offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · জীবে পরিবহণ

ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য (উদাহরণসহ)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ব্যাপনে যেকোনো পদার্থের অণু অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে নিজে থেকে ছড়িয়ে পড়ে; এর জন্য কোনো পর্দা লাগে না। অভিস্রবণে কেবল দ্রাবক, সাধারণত পানি, একটি অর্ধভেদ্য পর্দা পেরিয়ে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যায়। তাই অভিস্রবণ এক বিশেষ ধরনের ব্যাপন।

ব্যাপন ও অভিস্রবণ: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ব্যাপনঅভিস্রবণ
কী চলাচল করে

যেকোনো গ্যাস বা তরল পদার্থের অণু (দ্রব বা দ্রাবক দুটিই)

কেবল দ্রাবকের অণু, সাধারণত পানি

পর্দার প্রয়োজন

পর্দা লাগে না

অবশ্যই একটি অর্ধভেদ্য পর্দা লাগে

চলাচলের দিক

পদার্থটির অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে

কম ঘনত্বের (পাতলা) দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের (ঘন) দ্রবণের দিকে পানি যায়

মাধ্যম

কঠিন, তরল ও গ্যাস তিন মাধ্যমেই

কেবল তরল দ্রবণে

কখন থামে

সব জায়গায় ঘনত্ব সমান হলে

পানির নিট প্রবাহ থেমে গেলে (সাধারণত দুই পাশের ঘনত্ব সমান হলে)

সম্পর্ক

সাধারণ প্রক্রিয়া

এক বিশেষ ধরনের ব্যাপন

উদাহরণ

ফুলের সুগন্ধ ছড়ানো; পাতায় বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রবেশ; পানিতে রঙের ছড়িয়ে পড়া

মূলরোমে মাটির পানি শোষণ; লবণ পানিতে আলুর টুকরা কুঁচকে যাওয়া; পানিতে কিশমিশ ফুলে ওঠা

ব্যাপন কী?

ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের অণুর অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়া। এর জন্য বাইরে থেকে কোনো শক্তি লাগে না; অণুগুলো নিজেদের গতির কারণেই ছড়ায়, যতক্ষণ না সব জায়গায় ঘনত্ব সমান হয়। বাগানে ফুলের সুগন্ধ চারদিকে ছড়ায় ব্যাপনে, আর পাতার কোষে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঢোকে আর অক্সিজেন বের হয় এই একই প্রক্রিয়ায়।

অভিস্রবণ কী?

অভিস্রবণ হলো অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা করা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে দ্রাবকের চলাচল: পানি কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যায়। অর্ধভেদ্য পর্দা দ্রাবকের অণু যেতে দেয়, কিন্তু দ্রবের কণাগুলোকে যেতে দেয় না। উদ্ভিদের মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে অভিস্রবণে: মাটির পানি পাতলা, মূলরোমের কোষরস ঘন, তাই পানি কোষের ভেতরে ঢোকে।

অভিস্রবণকে কেন বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলে?

অভিস্রবণেও অণু চলে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে, ব্যাপনের মতোই। তফাত শুধু দুটি শর্তে: এখানে চলে কেবল দ্রাবক (পানি), আর চলাচল হয় অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে। ব্যাপনের সাধারণ নিয়মের ওপর এই দুটি শর্ত যোগ হয় বলে অভিস্রবণকে এক বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয়।

বাস্তব জীবনে

আলুর টুকরা ঘন লবণ পানিতে রাখলে আলুর কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, তাই টুকরাটি নরম হয়ে কুঁচকে যায়। একে বহিঃঅভিস্রবণ বলে। উল্টোটা ঘটে শুকনো কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে: পানি কিশমিশের ভেতরে ঢোকে (অন্তঃঅভিস্রবণ), তাই কিশমিশ ফুলে ওঠে। মাছ বা আচার লবণ দিয়ে সংরক্ষণও একই নীতিতে কাজ করে: লবণ জীবাণুর কোষ থেকে পানি বের করে নেয়।

