পড়ার নোট
রক্তের অস্বাভাবিকতা হলো রক্তের উপাদানের পরিমাণ, উৎপাদন বা স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন। রক্তে যথেষ্ট কোষ থাকলেই সব কাজ ঠিকমতো হবে না; কোষগুলো কার্যক্ষমও হতে হবে। অক্সিজেন পরিবহন, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করা ভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভর করে। ফলে কোন উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সঙ্গে লক্ষণের সম্পর্ক থাকে।
লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে অক্সিজেন বহন করে। লোহিত রক্তকোষ বা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিতে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হয়। তখন দেহের বিভিন্ন অংশ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। রোগী দুর্বল ও ক্লান্ত বোধ করতে পারে, ফ্যাকাশে দেখাতে পারে এবং অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। পুষ্টির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এর সংখ্যা কমে গেলে ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না। কখনো আঘাত ছাড়াই নাক বা দাঁতের গোড়া থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ত্বকে ছোট লাল দাগও দেখা দিতে পারে।
শ্বেত রক্তকোষ জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অংশ নেয়। সংক্রমণের সময় এদের সংখ্যা বাড়তে পারে। কিন্তু অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকোষ তৈরি হলে সংখ্যা বেশি হলেও স্বাভাবিক প্রতিরোধ নাও হতে পারে। লিউকেমিয়ায় এমন কোষের বৃদ্ধি অন্য রক্তকোষের উৎপাদনও কমিয়ে দিতে পারে। ফলে একই রোগীর দুর্বলতা, রক্তপাত এবং বারবার সংক্রমণ একসঙ্গে দেখা সম্ভব।
ভ্রূণ অবস্থায় যকৃৎ ও প্লীহায় লোহিত রক্তকোষ তৈরি হয়; পরে লাল অস্থিমজ্জা গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনস্থল। তাই অস্থিমজ্জার সমস্যা শুধু একটি কোষের নয়, রক্তের একাধিক কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। খাদ্যঘাটতি, সংক্রমণ, বংশগত ত্রুটি ও রক্ত উৎপাদনের রোগের প্রভাব এক রকম নয়।
যেমন, স্কুলের সিঁড়ি উঠলেই কোনো শিক্ষার্থী ক্লান্ত হয়ে পড়লে শুধু অলস বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রক্তশূন্যতাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে; একটি লক্ষণ দিয়ে নির্দিষ্ট রোগ নিশ্চিত করা যায় না।
সাধারণ ভুল হলো শ্বেত রক্তকোষ বেশি মানেই রোগ প্রতিরোধ বেশি ভাবা।
মনে রাখো: সুস্থ রক্তের জন্য প্রতিটি উপাদানের যথাযথ পরিমাণ ও স্বাভাবিক কাজ দুটোই দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।