offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ৪২

ডায়ারিয়া

পড়ার নোট

ডায়রিয়া হলো দিনে অন্তত তিনবার পাতলা বা জলীয় মলত্যাগ। সব বয়সে হলেও শিশুদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমিতে দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। দেহে পানির এই ঘাটতিকে পানিশূন্যতা বলে। সময়মতো ঘাটতি পূরণ না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে।

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার সংক্রমণে ডায়রিয়া হয়। রোটা ভাইরাস এর অন্যতম কারণ। দূষিত পানি, বাসি বা অপরিষ্কার খাবার, অপরিষ্কার বাসন এবং না-ধোয়া হাত রোগজীবাণু ছড়াতে সাহায্য করে। যেমন, বন্যার সময় নিরাপদ পানির সঙ্গে দূষিত পানি মিশে গেলে সেই পানি পান বা খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রধান লক্ষণ হলো বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, তৃষ্ণা, মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া এবং চামড়া কুঁচকে যাওয়া। প্রস্রাব কমতে পারে এবং রোগী ক্রমে দুর্বল হয়। শিশুর মাথার নরম অংশ বসে যেতে পারে। রোগী কখনো খাবার বা পানীয় নিতে না-ও চাইতে পারে; এটি অবহেলার কারণ নয়।

খাবার স্যালাইন হলো পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য মুখে খাওয়ানো দ্রবণ। লক্ষণ দেখা দিলেই এটি দেওয়া শুরু করতে হয়। প্যাকেটের গায়ে লেখা নির্দিষ্ট পরিমাণ নিরাপদ পানিতে পুরো প্যাকেট মেশাতে হবে। আন্দাজে পানি, লবণ বা চিনি বাড়ানো-কমানো ঠিক নয়।

স্যালাইন ও খাবার দেওয়ার সময়:

  • পাতলা পায়খানা চললে হারানো পানি ও লবণ পূরণ করতে স্যালাইন দিতে হবে।
  • বমি হলে স্যালাইন একেবারে বন্ধ না করে অল্প অল্প করে বারবার দিতে হবে।
  • শিশুর বুকের দুধ এবং রোগীর সহনীয় স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যেতে হবে।
  • সুস্থ হওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ বাড়তি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
  • গুরুতর দুর্বলতা বা পানি পান করতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে; নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।

প্রতিরোধে নিরাপদ পানি, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার বাসন এবং ভালোভাবে রান্না করা ঢাকা খাবার জরুরি।

সাধারণ ভুল হলো স্যালাইন খাওয়ার পরও পাতলা পায়খানা চললে সেটি কাজ করছে না মনে করা। স্যালাইনের প্রধান কাজ পায়খানা বন্ধ করা নয়, হারানো পানি ও লবণ ফিরিয়ে দেওয়া।

মনে রাখো: ডায়রিয়ায় দ্রুত খাবার স্যালাইন দেওয়া এবং খাবার চালিয়ে রাখা পানি-লবণের ঘাটতি ও দুর্বলতা মোকাবিলার প্রধান উপায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো