offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ২৪

মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রের প্রধান অংশ ও সহায়তাকারী অঙ্গ এবং এর কাজ

পড়ার নোট

পৌষ্টিকতন্ত্র খাদ্যকে সরল ও শোষণযোগ্য করে এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে। এটি পৌষ্টিকনালি ও পরিপাকগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। ভাত, মাছ ও শাকসবজির একটি খাবার গ্রহণ করলে বিভিন্ন অঙ্গ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে; কোনো একটি অঙ্গ একা পুরো কাজটি করে না।

পৌষ্টিকনালির প্রধান অংশ

পৌষ্টিকনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত খাদ্য চলাচলের পথ। এর সব অংশ সমান চওড়া নয়; অংশভেদে গঠন ও কাজ আলাদা।

  • মুখ ও মুখগহ্বর: মুখ দিয়ে খাদ্য ঢোকে। দাঁত খাদ্য কাটে, ছেঁড়ে ও পেষে। জিহ্বা স্বাদ গ্রহণ করে এবং খাদ্য নাড়িয়ে লালার সঙ্গে মেশায়। লালা খাদ্য পিচ্ছিল করে এবং শ্বেতসারের পরিপাক শুরু করে।
  • গলবিল ও গ্রাসনালি: গলবিল থেকে খাদ্য গ্রাসনালিতে যায়। পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণে খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছায়। গ্রাসনালিতে খাদ্যের পরিপাক হয় না।
  • পাকস্থলী: পুরু পেশিবহুল থলির মতো অঙ্গ। খাদ্য সাময়িকভাবে থাকে এবং গ্যাস্ট্রিক রসের সঙ্গে মিশে অর্ধতরল হয়। এখানে আমিষের পরিপাক শুরু হয়।
  • ক্ষুদ্রান্ত্র: ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম নিয়ে গঠিত। ডিওডেনামে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়রস আসে। এখানে পরিপাক সম্পূর্ণ হয় এবং আঙুলের মতো ভিলাই অধিকাংশ পুষ্টি শোষণ করে।
  • বৃহদন্ত্র: সিকাম, কোলন ও মলাশয় নিয়ে গঠিত। সিকামের সঙ্গে অ্যাপেন্ডিক্স যুক্ত থাকে। পানি ও কিছু লবণ শোষিত হয়, মল তৈরি হয় এবং মলাশয়ে জমা থাকে। পায়ু দিয়ে মল বের হয়।

পরিপাকগ্রন্থি ও সহায়তাকারী অঙ্গ

পরিপাকগ্রন্থি এমন গ্রন্থি, যার ক্ষরণ খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। তিন জোড়া লালাগ্রন্থি কানের কাছে, চোয়ালের নিচে ও জিহ্বার নিচে থাকে। এদের লালা মুখগহ্বরে আসে।

যকৃত পিত্তরস তৈরি করে; পিত্তথলি তা জমা রাখে। পিত্তরস স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে। যকৃত গ্লাইকোজেন সঞ্চয় এবং ক্ষতিকর পদার্থের পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।

অগ্ন্যাশয় ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজযুক্ত রস দেয়। এটি ইনসুলিন ও গ্লুকাগনও ক্ষরণ করে। গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীতে অম্ল ও আমিষ পরিপাককারী রস দেয়; আন্ত্রিকগ্রন্থি ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।

সাধারণ ভুল হলো খাদ্য যকৃত বা অগ্ন্যাশয়ের ভেতর দিয়ে যায় ভাবা। খাদ্য পৌষ্টিকনালিতে থাকে; এসব অঙ্গের রস নালি দিয়ে খাদ্যের কাছে পৌঁছায়।

