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে (pH ১.৫–২.৫) ইলিশ মাছের জটিল প্রোটিনকে হাইড্রোলাইসিস করে সরলতর পেপটাইড খণ্ড—প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। টায়ালিন কেবল মুখে সেদ্ধ শ্বেতসার পরিপাক করে, ট্রিপসিন ক্ষারীয় ডিওডেনামে কাজ করে এবং লাইপেজ স্নেহপদার্থ ভাঙে।
  2. মুখবিবরে শর্করাজাতীয় খাবারের রাসায়নিক পরিপাক শুরু হলেও আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবারের কোনো রাসায়নিক পরিপাক হয় না কেন? এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মানুষের লালারসে কেবল শ্বেতসার পরিপাককারী টায়ালিন (টায়ালিন বা লালা অ্যামাইলেজ) নামক এনজাইম থাকে যা সেদ্ধ শ্বেতসারকে মল্টোজে ভেঙে রাসায়নিক পরিপাক শুরু করে। লালারসে আমিষ বা স্নেহ পরিপাকের জন্য কোনো প্রোটিওলাইটিক বা লাইপোলাইটিক এনজাইম থাকে না। তাছাড়া মুখবিবরে খাদ্যের অবস্থানকাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় উপযুক্ত এনজাইমের অভাবে আমিষ ও চর্বি কেবল দাঁতের সাহায্যে চর্বিত হয়ে যান্ত্রিকভাবে চূর্ণ হয় কিন্তু কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না।

    1. লালারসের এনজাইমগত বৈশিষ্ট্য: লালারসে কেবল কার্বোহাইড্রেট বিশ্লিষ্টকারী টায়ালিন ও মল্টেজ উপস্থিত থাকে; এতে কোনো পেপসিন বা ট্রিপসিনের মতো প্রোটিয়েজ অথবা লাইপেজের মতো স্নেহ পরিপাককারী এনজাইম থাকে না।
    2. কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা: এনজাইমের নির্দিষ্টতা (specificity) এবং মুখে খাদ্যের ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের কারণে আমিষ ও স্নেহ মুখে অবিকৃত অবস্থায় অন্ননালি হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো