পড়ার নোট
গ্যাস্ট্রিক আলসার হলো পাকস্থলীর ভেতরের আবরণে ক্ষত। পাকস্থলী অথবা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে এ ধরনের ক্ষতকে সামগ্রিকভাবে পেপটিক আলসার বলা হয়। পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে অম্লের ক্রিয়ায় ক্ষত তৈরি বা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আলসার শুধু পেটে গ্যাস জমার নাম নয়।
এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। পাকস্থলীতে তীব্র অম্ল থাকলেও এই ব্যাকটেরিয়া সেখানে টিকে থাকতে পারে। নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ না করা এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খাওয়াও এতে ভূমিকা রাখে। অনিয়মিত আহার, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ধূমপান, উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা রোগের সমস্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সাধারণত পেটের মাঝ বরাবর নাভির একটু উপরে একঘেয়ে বা জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা হয়। খালি পেটে অথবা অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাবার খেলে ব্যথা বাড়তে পারে। বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা বা অল্প খেয়ে ভরা অনুভবও হতে পারে। অবস্থা গুরুতর হলে বমি এবং মলের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। রক্তপাতের লক্ষণকে সাধারণ অজীর্ণতা বলে অবহেলা করা যাবে না।
এন্ডোসকপি হলো যন্ত্রের সাহায্যে পরিপাকনালির ভেতর পরীক্ষা করার পদ্ধতি। এন্ডোসকপি বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে আলসার নির্ণয়ে সাহায্য পাওয়া যায়। শুধু ব্যথার অবস্থান দেখে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
প্রতিকারে নিয়মিত সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ এবং অস্বস্তি বাড়ায় এমন গুরুপাক খাবার এড়ানো দরকার। কফি, সিগারেট ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ পরিহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কলার মতো সহনীয় খাবার খেলে কারও আরাম হতে পারে, কিন্তু তা ক্ষতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নয়। চিকিৎসক প্রয়োজনে অম্ল কমানোর ওষুধ এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেন।
যেমন, একজন শিক্ষার্থী দুপুরের খাবার বাদ দিয়ে বিকেলে ভাজাপোড়া খেলে পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে। নিয়মিত ভাত, ডাল ও সহনীয় খাবার খাওয়া ভালো অভ্যাস; বারবার ব্যথা হলে চিকিৎসাও দরকার।
সাধারণ ভুল হলো শুধু ঝাল খাবারই আলসারের কারণ মনে করা। জীবাণুর ভূমিকা উপেক্ষা করলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বাদ পড়তে পারে।
মনে রাখো: আলসার একটি ক্ষত; নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।