মনে রাখো: পৌষ্টিকনালি খাদ্যের পথ, আর পরিপাকগ্রন্থির ক্ষরণ সেই পথে খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ভাত, ডাল ও মাছের পরিপাক যাত্রাচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল দুপুরে গরম ভাত, মসুর ডাল ও রুই মাছ ভাজা দিয়ে খাবার খেল। ভাত হলো শ্বেতসার (শর্করা), মসুর ডাল হলো উদ্ভিজ্জ আমিষ এবং রুই মাছ হলো প্রাণিজ আমিষ। মুখে খাবার নেওয়ার পর দাঁত খাবারকে চিবিয়ে পিষে ফেলে এবং লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের টায়ালিন এনজাইম ভাতের সেদ্ধ শ্বেতসারকে ভেঙে মল্টোজে পরিণত করতে শুরু করে। কিন্তু রাতুলের খাওয়া ডাল ও মাছের আমিষের (protein) রাসায়নিক পরিপাক পৌষ্টিকনালির কোন অংশে প্রথম শুরু হয়?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দুপুরের খাবারে পদ্মার ইলিশ মাছ খাওয়ার পর মাছের আমিষের (protein) রাসায়নিক পরিপাক পাকস্থলীতে শুরু হয়। পাকস্থলীর অম্লীয় গ্যাস্ট্রিক রসে কোন সক্রিয় প্রোটিওলাইটিক উৎসেচকটি (enzyme) মাছের জটিল আমিষকে ভেঙে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে?

    1. ক

      টায়ালিন (Ptyalin)

    2. খ

      পেপসিন (Pepsin)

    3. গ

      ট্রিপসিন (Trypsin)

    4. ঘ

      লাইপেজ (Lipase)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) পেপসিন (Pepsin)

    1. পাকস্থলীর অন্তর্গাত্রের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত গ্যাস্ট্রিক রসে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন থাকে। হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের অম্লীয় উপস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন সক্রিয় পেপসিন (pepsin) উৎসেচকে রূপান্তরিত হয়।
    2. সক্রিয় পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে (pH ১.৫–২.৫) ইলিশ মাছের জটিল প্রোটিনকে হাইড্রোলাইসিস করে সরলতর পেপটাইড খণ্ড—প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। টায়ালিন কেবল মুখে সেদ্ধ শ্বেতসার পরিপাক করে, ট্রিপসিন ক্ষারীয় ডিওডেনামে কাজ করে এবং লাইপেজ স্নেহপদার্থ ভাঙে।
  2. মুখবিবরে শর্করাজাতীয় খাবারের রাসায়নিক পরিপাক শুরু হলেও আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাবারের কোনো রাসায়নিক পরিপাক হয় না কেন? এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তকের আলোকে কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মানুষের লালারসে কেবল শ্বেতসার পরিপাককারী টায়ালিন (টায়ালিন বা লালা অ্যামাইলেজ) নামক এনজাইম থাকে যা সেদ্ধ শ্বেতসারকে মল্টোজে ভেঙে রাসায়নিক পরিপাক শুরু করে। লালারসে আমিষ বা স্নেহ পরিপাকের জন্য কোনো প্রোটিওলাইটিক বা লাইপোলাইটিক এনজাইম থাকে না। তাছাড়া মুখবিবরে খাদ্যের অবস্থানকাল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় উপযুক্ত এনজাইমের অভাবে আমিষ ও চর্বি কেবল দাঁতের সাহায্যে চর্বিত হয়ে যান্ত্রিকভাবে চূর্ণ হয় কিন্তু কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না।

    1. লালারসের এনজাইমগত বৈশিষ্ট্য: লালারসে কেবল কার্বোহাইড্রেট বিশ্লিষ্টকারী টায়ালিন ও মল্টেজ উপস্থিত থাকে; এতে কোনো পেপসিন বা ট্রিপসিনের মতো প্রোটিয়েজ অথবা লাইপেজের মতো স্নেহ পরিপাককারী এনজাইম থাকে না।
    2. কার্যকারিতার সীমাবদ্ধতা: এনজাইমের নির্দিষ্টতা (specificity) এবং মুখে খাদ্যের ক্ষণস্থায়ী অবস্থানের কারণে আমিষ ও স্নেহ মুখে অবিকৃত অবস্থায় অন্ননালি হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো