পড়ার নোট
পরিপাক হলো জটিল, অদ্রবণীয় ও অশোষণযোগ্য খাদ্যকে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। ভাতের শ্বেতসার বা মাছের আমিষ সরাসরি একই অবস্থায় কোষে ব্যবহারযোগ্য হয় না। পরিপাক তাদের ছোট উপাদানে ভাঙে। তবে পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিনের মতো উপাদানকে একইভাবে ভাঙতে হয় না।
যান্ত্রিক পরিবর্তন
যান্ত্রিক পরিপাক খাদ্যের বড় টুকরোকে ছোট করা এবং রসের সঙ্গে মেশানো। মুখে দাঁত খাদ্য কাটে ও পেষে; জিহ্বা নাড়াচাড়া করে। পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশির চলন খাদ্যকে আরও মিশিয়ে মণ্ডের মতো করে। এতে পরিপাকরসের সঙ্গে খাদ্যের সংযোগ বাড়ে, কিন্তু শুধু চিবালেই আমিষ অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয় না।
ভাত ও মাছ খাওয়ার সময় ভালোভাবে চিবানো তাই পরবর্তী রাসায়নিক পরিবর্তনকে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে খাদ্য রসের সঙ্গে মিশে যে অর্ধতরল মণ্ড তৈরি করে, তাকে কাইম বলে। এই মণ্ড ধীরে ধীরে ক্ষুদ্রান্ত্রে যায়।
রাসায়নিক পরিবর্তন
এনজাইম বা উৎসেচক হলো জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিতকারী বিশেষ প্রোটিন। পরিপাকের বিভিন্ন এনজাইম নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদানের ওপর কাজ করে। সব এনজাইমের কাজ বা কাজের উপযোগী পরিবেশ এক নয়।
- মুখে লালার টায়ালিন বা স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মল্টোজে ভাঙতে শুরু করে। এখানে আমিষ ও স্নেহের উল্লেখযোগ্য পরিপাক হয় না। গ্রাসনালি খাদ্য বহন করে।
- পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যবাহিত জীবাণু ধ্বংসে সাহায্য করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিবর্তন করে। পেপসিন আম্লিক পরিবেশে আমিষকে পলিপেপটাইডে ভাঙে।
- ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়রস আসে। পিত্তরস অম্লভাব প্রশমনে সাহায্য করে এবং স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় ভাগ করে। এতে লাইপেজ সহজে কাজ করে স্নেহকে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে।
- অগ্ন্যাশয়ের ট্রিপসিন আংশিক পরিপাক হওয়া আমিষের ওপর কাজ করে। অ্যামাইলেজ শ্বেতসার পরিপাকে সাহায্য করে। আন্ত্রিক রসের মল্টেজ, ল্যাক্টেজ ও সুক্রেজ বিভিন্ন শর্করার পরিপাক সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।
পরিপাকের ফলে গ্লুকোজসহ সরল শর্করা, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল পাওয়া যায়। এগুলো শোষিত হতে পারে। বৃহদন্ত্র প্রধানত পানি ও লবণ শোষণ করে।
সাধারণ ভুল হলো পিত্তরসকে এনজাইম বলা বা লালার অ্যামাইলেজ সরাসরি সব শ্বেতসারকে গ্লুকোজ করে ভাবা। পিত্তে এনজাইম নেই; মুখে মল্টোজ তৈরির মাধ্যমে শ্বেতসার পরিপাক শুরু হয়।
মনে রাখো: পরিপাক খাদ্যকে শোষণযোগ্য করে; যান্ত্রিক পরিবর্তন ও এনজাইমের রাসায়নিক কাজ এতে পরস্পরকে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।