সৃজনশীল প্রশ্ন কী?
সৃজনশীল প্রশ্নের ইংরেজি নাম Creative Question, সংক্ষেপে CQ। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের শুরুতে থাকে একটি উদ্দীপক: বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা, ছবি, ছক বা কিছু তথ্য। তারপর উদ্দীপকের নিচে চারটি প্রশ্ন: ক, খ, গ ও ঘ। ক আর খ সাধারণত পাঠ্যবই থেকে আসে, আর গ ও ঘ-এর উত্তর উদ্দীপকের সাথে মিলিয়ে লিখতে হয়। চারটি প্রশ্ন চার ধাপের দক্ষতা যাচাই করে: মনে রাখা, বোঝা, কাজে লাগানো আর বিচার করা। তাই শুধু মুখস্থ উত্তর দিয়ে পুরো নম্বর পাওয়া যায় না।
কোন অংশে কত নম্বর
একটি সৃজনশীল প্রশ্নে মোট ১০ নম্বর।
| অংশ | দক্ষতার স্তর | নম্বর | নম্বর যেভাবে ভাগ হয় |
|---|---|---|---|
| ক | জ্ঞান | ১ | জ্ঞান ১ |
| খ | অনুধাবন | ২ | জ্ঞান ১ + অনুধাবন ১ |
| গ | প্রয়োগ | ৩ | জ্ঞান ১ + অনুধাবন ১ + প্রয়োগ ১ |
| ঘ | উচ্চতর দক্ষতা | ৪ | জ্ঞান ১ + অনুধাবন ১ + প্রয়োগ ১ + উচ্চতর দক্ষতা ১ |
অর্থাৎ খ, গ আর ঘ-এর নম্বর ধাপে ধাপে দেওয়া হয়। প্রশ্নের সাথে মেলে এমন সঠিক তথ্য, সূত্র বা ধাপ লিখলে আংশিক নম্বর পাওয়া যায়, তাই কোনো অংশ পুরো না পারলেও যতটুকু পারো লেখো।
গণিত আর উচ্চতর গণিতের সৃজনশীল প্রশ্নে অংশ তিনটি: ক-তে ২, খ-তে ৪ আর গ-তে ৪ নম্বর। এই গাইড চার অংশের প্রশ্ন নিয়ে, যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন আর জীববিজ্ঞানে থাকে। কোন বিষয়ে কয়টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আর পাস নম্বর কত, তা তোমার বোর্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে দেখে নিয়ো।
ক (জ্ঞানমূলক) লেখার নিয়ম
ক অংশ পাঠ্যবই থেকে সরাসরি কিছু জানতে চায়: একটি সংজ্ঞা, একটি নাম, একটি একক বা একটি তথ্য। এর জন্য সাধারণত উদ্দীপক লাগে না।
- এক বা দুই বাক্যে উত্তর দাও। বেশি লিখলে নম্বর বাড়ে না, শুধু সময় যায়।
- সংজ্ঞা চাইলে পাঠ্যবইয়ের মূল কথাগুলো যেন বাদ না পড়ে। যেমন জড়তার সংজ্ঞায় দুটো কথাই থাকতে হবে: স্থির বস্তু স্থির থাকতে চায়, আর গতিশীল বস্তু সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকতে চায়।
খ (অনুধাবনমূলক) লেখার নিয়ম
খ অংশ দেখতে চায় তুমি একটি ধারণা বুঝেছ কি না। প্রশ্নে সাধারণত থাকে "কেন", "কীভাবে" বা "ব্যাখ্যা করো"।
- প্রশ্নের মূল ধারণা বা তথ্যটা লেখো: এতে জ্ঞানের নম্বর।
- তারপর কারণ বা প্রক্রিয়াটা ব্যাখ্যা করো: এতে অনুধাবনের নম্বর।
শুধু সংজ্ঞা লিখে থেমে গেলে অনুধাবনের নম্বরটা হারাবে।
গ (প্রয়োগমূলক) লেখার নিয়ম
গ অংশে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান উদ্দীপকের নতুন পরিস্থিতিতে খাটাতে হয়। পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নে এটা প্রায়ই একটা হিসাব।
- কোন সূত্র বা নিয়ম লাগবে, সেটা লেখো (জ্ঞান)।
- উদ্দীপক থেকে মানগুলো বের করো, দরকার হলে এককে রূপান্তর করো, তারপর সূত্রে বসাও (অনুধাবন)।
- ধাপে ধাপে হিসাব শেষ করে উত্তর লেখো, একক থাকলে এককসহ (প্রয়োগ)।
হিসাব না থাকলে পাঠ্যবইয়ের ধারণাটা উদ্দীপকের ঘটনায় খাটিয়ে ব্যাখ্যা করো। হিসাবের ধাপ না দেখানো আর এককযুক্ত উত্তরে একক না লেখা সবচেয়ে সাধারণ ভুল।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতামূলক) লেখার নিয়ম
ঘ অংশ তোমাকে বিচার করতে বলে: তুলনা করো, বিশ্লেষণ করো, মতামত দাও বা কোনো কিছু সম্ভব কি না যাচাই করো।
- প্রয়োজনীয় তথ্য বা সূত্র লেখো (জ্ঞান)।
- উদ্দীপকের সাথে মিলিয়ে বিষয়টা ব্যাখ্যা করো (অনুধাবন)।
- হিসাব বা বিশ্লেষণটা করো (প্রয়োগ)।
- যুক্তিসহ একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত লেখো (উচ্চতর দক্ষতা)।
সিদ্ধান্ত ছাড়া ঘ-এর উত্তর অসম্পূর্ণ। শেষ বাক্যটা "সুতরাং …" দিয়ে শুরু করে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দাও।
একটি উদাহরণ: উত্তরের কোন ধাপে নম্বর আসে
SSC পদার্থবিজ্ঞানের তৃতীয় অধ্যায় (বল) থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্ন। প্রতিটি উত্তরের নিচে লেখা আছে কোন ধাপে নম্বর আসে।
১০০০ kg ভরের একটি ধানবোঝাই পিকআপ ভ্যান ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ২০ m/s সমবেগে চলছিল। চালক ৬০ m সামনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধক দেখে সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চেপে ৪০০০ N সুষম ব্রেকিং বল প্রয়োগ করলেন।
- ক
জড়তা কাকে বলে?
