পড়ার নোট
খাদ্যের শক্তি হিসাবের আগে বিশুদ্ধ খাদ্য ও মিশ্রখাদ্য আলাদা করতে হয়। বিশুদ্ধ খাদ্যে একটি পুষ্টি উপাদান থাকে, যেমন চিনিতে শর্করা। মিশ্রখাদ্যে একাধিক পুষ্টি উপাদান থাকে, যেমন দুধ, ডিম ও খিচুড়ি। তাই এক কিলোগ্রাম খিচুড়ি এবং এক কিলোগ্রাম বিশুদ্ধ শর্করার শক্তি এক হবে না।
প্রতি গ্রাম শর্করা ও আমিষ 4 কিলোক্যালরি এবং চর্বি 9 কিলোক্যালরি শক্তি দেয়। এক কিলোগ্রামে এক হাজার গ্রাম থাকায় প্রতি কিলোগ্রামের মান পেতে প্রতি গ্রামের মানকে এক হাজার দিয়ে গুণ করতে হয়।
| পুষ্টি উপাদান | প্রতি কিলোগ্রামে শক্তি | কিলোজুলে শক্তি, প্রায় |
|---|---|---|
| শর্করা | 4000 কিলোক্যালরি | 16800 কিলোজুল |
| আমিষ | 4000 কিলোক্যালরি | 16800 কিলোজুল |
| চর্বি | 9000 কিলোক্যালরি | 37800 কিলোজুল |
এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। kcal কিলোক্যালরি এবং kJ কিলোজুল বোঝায়; শক্তির SI একক জুল। প্রতি ভরের শক্তির SI একক জুল প্রতি কিলোগ্রাম। একই পরিমাণ শক্তির জন্য চর্বির ভর তুলনামূলকভাবে কম লাগে। এজন্য তেল দিয়ে তৈরি পরোটা বা পোলাওয়ের শক্তি হিসাবে তেলের অবদান ধরতে হয়।
উদাহরণ: চিড়ায় শর্করা 77%, আমিষ 6.6% ও চর্বি 1.2% থাকলে 50 গ্রাম চিড়ার শক্তি নির্ণয় করো।
- উপাদানের ভর: শর্করা , আমিষ , চর্বি । এখানে g গ্রাম; ভরের SI একক কিলোগ্রাম।
- শক্তি: ।
- এক কিলোগ্রামে শক্তি: ।
- কিলোজুলে: , প্রায়।
মিশ্রখাদ্যের ক্ষেত্রে প্রতিটি শক্তিদায়ক উপাদানের পরিমাণ খাদ্যমূল্যের তালিকা থেকে জানতে হয়। পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণের শক্তিমূল্য এই হিসাবে শূন্য। রান্না করা ও শুকনা খাবারের একই ভরে উপাদানের পরিমাণ এক ধরে নেওয়া যাবে না।
সাধারণ ভুল: এক কিলোগ্রাম খাবারের সম্পূর্ণ ভরকে শর্করা ধরে চার দিয়ে গুণ করা, অথবা গ্রাম ও কিলোগ্রাম গুলিয়ে ফেলা।
মনে রাখো: মিশ্রখাদ্যের শক্তি পেতে শর্করা, আমিষ ও চর্বির শক্তি আলাদাভাবে হিসাব করে যোগ করো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।