পড়ার নোট
বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই উচ্চতার তুলনায় ওজন কেমন, তা বোঝার একটি সহজ সূচক। শুধু কাউকে দেখতে মোটা বা চিকন লাগছে বলে তার ওজনের অবস্থা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। একই ওজনের দুই ব্যক্তির উচ্চতা আলাদা হলে তাদের বিএমআই-ও আলাদা হয়। তাই ওজনের সঙ্গে উচ্চতা বিবেচনা করাই এই সূচকের প্রধান গুরুত্ব।
বিএমআই কম ওজন, স্বাভাবিক ওজন, অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা শনাক্ত করার প্রাথমিক কাজে সাহায্য করে। ওজনের অস্বাভাবিকতা বোঝা গেলে খাদ্যাভ্যাস ও দৈহিক পরিশ্রম পর্যালোচনা করা যায়। অতিরিক্ত মেদ ও নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে খুব কম ওজন পুষ্টির ঘাটতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার কারণ হতে পারে। তবে বিএমআই একাই কোনো রোগ নিশ্চিত করে না।
মৌলবিপাকের হার বা বিএমআর বিশ্রামে দেহের মৌলিক কাজ চালাতে শক্তি ব্যয়ের হার। হৃৎপিণ্ড, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং দেহের তাপ বজায় রাখার কাজ চলতে থাকে বলে ঘুমের সময়ও শক্তি লাগে। বিএমআর জানা থাকলে খাদ্যশক্তির দৈনিক চাহিদা হিসাব করার একটি ভিত্তি পাওয়া যায়। এরপর কাজের মাত্রা বিবেচনা করতে হয়।
বাংলাদেশের একটি পরিবারের উদাহরণ ভাবো। একজন সদস্য অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন, অন্যজন মাঠে কৃষিকাজ করেন। দুজনের খাবারের পরিমাণ কেবল বয়স দেখে সমান করা যুক্তিযুক্ত নয়। তাদের দেহের গঠন, মৌলিক শক্তির চাহিদা ও পরিশ্রমের পার্থক্য বিবেচনা করা দরকার। বিএমআই ও বিএমআর এই বিবেচনায় ভিন্নভাবে সাহায্য করে।
দুটি সূচক মিলিয়ে খাদ্য গ্রহণ ও শক্তিব্যয়ের সামঞ্জস্য বোঝা সহজ হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যশক্তি মেদ হিসেবে জমতে পারে। তাই পরিমিত সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শারীরিক কাজ গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ক্যালরি কমালেই সুষম পুষ্টি নিশ্চিত হয় না।
সাধারণ ভুল: স্বাভাবিক বিএমআই মানেই সব দিক থেকে সুস্থ, অথবা কম বিএমআর মানেই অসুস্থ মনে করা। বয়স, লিঙ্গ, দেহের গঠন ও কাজের ধরনসহ ফল ব্যাখ্যা করতে হয়।
মনে রাখো: বিএমআই ওজনের অবস্থা মূল্যায়নে এবং বিএমআর দৈনিক শক্তির চাহিদা পরিকল্পনায় সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।