পড়ার নোট
শরীরচর্চা হলো শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার জন্য নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ। বিশ্রাম হলো শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের পর কাজের চাপ থেকে বিরতি নেওয়া, যাতে শরীর ক্লান্তি কাটিয়ে আবার কাজের উপযোগী হয়। শুয়ে থাকা ও ঘুমানো বিশ্রামের অন্তর্ভুক্ত। সুস্থ জীবনের জন্য শরীরচর্চা ও বিশ্রাম দুটিই প্রয়োজন।
শরীরচর্চা কেন দরকার
খেলার মাঠের অভাব, অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি, পড়াশোনার চাপ ও দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার কারণে চলাফেরা কমে যেতে পারে। শারীরিক কাজ কম হলে শক্তির ব্যয়ও কমে; এতে অতিরিক্ত মেদ জমা ও স্থূলতার আশঙ্কা বাড়ে। নিয়মিত শরীরচর্চা এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
শরীরচর্চার উপকারগুলো হলো:
- শরীর কাজ করতে শক্তি ব্যয় করে, ফলে অতিরিক্ত ওজন কমানো ও ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
- হাড় ও মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা বজায় থাকে।
- ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- উপযুক্ত খাদ্যের সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে।
দ্রুত হাঁটা, জগিং, দৌড়ানো, সাঁতার, সাইকেল চালানো ও খেলাধুলা শরীরচর্চার উদাহরণ। প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা মাঝারি মাত্রার শারীরিক কাজ এবং পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ একটি ভালো অভ্যাস। শরীরচর্চার জন্য সব সময় বিশেষ যন্ত্রপাতি লাগে না; হাঁটা বা মাঠে খেলাও কার্যকর শারীরিক কাজ।
বিশ্রাম কেন দরকার
শারীরিক পরিশ্রমের মতো মানসিক পরিশ্রমের পরও বিশ্রাম দরকার। কাজের পর বিশ্রাম নিলে দেহের বিভিন্ন অংশ শক্তি ফিরে পায় ও তা সঞ্চয় করে, ফলে আবার কাজের জন্য প্রস্তুত হয়। জীবজগতের প্রায় সব প্রাণীই বিশ্রাম নেয়, আর এই বিশ্রাম দিন-রাতের চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত: অনেক প্রাণী দিনে সক্রিয় থাকে, আবার নিশাচর প্রাণী দিনে বিশ্রাম নিয়ে রাতে খাবারের খোঁজে বের হয়। তাই দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা কিংবা খেলাধুলার পর উপযুক্ত বিশ্রামের সুযোগ রাখতে হবে।
বিশ্রাম মানে দেহের সব কাজ বন্ধ হওয়া নয়। ঘুমের মধ্যেও শ্বাসক্রিয়া ও হৃদপিণ্ডের কাজ চলে, তাই শক্তির প্রয়োজন থাকে। বিশ্রামের সঙ্গে দিন-রাতের চক্রের সম্পর্ক রয়েছে। দৈনন্দিন রুটিনে পড়াশোনা, শরীরচর্চা ও ঘুমের জন্য আলাদা সময় রাখলে এদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
মনে রাখো: নিয়মিত শরীরচর্চা কর্মক্ষমতা বজায় রাখে, আর যথাযথ বিশ্রাম পরিশ্রমের পর সেই কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।