সাধারণ ভুল

  • অভিস্রবণে পানির দিক উল্টে লেখা। পানি যায় পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে, অর্থাৎ যেদিকে দ্রবীভূত পদার্থ বেশি।
  • ব্যাপনের জন্য পর্দা আবশ্যক ভাবা। ব্যাপনে পর্দা লাগে না; পর্দা লাগে অভিস্রবণে।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

এই অধ্যায় থেকে দুই ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে। প্রথমটি সরাসরি: "ব্যাপন ও অভিস্রবণের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো"। দুই কলামে পাশাপাশি লেখো:

ব্যাপনঅভিস্রবণ
১. যেকোনো পদার্থের অণু চলাচল করে।১. কেবল দ্রাবকের অণু চলাচল করে।
২. কোনো পর্দার প্রয়োজন হয় না।২. অর্ধভেদ্য পর্দার প্রয়োজন হয়।

দ্বিতীয়টি অনুধাবনমূলক (খ): "অভিস্রবণকে বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয় কেন?" এখানে প্রথমে এক লাইনে ব্যাপনের মিলটা বলো (ঘনত্বের পার্থক্যে চলাচল), তারপর দুটি শর্ত লেখো: কেবল দ্রাবক চলে, আর চলে অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে। উদ্দীপকে আলু, কিশমিশ বা লবণে সংরক্ষণের কথা থাকলে বুঝবে প্রশ্নটি অভিস্রবণের, আর পানি কোন দিকে গেল তা দিয়ে অন্তঃ না বহিঃঅভিস্রবণ ঠিক করবে।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মুন্সীগঞ্জে রান্নার জন্য একটি সতেজ গোল আলুর (Solanum tuberosum) টুকরো গাঢ় লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হলো। আলুর কোষরসের ঘনত্বের চেয়ে বাইরের লবণ দ্রবণের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বৈষম্যভেদ্য পর্দা ভেদ করে কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে আলু নরম ও কুঁচকে গেল। এই প্রক্রিয়াটির নাম কী?

    1. ক

      বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis)

    2. খ

      অন্তঃঅভিস্রবণ (Endosmosis)

    3. গ

      ইমবাইবিশন (Imbibition)

    4. ঘ

      ব্যাপন (Diffusion)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis)

    1. অভিস্রবণ হলো একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পৃথক করা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের (পানির) স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ।
    2. যখন কোনো জীবকোষকে পরিবেশের অতিসারক (hypertonic) বা অধিক ঘন দ্রবণে রাখা হয়, তখন কোষের ভেতর থেকে পানি বৈষম্যভেদ্য কোষঝিল্লি ভেদ করে বাইরে চলে আসে, যাকে বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) বলে। এর ফলে আলুর কোষরস হ্রাস পেয়ে তা সংকুচিত ও নরম হয়ে যায়।
  2. ময়মনসিংহের একটি কৃষি গবেষণাগারে একই তাপমাত্রা (25 °C) ও চাপে চারটি গ্যাস রাখা আছে: মিথেন (CH₄, আণবিক ভর 16 g/mol), অ্যামোনিয়া (NH₃, আণবিক ভর 17 g/mol), অক্সিজেন (O₂, আণবিক ভর 32 g/mol) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂, আণবিক ভর 44 g/mol)। গ্যাস চারটিকে একই সাথে মুক্ত করে দিলে কোনটির ব্যাপন হার (rate of diffusion) সবচেয়ে বেশি হবে?

