offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ২৯

লিউকেমিয়া

পড়ার নোট

লিউকেমিয়া রক্ত উৎপাদন-ব্যবস্থার অস্বাভাবিকতাজনিত ক্যান্সার। একে সাধারণভাবে রক্তের ক্যান্সার বলা হলেও প্রধান আক্রান্ত স্থান অস্থিমজ্জা, যেখানে রক্তকোষ তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকোষের উৎপাদন ও বৃদ্ধি ঘটে। এসব ক্যান্সার কোষ সংখ্যায় বাড়লেও স্বাভাবিক শ্বেত রক্তকোষের মতো রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না।

রোগের প্রভাব বুঝতে রক্তের তিন ধরনের কোষের কাজ একসঙ্গে ভাবতে হবে। অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকোষ তৈরি করলে পরোক্ষভাবে লোহিত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকার উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই এটি শুধু শ্বেত রক্তকোষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সমস্যা নয়; রক্তের অন্য কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • লোহিত রক্তকোষ কমে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়। ফলে রোগী দুর্বল ও ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
  • অণুচক্রিকা কমে রক্ত জমাট বাঁধায় সমস্যা হয়। নাক, দাঁতের গোড়া বা অন্য স্থান থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে পারে, কখনো আঘাত ছাড়াও। সহজে কালশিটে বা ত্বকে ছোট লাল দাগ দেখা দিতে পারে।
  • অস্বাভাবিক শ্বেত রক্তকোষ কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারে না। ফলে রোগী সহজে জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়; দীর্ঘস্থায়ী জ্বর ও লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া দেখা দিতে পারে।

পায়ের গিঁটে ব্যথা ও ফোলাও হতে পারে। লিউকেমিয়ার অনেক ধরন আছে, তাই সব রোগীর লক্ষণ এক রকম নয়। কোষের জিনগত পরিবর্তন এবং কিছু বিকিরণ বা রাসায়নিকের প্রভাব এর ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে; প্রতিটি রোগীর নির্দিষ্ট কারণ শুধু লক্ষণ দেখে বলা যায় না।

প্রধান চিকিৎসার মধ্যে কেমোথেরাপি, অর্থাৎ ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে ওষুধের চিকিৎসা, এবং অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন রয়েছে। রোগের ধরন অনুসারে চিকিৎসা বদলায়। প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করলে নিরাময়ের সম্ভাবনা থাকে।

ধরো, স্কুলের এক শিক্ষার্থীর দীর্ঘ জ্বরের সঙ্গে ফ্যাকাশে ভাব ও বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। লক্ষণগুলোর পেছনে পৃথক রক্তকোষের কাজের ব্যাঘাত থাকতে পারে; পরীক্ষা ছাড়া লিউকেমিয়া ধরে নেওয়া যাবে না।

সাধারণ ভুল হলো বেশি শ্বেত রক্তকোষকে সব সময় ভালো প্রতিরোধক্ষমতার লক্ষণ ভাবা।

মনে রাখো: লিউকেমিয়ায় অস্বাভাবিক রক্তকোষের বৃদ্ধি রক্তের স্বাভাবিক উৎপাদন ও একাধিক কাজ ব্যাহত করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো