পড়ার নোট
খাদ্যশক্তি হলো খাদ্যের পুষ্টি উপাদান থেকে দেহের কাজে ব্যবহারের জন্য পাওয়া শক্তি। শ্বাসক্রিয়ায় খাদ্য উপাদান ভেঙে শক্তি মুক্ত হয়। হাঁটা, পড়াশোনা, খেলাধুলা, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডের কাজ চালাতে এই শক্তি লাগে। তাই চুপচাপ বসে থাকলেও খাদ্যশক্তির প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না।
ছয় ধরনের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি শক্তি দেয়। শর্করা দেহের প্রধান শক্তিদায়ক উপাদান; ভাত, রুটি ও আলু এর পরিচিত উৎস। আমিষ দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণের পাশাপাশি শক্তিও দিতে পারে; মাছ, ডিম, দুধ ও ডালে আমিষ থাকে। চর্বি তুলনামূলকভাবে ঘনীভূত শক্তির উৎস; তেল, ঘি ও মাখনে এটি পাওয়া যায়।
প্রতি গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে 4 কিলোক্যালরি এবং চর্বি থেকে 9 কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি সরাসরি শক্তি দেয় না, কিন্তু দেহের স্বাভাবিক কাজের জন্য অপরিহার্য। শক্তি দেয় না বলে এগুলো বাদ দেওয়া যাবে না।
কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি প্রকাশের প্রচলিত একক। এক কিলোগ্রাম পানির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে প্রায় এক কিলোক্যালরি তাপ লাগে। পুষ্টির আলোচনায় খাদ্য ক্যালরি বলতে কিলোক্যালরি বোঝায়। । এখানে kcal কিলোক্যালরি, cal ক্যালরি ও kJ কিলোজুল; শক্তির SI একক জুল, এবং ।
উদাহরণ: বাড়িতে শরবত তৈরির জন্য নেওয়া 12 গ্রাম বিশুদ্ধ চিনির শক্তি হিসাব করো। চিনি শর্করা, তাই প্রথমে তার ভরকে প্রতি গ্রামের শক্তি দিয়ে গুণ করি: । এরপর কিলোজুলে রূপান্তর: । এই হিসাব শুধু চিনির; শরবতের অন্য উপাদান থাকলে সেগুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণ ভুল: খাদ্য ক্যালরি ও পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষুদ্র ক্যালরিকে একই পরিমাণ ধরা। এতে হিসাবে এক হাজার গুণ ভুল হয়।
মনে রাখো: শর্করা, আমিষ ও চর্বি শক্তি দেয়; এক খাদ্য ক্যালরি মানে এক কিলোক্যালরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।