পড়ার নোট
পরজীবী হলো এমন জীব, যা অন্য জীবের দেহে বা দেহের ওপর থেকে খাদ্য ও আশ্রয় পায় এবং আশ্রয়দাতার ক্ষতি করে। মানুষের অন্ত্রে বাস করা গোলকৃমি, সুতাকৃমি ও ফিতাকৃমি এ ধরনের পরজীবী। এদের সংক্রমণে সৃষ্ট অসুস্থতাকে কৃমিজনিত রোগ বলে। কৃমি দেহের পুষ্টি গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু কৃমির সংক্রমণে রক্তাল্পতাও হয়।
কৃমির ডিম বা সংক্রমণকারী দশা দূষিত খাদ্য, পানি, অপরিষ্কার হাত বা মাটির মাধ্যমে দেহে পৌঁছাতে পারে। মাছি খোলা খাদ্যে দূষণ ছড়াতে পারে। কিছু কৃমি ভালোভাবে রান্না না করা মাংসের মাধ্যমে এবং কিছু কৃমি দূষিত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটার মাধ্যমে ছড়ায়। তাই সব কৃমির প্রবেশপথ এক নয়।
লক্ষণগুলোর মধ্যে পেটব্যথা, পেটে অস্বস্তি, অজীর্ণতা, বমিভাব, দুর্বলতা, অনিদ্রা ও ক্ষুধামন্দা রয়েছে। কখনো ক্ষুধার পরিবর্তন, ওজন কমা, মুখ ফ্যাকাশে হওয়া, রক্তাল্পতা, হাত-পা ফুলে যাওয়া এবং শিশুদের পেট বড় হয়ে যাওয়া দেখা যায়।
মলের সঙ্গে কৃমি বের হতে পারে। আক্রান্ত শিশুর জ্বরের সময় কখনো মুখ বা নাক দিয়েও কৃমি বের হয়। তবে চোখে কৃমি দেখা না গেলেই সংক্রমণ নেই বলা যায় না। মল পরীক্ষা করে কৃমির ডিমের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। সংক্রমণ নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কৃমিনাশক ওষুধ নিতে হয়।
প্রতিরোধে যা করা দরকার:
- খাবার আগে ও পায়খানার পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা।
- কাঁচা ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধোয়া এবং নিরাপদ পানি পান করা।
- খাবার ঢাকা রাখা ও মাছি বসতে না দেওয়া।
- মাংসসহ সব খাবার ভালোভাবে রান্না করা।
- স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার এবং দূষিত মাটিতে খালি পায়ে না হাঁটা।
যেমন, উঠানে খেলার পরে হাত না ধুয়ে মুড়ি খেলে ময়লা হাতের মাধ্যমে খাদ্য দূষিত হতে পারে। জুতা পরা এবং খাওয়ার আগে হাত ধোয়া দুটি ভিন্ন সংক্রমণপথ ঠেকাতে সাহায্য করে।
সাধারণ ভুল হলো শুধু বেশি ক্ষুধা বা পেট বড় দেখেই কৃমি নিশ্চিত করা; এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে।
মনে রাখো: পরিচ্ছন্নতা কৃমির সংক্রমণ কমায়, আর মল পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ সঠিক চিকিৎসায় সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।