পড়ার নোট
অগ্ন্যাশয় হলো পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গ্রন্থি, যা পরিপাককারী রস ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসরণ করে। একই গ্রন্থি বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা—দুই ধরনের কাজ করলে তাকে মিশ্র গ্রন্থি বলে। অগ্ন্যাশয়ের এই দুটি কাজের নিঃসরণপথ ও উদ্দেশ্য আলাদা।
খাদ্য পরিপাকে কাজ
বহিঃক্ষরা গ্রন্থি নালির মাধ্যমে রস নিঃসরণ করে। অগ্ন্যাশয়ের তৈরি অগ্ন্যাশয়রস হলো এনজাইমসমৃদ্ধ ক্ষারীয় পাচকরস। এর কাজের ধাপগুলো হলো:
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই নালি পিত্তনালির সঙ্গে মিলে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি তৈরি করে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশ ডিওডেনামে খোলে।
- পাকস্থলী থেকে আসা আংশিক পরিপাক হওয়া অম্লীয় খাদ্যমণ্ডের অম্লতা প্রশমনে এই রস সাহায্য করে। ফলে পরিপাককারী এনজাইমের কাজের উপযোগী ক্ষারীয় পরিবেশ তৈরি হয়।
- অ্যামাইলেজ শ্বেতসার ভেঙে অপেক্ষাকৃত সরল শর্করায় পরিণত করে।
- ট্রিপসিন আংশিক পরিপাক হওয়া আমিষ বা পলিপেপটাইডকে ছোট পেপটাইডে ভাঙতে সাহায্য করে। আমিষের পরিপাক সম্পূর্ণ হলে শোষণযোগ্য অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
- লাইপেজ স্নেহজাতীয় খাদ্য ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে।
যেমন, ভাত, মাছ ও তেলযুক্ত খাবার খেলে এসবের শ্বেতসার, আমিষ ও স্নেহ পরিপাকে অগ্ন্যাশয়ের ভিন্ন ভিন্ন এনজাইম কাজ করে। এ ছাড়া অগ্ন্যাশয় দেহের অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা এবং দেহতাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নালি ছাড়াই সরাসরি রক্তে হরমোন নিঃসরণ করে। অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ এভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে:
- ইনসুলিন কোষে গ্লুকোজের ব্যবহার ও গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চয়ে সাহায্য করে রক্তের গ্লুকোজ কমায়।
- গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন থেকে গ্লুকোজ তৈরি ও রক্তে সরবরাহ বাড়িয়ে রক্তের গ্লুকোজ বাড়ায়।
অর্থাৎ পাচকরস খাদ্যের ওপর অন্ত্রে কাজ করে, আর হরমোন রক্তের মাধ্যমে গ্লুকোজের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এই দ্বৈত ভূমিকার কারণেই অগ্ন্যাশয় মিশ্র গ্রন্থি।
মনে রাখো: অগ্ন্যাশয় এনজাইম দিয়ে খাদ্য পরিপাকে এবং ইনসুলিন ও গ্লুকাগন দিয়ে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।