offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৩৮

কোষ্ঠকাঠিন্য

পড়ার নোট

কোষ্ঠকাঠিন্য হলো মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া অথবা স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে অসুবিধা হওয়া। মলত্যাগের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং বেশি চাপ দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে পেট ভার, পেট ফাঁপা বা পেটব্যথাও থাকতে পারে। শুধু এক দিন মলত্যাগ না হওয়ার চেয়ে মলের প্রকৃতি ও মলত্যাগের অসুবিধা বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহদন্ত্র অপাচ্য খাদ্যের অবশিষ্ট অংশ থেকে পানি শোষণ করে। এই অবশিষ্টাংশ থেকে বেশি পানি শোষিত হলে মল শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। খাদ্যে আঁশ কম থাকা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ বা দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনও মলত্যাগের নিয়মে প্রভাব ফেলতে পারে।

আঁশ হলো উদ্ভিজ্জ খাদ্যের এমন অংশ, যা আমাদের পরিপাকতন্ত্রে সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না। এটি পানি ধরে রেখে মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং মল সহজে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই আঁশ হজম হয় না বলে তাকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত পানি আঁশের এই কাজে সহায়তা করে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারের প্রধান উপায়গুলো হলো:

  • প্রতিদিন শাকসবজি, ফল, ডাল ও আঁশযুক্ত শস্যজাতীয় খাদ্য খাওয়া।
  • পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করা, যাতে মল অতিরিক্ত শুকিয়ে না যায়।
  • নিয়মিত হাঁটা, খেলাধুলা বা ব্যায়ামের অভ্যাস রাখা।
  • মলত্যাগের বেগ চেপে না রাখা এবং নিয়মিত সময়ে পায়খানায় যাওয়ার অভ্যাস করা।
  • অনিয়মিত খাওয়া বা শুধু কম আঁশযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর করা এড়ানো।

বাংলাদেশের পরিচিত খাবারের মধ্যে পুঁইশাক, কলমিশাক, পেয়ারা, ডাল ও লাল আটার রুটি খাদ্যে আঁশ যোগ করে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী শুধু ভাত ও ভাজা খাবার খেলে তার খাবারে আঁশ কম হতে পারে। সঙ্গে শাকসবজি, ডাল ও ফল রাখলে খাদ্যের গঠন উন্নত হয়। তবে শুধু একটি ফল খেলেই সবার সমস্যা সঙ্গে সঙ্গে দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

সাধারণ ভুল হলো কোষ্ঠকাঠিন্য হলে শুধু পানি খেলেই যথেষ্ট মনে করা। আঁশ, পানি, চলাফেরা ও নিয়মিত অভ্যাস একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

মনে রাখো: পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি, নিয়মিত চলাফেরা এবং মলত্যাগের ভালো অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে রাফেজ (Roughage) বা খাদ্য-আঁশের ভূমিকা হলো—

    i. পরিপাক প্রক্রিয়ায় ভেঙে শরীরে শক্তি ও পুষ্টি জোগায়

    ii. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে

    iii. অন্ত্রনালিতে খাদ্য চলাচলে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ii ও iii

    1. রাফেজ মূলত উদ্ভিদের সেলুলোজ নির্মিত অপাচ্য খাদ্য-আঁশ, যা মানব পরিপাকতন্ত্রে হজম হয় না এবং কোনো পুষ্টি উপাদান বা শক্তি সরবরাহ করে না; তাই বিবৃতি i সঠিক নয়।
    2. রাফেজ পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং অন্ত্রের পেরিস্টালসিস স্বাভাবিক রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে; তাই বিবৃতি ii ও iii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো