উদ্ভিদে পরিবহণ হলো উদ্ভিদদেহের এক অংশ থেকে অন্য অংশে পানি, খনিজ লবণ ও প্রস্তুত খাদ্যের চলাচল। মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ গ্রহণ করে, আর সবুজ পাতায় সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি হয়।
উদ্ভিদে পরিবহণের ধারণা হলো উদ্ভিদদেহের ভেতরে প্রয়োজনীয় পদার্থের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর। একটি গাছের মূল, কাণ্ড ও পাতা আলাদা কাজ করলেও তারা বিচ্ছিন্নভাবে বেঁচে থাকে না।
উদ্ভিদে পরিবহণের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয় কারণ পদার্থ গ্রহণ, খাদ্য উৎপাদন এবং ব্যবহারের স্থান এক নয়। মাটির নিচের মূল পানি ও খনিজ গ্রহণ করে, আর আলোকপ্রাপ্ত সবুজ পাতা খাদ্য তৈরি করে।
পানি উদ্ভিদের জীবিত থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের জীবন্ত উপাদান এবং জীবনের ভৌত ভিত্তি; এর প্রায় ৯০ শতাংশ পানি। পানি কমে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয় এবং স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।
ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের অণুর অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ার ভৌত প্রক্রিয়া। এখানে কোন পদার্থের ঘনত্ব তুলনা করা হচ্ছে, সেটি বোঝা জরুরি।
পানি ও খনিজ লবণের শোষণ হলো উদ্ভিদের মাটি থেকে পানি এবং দ্রবীভূত খনিজ উপাদান গ্রহণের প্রক্রিয়া। পানি ও খনিজ একই মূলের মাধ্যমে প্রবেশ করলেও তাদের শোষণপদ্ধতি পুরোপুরি এক নয়।
সবুজ পাতার ক্লোরোপ্লাস্টে আলোর উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। এই খাদ্য শুধু পাতার জন্য নয়; মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ও বীজেরও প্রয়োজন হয়।
মূলের শোষিত পানি ও খনিজ লবণ কাণ্ড, শাখা এবং পাতায় পৌঁছানোর প্রধান পথ হলো জাইলেম। এর ভেসেলগুলো দীর্ঘ নালির মতো পথ তৈরি করে। পরিণত ভেসেলের পরিবাহী কোষ মৃত ও ফাঁপা হওয়ায় ভেতর দিয়ে পানি চলতে পারে।
প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ দিয়ে পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হওয়ার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদ মূল দিয়ে যে পানি গ্রহণ করে, তার অল্প অংশ বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। অবশিষ্ট পানির অনেকটাই প্রস্বেদনে বের হয়।
প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। মূল দিয়ে শোষিত পানির একটি অংশ উদ্ভিদের কাজে লাগে, আর একটি অংশ এভাবে পরিবেশে ফিরে যায়।
প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ থেকে বাষ্পের আকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের বাইরের যেসব পরিবেশগত অবস্থা এই প্রক্রিয়ার হার বদলায়, সেগুলোকে বাহ্যিক প্রভাবক বলে।
মানবদেহে সংবহন হলো রক্ত ও লসিকার সাহায্যে প্রয়োজনীয় পদার্থ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো এবং বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা। বহুকোষী দেহের সব কোষ বাইরের পরিবেশের সরাসরি সংস্পর্শে থাকে না।
রক্ত একটি তরল যোজক টিস্যু। হৃৎপিণ্ডের পাম্পক্রিয়ায় এটি রক্তবাহিকার মধ্যে চলাচল করে। এর প্রধান দুটি অংশ রক্তরস ও রক্তকণিকা; এদের সম্মিলিত কাজেই পরিবহণ, প্রতিরক্ষা এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।
রক্তের গ্রুপ হলো লোহিত রক্তকণিকার অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসের অ্যান্টিবডির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিভাগ। কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের গ্রুপ শ্রেণিবিন্যাস করেন।
রক্তদান হলো রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত সুস্থ ব্যক্তির স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়া। সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো অন্যের বিপদে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার দায়িত্ব।
রক্ত সঞ্চালন হলো হৃৎপিণ্ড ও রক্তবাহিকার মধ্য দিয়ে রক্তের অবিরাম চলাচল। এই প্রবাহ কোষে অক্সিজেন, পরিপাককৃত খাদ্য ও হরমোন পৌঁছায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের অঙ্গে নিয়ে যায়।
হৃৎপিণ্ড একটি ফাঁপা, পেশিবহুল পাম্প অঙ্গ। এটি বক্ষগহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে কিছুটা বাম দিকে অবস্থিত এবং মোটামুটি ত্রিকোণাকার। বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি হওয়ায় সচেতনভাবে নির্দেশ না দিলেও এটি কাজ করে।
রক্তবাহিকা হলো যেসব নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়। ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা মিলিয়ে হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে এবং দেহ থেকে হৃৎপিণ্ডে ফেরার পথ তৈরি করে। এদের গঠনের পার্থক্য নিজ নিজ কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আদর্শ রক্তচাপ বলতে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের বিশ্রাম অবস্থায় প্রত্যাশিত রক্তচাপ বোঝায়। এর পরিচিত মান প্রায় ১২০/৮০ mm Hg। এখানে প্রথম সংখ্যা সিস্টোলিক এবং দ্বিতীয় সংখ্যা ডায়াস্টোলিক চাপ নির্দেশ করে।
ধমনির প্রাচীরে প্রবাহিত রক্ত যে চাপ দেয়, তাকে রক্তচাপ বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোলের সময় চাপ সর্বাধিক হয়; এটি সিস্টোলিক চাপ। প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় চাপ সর্বনিম্ন হয়; এটি ডায়াস্টোলিক চাপ।
কোলেস্টেরল হলো কোলেস্টেইন নামের হাইড্রোকার্বন থেকে উৎপন্ন একটি চর্বিজাতীয় যৌগ। উচ্চশ্রেণির প্রাণিজ কোষে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যকৃতে কোলেস্টেরল তৈরি হয় এবং প্রাণিজ খাবার থেকেও তা পাওয়া যায়।
রক্তে কোলেস্টেরল পরিবহনের জন্য চর্বিজাতীয় পদার্থ ও প্রোটিন মিলে লিপোপ্রোটিন তৈরি করে। কোলেস্টেরলের প্রকারভেদ বোঝার সময় মূলত এসব পরিবাহকের পার্থক্য এবং রক্তের চর্বির ধরন বিবেচনা করা হয়।
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বিচার করতে LDL, HDL এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ আলাদাভাবে দেখা হয়। আদর্শ মাত্রা বলতে এমন লক্ষ্যমান বোঝায়, যার সঙ্গে পরীক্ষার ফল তুলনা করে রক্তের চর্বির অবস্থা বোঝা যায়।
কোলেস্টেরল প্রাণিকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্তে লিপোপ্রোটিনের সঙ্গে পরিবাহিত হয়। দেহের স্বাভাবিক কাজে এটি প্রয়োজন, কিন্তু অতিরিক্ত কোলেস্টেরল রক্তসঞ্চালনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
রক্তের অস্বাভাবিকতা হলো রক্তের উপাদানের পরিমাণ, উৎপাদন বা স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন। রক্তে যথেষ্ট কোষ থাকলেই সব কাজ ঠিকমতো হবে না; কোষগুলো কার্যক্ষমও হতে হবে।
লিউকেমিয়া রক্ত উৎপাদন-ব্যবস্থার অস্বাভাবিকতাজনিত ক্যান্সার। একে সাধারণভাবে রক্তের ক্যান্সার বলা হলেও প্রধান আক্রান্ত স্থান অস্থিমজ্জা, যেখানে রক্তকোষ তৈরি হয়।
হৃৎপিণ্ড সম্পর্কিত রোগ হৃৎপেশি, কপাটিকা, নিজস্ব রক্ত সরবরাহ অথবা রক্ত পাম্প করার কাজে সমস্যা সৃষ্টি করে। হৃৎপিণ্ড সারা দেহে রক্ত পাঠালেও তার নিজের কোষেরও অক্সিজেন ও পুষ্টি দরকার।
রক্তচাপ হলো প্রবাহিত রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে চাপ দেয়। হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে সৃষ্ট চাপকে সিস্টোলিক চাপ এবং শিথিল হলে বিদ্যমান চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে। রক্তচাপ লেখার সময় প্রথমে সিস্টোলিক ও পরে ডায়াস্টোলিক মান লেখা হয়।
বাতজ্বর হলো স্ট্রেপটোকোকাসের সংক্রমণের পরে দেখা দিতে পারে এমন প্রদাহজনিত রোগ। গলার সংক্রমণ, টনসিলের প্রদাহ, স্কারলেট জ্বর বা মধ্যকর্ণের সংক্রমণের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। প্রথম আক্রমণ সাধারণত শৈশবে হয়।
হৃৎপেশির কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে সেখানকার কোষ ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত হলে হার্ট অ্যাটাক ঘটে। এর চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। হৃৎপিণ্ডের নিজের পেশিতে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় করোনারি ধমনি।
হৃৎপিণ্ড জন্মের আগেই কাজ শুরু করে এবং সারা জীবন রক্ত পাম্প করে। একে সুস্থ রাখতে শুধু অসুখ হলে চিকিৎসা নয়, প্রতিদিনের খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক খাদ্য নির্বাচন হলো দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডের ক্ষতির ঝুঁকি কমায় এমন খাবার বেছে নেওয়া। সুষম খাদ্য দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।
সঠিক জীবনধারা হলো এমন দৈনন্দিন অভ্যাস অনুসরণ করা, যা দেহ ও হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জন্মের আগে থেকেই হৃৎপিণ্ড কাজ শুরু করে এবং সারা জীবন রক্ত সঞ্চালন চালিয়ে যায়।
কুমিল্লার ৫০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জনাব আকরাম নিয়মিত অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাসির মাংস ও ফাস্টফুড খান এবং তামাক (জর্দাযুক্ত পান) সেবন করেন। তিনি কোনো ধরনের কায়িক পরিশ্রম করেন না। সম্প্রতি তীব্র বুক ব্যথা, বাম বাহুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় তাঁর রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা পাওয়া গেল ১৮০ mg/dL (স্বাভাবিক মাত্রা < ১০০ mg/dL) এবং চিকিৎসকেরা করোনারি ধমনিতে চর্বি জমে ব্লকেজ সৃষ্টি হওয়ায় হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে শনাক্ত করেন। অন্যদিকে তাঁর ১৮ বছর বয়সী কলেজপড়ুয়া ছেলে রাতুল নিয়মিত সাঁতার ও সাইকেল চালায়, যার রক্তচাপ ১২০/৮০ mm Hg ও লিপিড প্রোফাইল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
ক
হৃৎপিণ্ডের দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক আবরণীর নাম কী?
উত্তর দেখাও
হৃৎপিণ্ডের দ্বিস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক আবরণীর নাম পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)।
খ
ধমনি ও শিরার মধ্যে গঠন ও কাজের দুটি প্রধান পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
ধমনি ও শিরার দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
১. রক্ত প্রবাহের দিক: ধমনি সাধারণত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের দূরবর্তী অঙ্গে বহন করে (ব্যতিক্রম ফুসফুসীয় ধমনি); পক্ষান্তরে শিরা বিভিন্ন অঙ্গ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে (ব্যতিক্রম ফুসফুসীয় শিরা)।
২. প্রাচীর ও কপাটিকা: ধমনির প্রাচীর পুরু, পেশিবহুল ও স্থিতিস্থাপক এবং এর গহ্বরে কোনো কপাটিকা (valve) থাকে না; কিন্তু শিরার প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা ও কম স্থিতিস্থাপক এবং রক্তের একমুখী প্রবাহ বজায় রাখতে এতে কপাটিকা থাকে।
গ
উদ্দীপকে জনাব আকরামের রক্তে উচ্চমাত্রার LDL কীভাবে করোনারি ধমনি অবরুদ্ধ করে হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি করল তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
উদ্দীপকে জনাব আকরামের রক্তে LDL (Low Density Lipoprotein)-এর মাত্রা ১৮০ mg/dL, যা নিরাপদ সীমা (< ১০০ mg/dL) অপেক্ষা অনেক বেশি।
১. প্লাক গঠন: LDL হলো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, যা রক্তের অতিরিক্ত চর্বিকে করোনারি ধমনির অন্তঃপ্রাচীরে স্তরে স্তরে জমা করে এথেরোস্ক্লেরোসিস (atherosclerosis) সৃষ্টি করে এবং ধমনির রক্ত চলাচলের পথ সরু করে ফেলে।
২. রক্ত চলাচলে বাধা: করোনারি ধমনি সরু ও অবরুদ্ধ হওয়ায় হৃৎপেশির কোষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
৩. পেশি ধ্বংস ও হার্ট অ্যাটাক: পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে হৃৎপেশির মায়োকার্ডিয়াম কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্রিয়া ব্যাহত হয়ে তীব্র বুক ব্যথা ও হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি হয়।
ঘ
'জনাব আকরামের অসুস্থতা ও রাতুলের সুস্থতার পেছনে দৈনন্দিন জীবনধারার (lifestyle) ভূমিকাই মুখ্য'—উদ্দীপক ও পাঠ্যপুস্তকের নির্দেশনার আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখাও
উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা এবং করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও অভ্যাসগত জীবনধারার প্রভাব অপরিসীম।
১. খাদ্য নির্বাচন: জনাব আকরাম নিয়মিত চর্বিযুক্ত খাসির মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খেতেন, যা রক্তে ক্ষতিকর LDL বাড়িয়ে ধমনিতে চর্বির স্তর তৈরি করেছে। পক্ষান্তরে সুষম ও পরিমিত আহার রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
২. কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম: আকরাম কোনো কায়িক পরিশ্রম করতেন না, যার ফলে উদ্বৃত্ত শক্তি চর্বি হিসেবে রক্তনালিতে জমা হয়েছে। অন্যদিকে রাতুল নিয়মিত সাঁতার ও সাইকেল চালানোর মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম করায় তার হৃৎপেশি সুদৃঢ় হয়েছে, রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রক্তচাপ আদর্শ মাত্রায় (১২০/৮০ mm Hg) রয়েছে।
৩. তামাক সেবনের ক্ষতি: আকরামের জর্দাযুক্ত তামাক সেবনের অভ্যাস রক্তনালিকে শক্ত ও সংকুচিত করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে ধমনির ব্লকেজকে ত্বরান্বিত করেছে।
৪. সামগ্রিক মূল্যায়ন: পাঠ্যপুস্তকের নির্দেশনা মতে নিয়মিত শরীরচর্চা, চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার ও তামাক বর্জন করলে হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রাতুল স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করায় সুস্থ আছে, আর অসচেতনতার কারণে আকরাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সুতরাং জীবনধারার ভূমিকাই এখানে প্রধান।