offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫

ভাত, ডাল ও মাছের পরিপাক যাত্রা

মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল দুপুরে গরম ভাত, মসুর ডাল ও রুই মাছ ভাজা দিয়ে খাবার খেল। ভাত হলো শ্বেতসার (শর্করা), মসুর ডাল হলো উদ্ভিজ্জ আমিষ এবং রুই মাছ হলো প্রাণিজ আমিষ। মুখে খাবার নেওয়ার পর দাঁত খাবারকে চিবিয়ে পিষে ফেলে এবং লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের টায়ালিন এনজাইম ভাতের সেদ্ধ শ্বেতসারকে ভেঙে মল্টোজে পরিণত করতে শুরু করে। কিন্তু রাতুলের খাওয়া ডাল ও মাছের আমিষের (protein) রাসায়নিক পরিপাক পৌষ্টিকনালির কোন অংশে প্রথম শুরু হয়?

ডাল ও মাছের আমিষ (protein) পরিপাক পৌষ্টিকতন্ত্রের কোন অংশে প্রথম শুরু হয়?

  1. মুখবিবরে — দাঁতে চর্বণ ও লালারসের এনজাইমের মাধ্যমেই সব ধরনের খাবারের পরিপাক শুরু হয়
  2. পাকস্থলীতে — গ্যাস্ট্রিক রসের পেপসিন এনজাইম দ্বারা আমিষ ভেঙে পেপটোনে পরিণত হয়
  3. ক্ষুদ্রান্ত্রে — পাকস্থলী কেবল খাবার জমা রাখে ও অ্যাসিড জীবাণু মারে, পরিপাক শুরু হয় অন্ত্রে

যা বদলাতে পারবে

  • পরিপাকের ধাপ: ১ থেকে ৫

যা মেপে দেখাবে

  • বর্তমান ধাপ
  • মোট ধাপ
  • পরিপাক অগ্রগতি (%)

চালানোর সময় খেয়াল করো

  • ধাপগুলো এগিয়ে ৩ নম্বর ধাপে যাও। পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক রসে থাকা পেপসিন এনজাইম কীভাবে ডাল ও মাছের আমিষের ওপর কাজ করে লক্ষ করো।

নিজে করে দেখো

  1. কোন অঙ্গে পিত্তরস আর অগ্ন্যাশয় রস একসাথে কাজ করে? সেই ধাপে যাও।
    ইঙ্গিত

    পাকস্থলীর ঠিক পরের অংশটি দেখো।

ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।

পৌষ্টিকতন্ত্রে আমিষ পরিপাক: পাকস্থলীতে পেপসিনের ভূমিকা

খাদ্যের তিনটি প্রধান উপাদানের পরিপাক পৌষ্টিকনালির বিভিন্ন অংশে নির্দিষ্ট এনজাইমের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ঘটে। মুখবিবরের লালারসে কেবল শ্বেতসার পরিপাককারী টায়ালিন ও মল্টেজ থাকে, যা ভাতের শ্বেতসার ভেঙে মল্টোজ তৈরি করে; কিন্তু লালায় কোনো আমিষ পরিপাককারী এনজাইম (proteolytic enzyme) না থাকায় ডাল ও মাছের আমিষ এখানে অক্ষত থাকে। খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছালে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) পরিবেশকে অম্লীয় করে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তর করে। এই সক্রিয় পেপসিন এনজাইমই সর্বপ্রথম জটিল আমিষকে ভেঙে পেপটোনে পরিণত করে, যা আমিষ পরিপাকের সূচনা। পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে অগ্ন্যাশয় রসের ট্রিপসিন পেপটনকে সরল পেপটাইডে পরিণত করে এবং সবশেষে ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের পেপটাইডেজ (ইরেপসিন) পেপটাইডকে ভেঙে রক্তে শোষণযোগ্য একক অ্যামাইনো অ্যাসিডে রূপান্তর করে।

অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল

অনেকেরই ভুল ধারণা থাকে যে মুখে খাবার চর্বণের সময়ই সব ধরনের খাদ্য পরিপাক হতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে লালারসে আমিষ বা স্নেহ পরিপাকের কোনো এনজাইমই থাকে না—লালা কেবল শ্বেতসার ভাঙে। আবার পাকস্থলী শুধুই খাদ্য জমা রাখা বা অ্যাসিড দিয়ে জীবাণু ধ্বংসের থলি নয়; অম্লীয় পরিবেশে সক্রিয় পেপসিন এনজাইমের ক্রিয়ায় এখানেই মানবদেহে আমিষ পরিপাকের প্রথম সূচনা ঘটে। ক্ষুদ্রান্ত্রে আমিষ পরিপাক শুরু হয় না, বরং পাকস্থলীতে শুরু হওয়া আমিষ পরিপাক ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনাম ও ইলিয়ামে এসে ট্রিপসিন ও পেপটাইডেজের সাহায্যে সমাপ্ত হয়।

যেসব ভুল ধারণা হয়

  • মুখগহ্বরে লালারসের মাধ্যমে আমিষ, শর্করা ও স্নেহ সব ধরনের উপাদানেরই পরিপাক শুরু হয়
  • পাকস্থলী কেবল খাদ্য জমা রাখে এবং অ্যাসিড দিয়ে জীবাণু ধ্বংস করে, সেখানে কোনো রাসায়নিক পরিপাক হয় না

বাস্তবে কোথায় দেখা যায়

  • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার গ্রহণের কারণে বাংলাদেশে অনেকের পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড জমে বুকজ্বালা ও গ্যাস্ট্রিক আলসার হয়। চিকিৎসকরা ক্ষারীয় অ্যান্টাসিড (অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড) দিয়ে অতিরিক্ত HCl প্রশমিত করেন, যা পাকস্থলীর প্রাচীরকে পেপসিনজনিত স্ব-পরিপাকের (self-digestion) ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
  • বাংলাদেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও আমিষের ঘাটতিজনিত রোগ (যেমন কোয়াশিওরকর বা kwashiorkor এবং ম্যারাসমাস বা marasmus) দূর করতে সহজলভ্য চাল, মসুর ডাল ও ছোট মাছের সুষম খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়। রান্নার তাপে আমিষ নরম হলে পাকস্থলীর পেপসিন ও অন্ত্রের এনজাইম সহজে কাজ করে দ্রুত অ্যামাইনো অ্যাসিড রক্তে সরবরাহ করতে পারে।

পাঠ্যবইয়ের টপিক