ব্যাপন কী?
ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের অণুর অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়া। এর জন্য বাইরে থেকে কোনো শক্তি লাগে না; অণুগুলো নিজেদের গতির কারণেই ছড়ায়, যতক্ষণ না সব জায়গায় ঘনত্ব সমান হয়। বাগানে ফুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়ায় ব্যাপনে, আর পাতার কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে আর অক্সিজেন বের হয় এই একই প্রক্রিয়ায়।
অভিস্রবণ কী?
অভিস্রবণ হলো অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা করা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে দ্রাবকের চলাচল: পানি কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যায়। অর্ধভেদ্য পর্দা দ্রাবকের অণু যেতে দেয়, কিন্তু দ্রবের কণাগুলোকে যেতে দেয় না। উদ্ভিদের মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে অভিস্রবণে: মাটির পানি পাতলা, মূলরোমের কোষরস ঘন, তাই পানি কোষের ভেতরে ঢোকে।
অভিস্রবণকে কেন বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলে?
অভিস্রবণেও অণু চলে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে, ব্যাপনের মতোই। তফাত শুধু দুটি শর্তে: এখানে চলে কেবল দ্রাবক (পানি), আর চলাচল হয় অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে। ব্যাপনের সাধারণ নিয়মের ওপর এই দুটি শর্ত যোগ হয় বলে অভিস্রবণকে এক বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয়।
বাস্তব জীবনে
আলুর টুকরা ঘন লবণ পানিতে রাখলে আলুর কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, তাই টুকরাটি নরম হয়ে কুঁচকে যায়। একে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। উল্টোটা ঘটে শুকনো কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে: পানি কিশমিশের ভেতরে ঢোকে (অন্তঃঅভিস্রবণ), তাই কিশমিশ ফুলে ওঠে। মাছ বা আচার লবণ দিয়ে সংরক্ষণও একই নীতিতে কাজ করে: লবণ জীবাণুর কোষ থেকে পানি বের করে নেয়।
সাধারণ ভুল
- অভিস্রবণে পানির দিক উল্টে লেখা। পানি যায় পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে, অর্থাৎ যেদিকে দ্রবীভূত পদার্থ বেশি।
- ব্যাপনের জন্য পর্দা আবশ্যক ভাবা। ব্যাপনে পর্দা লাগে না; পর্দা লাগে অভিস্রবণে।