offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · জীবকোষ ও টিস্যু

জাইলেম ও ফ্লোয়েমের পার্থক্য

সর্বশেষ হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ ওপরের দিকে পাতায় পৌঁছে দেয় এবং গাছকে দৃঢ়তা দেয়; এর প্রধান কোষগুলো (ট্রাকিড, ভেসেল) মৃত। ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য গাছের সব অংশে, ওপরে-নিচে দুই দিকেই পৌঁছে দেয়; এর প্রধান কোষগুলো (সিভ নল, সঙ্গীকোষ) জীবিত। দুটিই জটিল টিস্যু, অর্থাৎ একাধিক ধরনের কোষে গঠিত।

জাইলেম ও ফ্লোয়েম: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়জাইলেমফ্লোয়েম
কী পরিবহন করে

পানি ও খনিজ লবণ

পাতায় তৈরি খাদ্য

পরিবহনের দিক

একমুখী: মূল থেকে ওপরে পাতার দিকে

দ্বিমুখী: পাতা থেকে ওপরে ও নিচে উভয় দিকে

কোষের অবস্থা

প্রধান কোষগুলো মৃত

প্রধান কোষগুলো জীবিত

উপাদান

ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা, জাইলেম ফাইবার

সিভ নল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা, ফ্লোয়েম ফাইবার

দৃঢ়তা প্রদান

পুরু প্রাচীরের জন্য গাছকে দৃঢ়তা দেয়

দৃঢ়তায় ভূমিকা সামান্য

পরিবহনের চালিকা

প্রস্বেদনের টান ও মূলজ চাপ

জীবিত কোষের সক্রিয় কাজ

জাইলেম

জাইলেম একটি জটিল টিস্যু, যা মূল দিয়ে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ কাণ্ড পেরিয়ে পাতায় পৌঁছে দেয়। এর প্রধান উপাদান ট্রাকিড আর ভেসেল লম্বা, ফাঁপা ও মৃত কোষ; ঘরের পানির পাইপের মতো এদের ভেতর দিয়ে পানি ওঠে। পুরু প্রাচীরের কারণে জাইলেম গাছকে খাড়া থাকতেও সাহায্য করে। পাতা থেকে প্রস্বেদনে পানি বের হয়ে গেলে যে টান তৈরি হয়, সেটিই জাইলেমের পানিকে ওপরে টেনে তোলে।

ফ্লোয়েম

ফ্লোয়েম পাতায় সালোকসংশ্লেষণে তৈরি খাদ্য গাছের সব অংশে পাঠায়: ওপরে কচি পাতা ও ফুলে, আবার নিচে মূল ও কন্দে। এর প্রধান উপাদান সিভ নল ও সঙ্গীকোষ জীবিত কোষ। আলু বা মিষ্টি আলুতে যে খাদ্য জমা থাকে, তা ফ্লোয়েম দিয়েই সেখানে পৌঁছায়।

মিল কোথায়

  • দুটিই জটিল টিস্যু: একাধিক ধরনের কোষ মিলে একটি কাজ করে।
  • দুটিই পরিবহন টিস্যু, আর গাছে পাশাপাশি থেকে ভাস্কুলার বান্ডল গঠন করে।
  • দুটিতেই প্যারেনকাইমা ও ফাইবার থাকে।

মনে রাখার সহজ উপায়

জাইলেম = জল: দুটিই "জ" দিয়ে শুরু, জাইলেম পানি তোলে। আর ফ্লোয়েম = ফল-খাবার: ফ্লোয়েম খাদ্য পৌঁছে দেয়।

সাধারণ ভুল

  • জাইলেম দিয়ে খাদ্য যায় লেখা। জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ নেয়; খাদ্য নেয় ফ্লোয়েম।
  • ফ্লোয়েমের পরিবহন কেবল নিচের দিকে ভাবা। ফ্লোয়েম ওপরে-নিচে দুই দিকেই খাদ্য পাঠায়।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" এলে কাজ আর কোষের অবস্থা দিয়ে লেখো:

জাইলেমফ্লোয়েম
১. পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।১. খাদ্য পরিবহন করে।
২. প্রধান কোষগুলো মৃত।২. প্রধান কোষগুলো জীবিত।
৩. পরিবহন একমুখী (ওপরের দিকে)।৩. পরিবহন দ্বিমুখী।

উদ্দীপকে গাছ ঝিমিয়ে পড়া বা পানি না ওঠার কথা থাকলে জাইলেমের কথা ভাবো; ফল বা কন্দে খাবার জমার কথা থাকলে ফ্লোয়েমের।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি আম গাছে পাতায় প্রস্তুতকৃত জৈব খাদ্য দ্রবণ সারা দেহে পরিবহনের সময় ফ্লোয়েম টিস্যুর কোন উপাদানটি পরিণত অবস্থায় নিউক্লিয়াসবিহীন হলেও সজীব প্রোটোপ্লাজমের সাহায্যে খাদ্য পরিবহন চালায়?

