পড়ার নোট
ক্রিয়াকর্মে ব্যয়িত শক্তি হলো দেহের কাজ সম্পাদনের সময় ব্যবহৃত শক্তি। পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে আমরা হাঁটি, দৌড়াই, সাঁতার কাটি ও খেলাধুলা করি। পেশির কাজের পরিমাণ বাড়লে সাধারণত শক্তির ব্যয়ও বাড়ে। তাই স্কুলে হেঁটে যাওয়া এবং মাঠে দ্রুত দৌড়ানোর শক্তির চাহিদা এক নয়।
শুধু দৃশ্যমান নড়াচড়াতেই শক্তি লাগে না। বসে থাকা বা ঘুমের সময়ও হৃৎপিণ্ড ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি কাজ করে। এই মৌলিক কাজগুলোর শক্তির প্রয়োজন থাকে বলেই বিশ্রামেও খাদ্যের দরকার হয়। দৈনিক মোট শক্তিব্যয় বুঝতে বিশ্রামের শক্তি এবং দৈহিক পরিশ্রম—দুটিই বিবেচনা করতে হয়।
দৈনিক শক্তির চাহিদা প্রধানত মৌলবিপাক, পরিশ্রমের ধরন ও খাদ্যের প্রভাবের উপর নির্ভর করে। দেহের বৃদ্ধি, শারীরিক অবস্থা ও আবহাওয়াও চাহিদায় প্রভাব ফেলে। একই কাজ করলেও সবার শক্তিব্যয় এক হবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কাজের সময় ও তীব্রতা জানাও জরুরি।
শক্তি প্রকাশে কিলোক্যালরি ও কিলোজুল ব্যবহার করা হয়। । এখানে kcal কিলোক্যালরি, kJ কিলোজুল; শক্তির SI একক জুল, এবং । কিলোক্যালরি থেকে কিলোজুলে যেতে 4.2 দিয়ে গুণ, উল্টো রূপান্তরে ভাগ করতে হয়।
হিসাবের উদাহরণ: একটি অনুশীলনীতে দেওয়া আছে, হাঁটায় 120 কিলোক্যালরি এবং খেলায় 180 কিলোক্যালরি ব্যয় হয়েছে। এগুলো প্রশ্নের দেওয়া মান, সবার জন্য নির্দিষ্ট ব্যয়ের হার নয়।
- দুই কাজে মোট ব্যয়: ।
- কিলোজুলে মোট ব্যয়: ।
- যাচাই: ।
এই ফল কেবল উল্লিখিত দুই কাজের; এতে পুরো দিনের সব শক্তিব্যয় ধরা হয়নি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় 2000–2500 কিলোক্যালরি লাগতে পারে, তবে পরিশ্রম ও ব্যক্তিগত অবস্থায় তা বদলায়। রিকশাচালক ও দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা ব্যক্তির চাহিদা তাই একই ধরে নেওয়া যাবে না।
সাধারণ ভুল: কোনো একটি কাজে ব্যয়িত শক্তিকেই সারাদিনের মোট চাহিদা মনে করা।
মনে রাখো: কাজ ও বিশ্রাম উভয় অবস্থায় শক্তি ব্যয় হয়; কিলোক্যালরিকে 4.2 দিয়ে গুণ করলে প্রায় কিলোজুল পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।