পড়ার নোট
পৌষ্টিকতন্ত্র খাদ্যকে সরল ও শোষণযোগ্য করে এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে সাহায্য করে। এটি পৌষ্টিকনালি ও পরিপাকগ্রন্থি নিয়ে গঠিত। ভাত, মাছ ও শাকসবজির একটি খাবার গ্রহণ করলে বিভিন্ন অঙ্গ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে; কোনো একটি অঙ্গ একা পুরো কাজটি করে না।
পৌষ্টিকনালির প্রধান অংশ
পৌষ্টিকনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত খাদ্য চলাচলের পথ। এর সব অংশ সমান চওড়া নয়; অংশভেদে গঠন ও কাজ আলাদা।
- মুখ ও মুখগহ্বর: মুখ দিয়ে খাদ্য ঢোকে। দাঁত খাদ্য কাটে, ছেঁড়ে ও পেষে। জিহ্বা স্বাদ গ্রহণ করে এবং খাদ্য নাড়িয়ে লালার সঙ্গে মেশায়। লালা খাদ্য পিচ্ছিল করে এবং শ্বেতসারের পরিপাক শুরু করে।
- গলবিল ও গ্রাসনালি: গলবিল থেকে খাদ্য গ্রাসনালিতে যায়। পেশির পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণে খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছায়। গ্রাসনালিতে খাদ্যের পরিপাক হয় না।
- পাকস্থলী: পুরু পেশিবহুল থলির মতো অঙ্গ। খাদ্য সাময়িকভাবে থাকে এবং গ্যাস্ট্রিক রসের সঙ্গে মিশে অর্ধতরল হয়। এখানে আমিষের পরিপাক শুরু হয়।
- ক্ষুদ্রান্ত্র: ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম নিয়ে গঠিত। ডিওডেনামে পিত্তরস ও অগ্ন্যাশয়রস আসে। এখানে পরিপাক সম্পূর্ণ হয় এবং আঙুলের মতো ভিলাই অধিকাংশ পুষ্টি শোষণ করে।
- বৃহদন্ত্র: সিকাম, কোলন ও মলাশয় নিয়ে গঠিত। সিকামের সঙ্গে অ্যাপেন্ডিক্স যুক্ত থাকে। পানি ও কিছু লবণ শোষিত হয়, মল তৈরি হয় এবং মলাশয়ে জমা থাকে। পায়ু দিয়ে মল বের হয়।
পরিপাকগ্রন্থি ও সহায়তাকারী অঙ্গ
পরিপাকগ্রন্থি এমন গ্রন্থি, যার ক্ষরণ খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়। তিন জোড়া লালাগ্রন্থি কানের কাছে, চোয়ালের নিচে ও জিহ্বার নিচে থাকে। এদের লালা মুখগহ্বরে আসে।
যকৃত পিত্তরস তৈরি করে; পিত্তথলি তা জমা রাখে। পিত্তরস স্নেহকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে। যকৃত গ্লাইকোজেন সঞ্চয় এবং ক্ষতিকর পদার্থের পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে।
অগ্ন্যাশয় ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজযুক্ত রস দেয়। এটি ইনসুলিন ও গ্লুকাগনও ক্ষরণ করে। গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীতে অম্ল ও আমিষ পরিপাককারী রস দেয়; আন্ত্রিকগ্রন্থি ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে।
সাধারণ ভুল হলো খাদ্য যকৃত বা অগ্ন্যাশয়ের ভেতর দিয়ে যায় ভাবা। খাদ্য পৌষ্টিকনালিতে থাকে; এসব অঙ্গের রস নালি দিয়ে খাদ্যের কাছে পৌঁছায়।
মনে রাখো: পৌষ্টিকনালি খাদ্যের পথ, আর পরিপাকগ্রন্থির ক্ষরণ সেই পথে খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।