    1. ক

      মিথেন (CH₄)

    2. খ

      অ্যামোনিয়া (NH₃)

    3. গ

      অক্সিজেন (O₂)

    4. ঘ

      কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মিথেন (CH₄)

    1. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের ব্যাপন হার তার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক (গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র); অর্থাৎ যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি।
    r∝1Mr \propto \frac{1}{\sqrt{M}}
    1. গ্যাসগুলোর আণবিক ভরের ক্রম: CH₄ (16 g/mol) < NH₃ (17 g/mol) < O₂ (32 g/mol) < CO₂ (44 g/mol)। মিথেনের (CH₄) আণবিক ভর সর্বনিম্ন হওয়ায় এর কণাগুলোর গতিবেগ সর্বাধিক এবং ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি।
  3. বগুড়ার একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে শিক্ষার্থীরা ৯০ cm লম্বা একটি অনুভূমিক কাচনল নিয়ে ব্যাপন পরীক্ষা পরিচালনা করল। কাচনলটির বাম মুখ দিয়ে মিথেন গ্যাস (CH₄, আণবিক ভর 16 g/mol) এবং ডান মুখ দিয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস (SO₂, আণবিক ভর 64 g/mol) একই সাথে একই তাপমাত্রা (25 °C) ও চাপে প্রবেশ করানো হলো। গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র অনুসারে ব্যাপন দূরত্বের অনুপাত আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক: d₁ ⁄ d₂ = √(M₂ ⁄ M₁), যেখানে d₁ + d₂ = ৯০ cm। মিথেন গ্যাস (CH₄) প্রান্ত থেকে কত সেন্টিমিটার (cm) দূরে গ্যাস দুটি মিলিত হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৬০ cm

    1. মিথেন ও সালফার ডাই-অক্সাইডের আণবিক ভর যথাক্রমে M₁ = ১৬ g/mol এবং M₂ = ৬৪ g/mol। কাচনলের মোট দৈর্ঘ্য d₁ + d₂ = ৯০ cm।
    M1=16 g/mol,M2=64 g/mol,d1+d2=90 cmM_1 = 16\text{ g/mol}, \quad M_2 = 64\text{ g/mol}, \quad d_1 + d_2 = 90\text{ cm}
    1. গ্রাহামের সূত্রানুসারে দূরত্বের অনুপাত: d₁ ⁄ d₂ = √(৬৪ ⁄ ১৬) = √৪ = ২। অর্থাৎ d₁ = ২ d₂।
    d1d2=6416=4=2  ⟹  d1=2d2\frac{d_1}{d_2} = \sqrt{\frac{64}{16}} = \sqrt{4} = 2 \implies d_1 = 2d_2
    1. সমীকরণে মান বসিয়ে পাই: ২ d₂ + d₂ = ৯০ ⇒ ৩ d₂ = ৯০ ⇒ d₂ = ৩০ cm। অতএব মিথেন প্রান্ত থেকে দূরত্ব d₁ = ২ × ৩০ = ৬০ cm।
    3d2=90 cm  ⟹  d2=30 cm,d1=2×30 cm=60 cm3d_2 = 90\text{ cm} \implies d_2 = 30\text{ cm}, \quad d_1 = 2 \times 30\text{ cm} = 60\text{ cm}

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ব্যাপন ও অভিস্রবণের মূল পার্থক্য কী?

ব্যাপনে যেকোনো পদার্থের অণু পর্দা ছাড়াই অধিক ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বে ছড়ায়; অভিস্রবণে কেবল দ্রাবক (পানি) অর্ধভেদ্য পর্দা পেরিয়ে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে যায়।

অভিস্রবণকে বিশেষ ধরনের ব্যাপন বলা হয় কেন?

কারণ অভিস্রবণও ঘনত্বের পার্থক্যে অণুর চলাচল, তবে এতে কেবল দ্রাবক চলে এবং তা চলে অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে।

লবণ পানিতে আলুর টুকরা কুঁচকে যায় কেন?

লবণ পানি আলুর কোষরসের চেয়ে ঘন, তাই বহিঃঅভিস্রবণে কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে যায় এবং টুকরাটি নরম হয়ে কুঁচকে যায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো