পড়ার নোট
অ্যাপেন্ডিক্স হলো আঙুলের আকারের একটি ছোট থলে, যা পেটের ডান দিকের নিচে বৃহদন্ত্রের শিকামের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এর সংক্রমণ ও প্রদাহকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে। এটি সাধারণ অজীর্ণতার মতো অপেক্ষা করে দেখার সমস্যা নয়; সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
অ্যাপেন্ডিক্সে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়। সংক্রমণের ফলে অংশটি ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। সব পেটব্যথার কারণ অ্যাপেন্ডিসাইটিস নয়, তবে ব্যথার অবস্থান ও সময়ের সঙ্গে তার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
এ রোগে প্রথমে নাভির চারপাশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। ব্যথা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা তলপেটের ডান দিকে সরে যেতে পারে এবং ক্রমে বাড়তে পারে। সঙ্গে ক্ষুধামন্দা, বমিভাব বা বমি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। সব রোগীর সব লক্ষণ একসঙ্গে থাকতেই হবে এমন নয়।
সংক্রমণ গুরুতর হলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যেতে পারে। তখন সংক্রমণ পেটের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনক, এমনকি প্রাণঘাতী অবস্থা তৈরি করতে পারে। এই কারণেই ব্যথা খুব বেশি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা বা সাময়িক আরামকে সম্পূর্ণ সুস্থতা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
প্রতিকারের ধাপগুলো হলো:
- সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
- চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
- আক্রান্ত অ্যাপেন্ডিক্স অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হতে পারে।
- অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে ওষুধ, খাবার এবং পরিচর্যা সম্পর্কে চিকিৎসকের নির্দেশ মানতে হবে। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
যেমন, স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর সকালে নাভির কাছে ব্যথা শুরু হয়ে পরে ডান তলপেটে চলে গেল এবং সে খেতে চাইছে না। এমন অবস্থায় শুধু ‘গ্যাস হয়েছে’ ভেবে বাড়িতে অপেক্ষা না করে অভিভাবকের সাহায্যে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। উদাহরণের লক্ষণগুলো সন্দেহ তৈরি করে, নিজেরা নিশ্চিত রোগ নির্ণয় করে না।
সাধারণ ভুল হলো আঁশযুক্ত খাদ্য ও বেশি পানি খেলেই অ্যাপেন্ডিসাইটিস নিশ্চিতভাবে প্রতিরোধ করা যায় মনে করা। এগুলো ভালো খাদ্যাভ্যাস হলেও এই রোগ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা নয়; দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাই জটিলতা কমানোর প্রধান উপায়।
মনে রাখো: নাভির কাছের ব্যথা ডান তলপেটে সরে গেলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের আশঙ্কায় দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।