উত্তর দেখাও
বল প্রয়োগ না করা পর্যন্ত স্থির বস্তুর চিরকাল স্থির এবং গতিশীল বস্তুর চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলার যে স্বাভাবিক প্রবণতা, তাকে জড়তা বলে।
নম্বর যেভাবে আসে- ১ম নম্বর জড়তার সঠিক সংজ্ঞা
- খ
চলন্ত বাসে সিটবেল্ট বাঁধা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য কেন জরুরি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
বাস যখন তীব্র ব্রেক চেপে হঠাৎ থেমে যায়, তখন গতি জড়তার কারণে যাত্রীর দেহ আগের গতিতে সামনের দিকে ছুটে যেতে চায়। সিটবেল্ট যাত্রীদেহের ওপর বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে গতি জড়তাকে নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে যাত্রী সামনের কাচ বা আসনের সাথে সজোরে ধাক্কা খাওয়া থেকে রক্ষা পান।
নম্বর যেভাবে আসে- ১ম নম্বর গতি জড়তার ভূমিকা উল্লেখ
- ২য় নম্বর সিটবেল্ট কীভাবে বল প্রয়োগ করে আঘাত প্রতিরোধ করে তা ব্যাখ্যা
- গ
ব্রেক চাপার পর গাড়িটি থামতে কত সময় নেবে?
উত্তর দেখাও
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্র হতে মন্দন a = F ⁄ m = ৪০০০ ⁄ ১০০০ = ৪ m/s²। v = u − at সূত্র হতে পাই, ০ = ২০ − ৪ × t ⇒ ৪t = ২০ ⇒ t = ৫ s। সুতরাং গাড়িটি থামতে ৫ সেকেন্ড সময় নেবে।
নম্বর যেভাবে আসে- ১ম নম্বর সঠিক সূত্র নির্বাচন (a = F / m) ও মন্দন ৪ m/s² নির্ণয়
- ২য় নম্বর গতির সমীকরণে (v = u − at) মান প্রতিস্থাপন
- ৩য় নম্বর থামার সময় ৫ s এককসহ সঠিক নির্ণয়
- ঘ
রাস্তাটি বৃষ্টিতে ভেজা থাকায় যদি সর্বোচ্চ ব্রেকিং বল কমে ২৫০০ N হতো, তবে পিকআপ ভ্যানটি কি দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে পারত? গাণিতিক যুক্তিসহ মতামত দাও।
উত্তর দেখাও
বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তায় মন্দন a' = F' ⁄ m = ২৫০০ ⁄ ১০০০ = ২.৫ m/s²। গাড়িটির থামার প্রয়োজনীয় দূরত্ব s' হলে, v² = u² − ২a's' ⇒ ০ = ২০² − ২ × ২.৫ × s' ⇒ ৫s' = ৪০০ ⇒ s' = ৮০ m। কিন্তু চালকের সামনে প্রতিবন্ধক ছিল মাত্র ৬০ m দূরে। যেহেতু থামার প্রয়োজনীয় দূরত্ব (৮০ m) প্রতিবন্ধকের দূরত্বের (৬০ m) চেয়ে বেশি, তাই গাড়িটি প্রতিবন্ধকের আগেই থামতে পারবে না এবং সেটিকে ধাক্কা দেবে। সুতরাং পিকআপ ভ্যানটি দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে পারত না।
নম্বর যেভাবে আসে- ১ম নম্বর ভেজা রাস্তায় নতুন মন্দন a' = ২.৫ m/s² নির্ণয়
- ২য় নম্বর গতির সূত্র (v² = u² − ২as) প্রয়োগ
- ৩য় নম্বর থামার মোট দূরত্ব ৮০ m নির্ণয়
- ৪র্থ নম্বর ৮০ m > ৬০ m তুলনা করে দুর্ঘটনার সপক্ষে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদান
সাধারণ ভুল
- ক-তে পুরো অনুচ্ছেদ লেখা।
- খ-তে শুধু সংজ্ঞা লিখে ব্যাখ্যা না দেওয়া।
- গ-তে হিসাবের ধাপ না দেখানো, বা এককযুক্ত উত্তরে একক না লেখা।
- ঘ-তে হিসাব করে থেমে যাওয়া, কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া।
- গ আর ঘ-তে উদ্দীপকের তথ্য ব্যবহার না করে বইয়ের মুখস্থ অংশ লিখে দেওয়া।
কীভাবে অনুশীলন করবে
offSchool-এ প্রতিটি অধ্যায়ের পাতায় একটি সৃজনশীল প্রশ্ন আর তার আদর্শ উত্তর আছে। আগে নিজে খাতায় লেখো, তারপর উত্তর মিলিয়ে দেখো। কোনো হিসাব বুঝতে না পারলে সেই অধ্যায়ের সিমুলেশন চালিয়ে দেখো: মান বদলালে কী হয়, চোখের সামনেই দেখা যায়।