পড়ার নোট
আমাশয় হলো অন্ত্রের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা, যাতে ঘন ঘন মলত্যাগ, পেটব্যথা এবং মলের সঙ্গে আম বা রক্ত যেতে পারে। এটি প্রোটোজোয়া Entamoeba histolytica অথবা Shigella নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। প্রথমটির কারণে অ্যামিবাজনিত এবং দ্বিতীয়টির কারণে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় দেখা দেয়।
দূষিত খাদ্য ও পানির সঙ্গে রোগজীবাণু দেহে প্রবেশ করতে পারে। পায়খানার পরে হাত ভালোভাবে না ধুলে সেই হাত থেকে খাবার ও বাসনে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু পানির বিশুদ্ধতা নয়, হাত, খাদ্য ও ব্যবহৃত পাত্রের পরিচ্ছন্নতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আমাশয়ের প্রধান লক্ষণ হলো বারবার পায়খানার বেগ, পেটে ব্যথা বা মোচড় এবং মলে আম ও রক্ত। কারও জ্বর, বমিভাব বা বমিও হতে পারে। দুধজাতীয় খাদ্য হজমে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন মলত্যাগে পানি ও লবণ কমলে রোগী দুর্বল হয় এবং পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসায় অবহেলা করলে অবস্থা গুরুতর হতে পারে।
প্রতিরোধের জন্য কয়েকটি অভ্যাস দরকার:
- নিরাপদ পানি পান করতে হবে; প্রয়োজনে পানি ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে।
- ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুতে এবং খাবার পরিষ্কার পরিবেশে প্রস্তুত ও পরিবেশন করতে হবে।
- খাবার আগে এবং পায়খানার পরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
- স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার এবং বাসনপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।
- বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
যেমন, বাজার থেকে আনা পেয়ারা না ধুয়ে কাটলে বা অপরিষ্কার হাতে পরিবেশন করলে খাদ্য দূষিত হতে পারে। নিরাপদ পানি দিয়ে ফল ধোয়া এবং পরিষ্কার হাতে পরিবেশন করা এই সংক্রমণপথ বন্ধ করতে সাহায্য করে।
রোগ হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো চিকিৎসা নিতে হয়। পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণে খাবার স্যালাইন দিতে হয়; শিশুর বুকের দুধ বন্ধ করা উচিত নয়। সহনীয় সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। জীবাণুর ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ওষুধ নির্বাচন করেন।
সাধারণ ভুল হলো আমাশয় ও সব ধরনের ডায়রিয়াকে এক মনে করা। রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ার একটি কারণ; তাকে আমাশয়ের প্রধান কারণ বলা ঠিক নয়।
মনে রাখো: মলে আম বা রক্তসহ ঘন ঘন পায়খানা হলে আমাশয়ের আশঙ্কায় চিকিৎসা নিতে হবে এবং পানি-লবণের ঘাটতি পূরণ করতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।