পড়ার নোট
ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের কণার উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া। কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমে ব্যাপন ঘটতে পারে। এখানে ঘনমাত্রা বলতে নির্দিষ্ট আয়তনে ছড়িয়ে থাকা পদার্থের কণার পরিমাণ বোঝায়। পানিতে এক ফোঁটা রং দিলে না নাড়লেও ধীরে ধীরে রং ছড়িয়ে পড়া ব্যাপনের উদাহরণ।
নিঃসরণ হলো গ্যাসের কণাগুলোর অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়াই একে একে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। যেমন, বেলুন বা রিকশার টায়ারের অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বেরিয়ে যায়।
কণার গতিতত্ত্ব অনুযায়ী কণাগুলো গতিশীল। এই গতির কারণে ব্যাপন ঘটে এবং গ্যাসের কণা ক্ষুদ্র ছিদ্রের কাছে পৌঁছালে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
| তুলনার বিষয় | ব্যাপন | নিঃসরণ |
|---|---|---|
| মূল ঘটনা | কণার ছড়িয়ে মিশে যাওয়া | গ্যাসের কণার বেরিয়ে যাওয়া |
| ছিদ্রের প্রয়োজন | নেই | অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র আবশ্যক |
| সংঘর্ষ | ছড়ানোর সময় সংঘর্ষ ঘটতে পারে | ছিদ্র দিয়ে যাওয়ার সময় পারস্পরিক সংঘর্ষ হয় না |
হারের ক্ষেত্রে মনে রাখবে:
- গ্যাসীয় মাধ্যমে ব্যাপন সাধারণত সবচেয়ে দ্রুত, তরলে ধীর এবং কঠিনে আরও ধীর। এই তুলনা নিঃসরণের জন্য নয়, কারণ নিঃসরণ গ্যাসের ক্ষেত্রে ঘটে।
- তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, তাই ব্যাপন দ্রুত হয়।
- একই অবস্থায় কম আণবিক ভরের গ্যাস দ্রুত ব্যাপিত ও নিঃসরিত হয়।
অ্যামোনিয়ার আণবিক ভর (১৭) হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের আণবিক ভরের (৩৬.৫) চেয়ে কম, তাই অ্যামোনিয়া দ্রুত ব্যাপিত হয়। কাচনলের দুই প্রান্ত থেকে এরা ছড়ালে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাদা ধোঁয়া হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের প্রান্তের কাছে তৈরি হয়:
এখানে অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড এবং অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের রাসায়নিক সংকেত।
নিঃসরণের ব্যবহার হিসেবে গ্যাসলাইনের ক্ষুদ্র লিক শনাক্ত করা যায়। লিকের স্থানে সাবান পানির বুদবুদ গ্যাস বের হওয়ার লক্ষণ। নিঃসরণের হার তুলনা করে গ্যাসের মোলার ভর সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
মনে রাখো: ব্যাপন হলো কণার ছড়িয়ে মেশা, আর নিঃসরণ হলো অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের কণার একে একে বের হওয়া।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।