    1. ক

      সীভনল

    2. খ

      সঙ্গীকোষ

    3. গ

      ট্রাকিড

    4. ঘ

      ফ্লোয়েম ফাইবার

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) সীভনল

    1. ফ্লোয়েম টিস্যুর প্রধান সংবহন উপাদান হলো সীভকোষ বা সীভনল (sieve tube)। এরা লম্বাটে এবং একটির মাথায় আরেকটি বসে নলের মতো তৈরি হয়, যার সংযোগস্থলে ছিদ্রযুক্ত সীভপ্লেট থাকে।
    2. পরিণত অবস্থায় সীভনলে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না, তবে এদের পাতলা সাইটোপ্লাজমীয় স্তর সজীব থাকে এবং পাতায় তৈরি শর্করা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
  2. দিনাজপুরের একটি কৃষি গবেষণা খামারে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভুট্টা গাছ (Zea mays) মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে দিনে মোট ৫০০ mL পানি শোষণ করে। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে উদ্ভিদ শোষিত পানির শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগই প্রস্বেদনের (transpiration) মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে এবং মাত্র ১ ভাগ পানি জৈবিক ও বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। ওই ভুট্টা গাছটি একদিনে প্রস্বেদনের মাধ্যমে কত মিলিলিটার (mL) পানি বাতাসে বের করে দেবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৯৫ mL

    1. গাছটির মোট শোষিত পানির পরিমাণ V = ৫০০ mL এবং প্রস্বেদনে নির্গত পানির শতকরা হার = ৯৯%।
    Vtotal=500 mL,Rate=99%V_{\text{total}} = 500\text{ mL},\quad \text{Rate} = 99\%
    1. প্রস্বেদনের মাধ্যমে নির্গত পানির আয়তন = শোষিত পানির আয়তন × ৯৯% = ৫০০ mL × (৯৯ ÷ ১০০) = ৪৯৫ mL।
    Vtranspired=500 mL×0.99=495 mLV_{\text{transpired}} = 500\text{ mL} \times 0.99 = 495\text{ mL}
  3. বিজ্ঞানী কার্টিস উদ্ভিদের প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (A necessary evil) হিসেবে অভিহিত করেছেন কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট টান উদ্ভিদের মূলরোম থেকে পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহণ নিশ্চিত করে, কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখে এবং পাতাকে শীতল রাখে বলে এটি উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বা অতিপ্রয়োজনীয়। তবে মাটি থেকে পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে কোষগুলো রসস্ফীতি হারিয়ে গাছ ঢলে পড়ে এবং তীব্র পানিশূন্যতায় উদ্ভিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ যা উদ্ভিদের জীবনের জন্য অপরিহার্য, তার অতিরিক্ত মাত্রাই আবার ধ্বংস ডেকে আনে বলেই বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' বলেছেন।

    1. প্রস্বেদনের প্রয়োজনীয় দিক: প্রস্বেদন টান (transpiration pull) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণ অব্যাহত রাখে, সালোকসংশ্লেষণে পানির জোগান দেয় এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।
    2. প্রস্বেদনের ক্ষতিকর দিক: খরার সময় বা মাটিতে পানির অভাব হলে অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদে মারাত্মক পানিশূন্যতা ঘটে, যার ফলে গাছ নুয়ে পড়ে (wilting) এবং অবশেষ মৃত্যু হতে পারে।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

জাইলেম ও ফ্লোয়েমের কাজ কী?

জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় তোলে; ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য গাছের সব অংশে পৌঁছে দেয়।

জাইলেম ও ফ্লোয়েমকে জটিল টিস্যু বলা হয় কেন?

কারণ প্রতিটি একাধিক ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত, যেমন জাইলেমে ট্রাকিড, ভেসেল, প্যারেনকাইমা ও ফাইবার।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো