offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ২ · টপিক ৫

ব্যাপন ও নিঃসরণ

পড়ার নোট

ব্যাপন হলো কোনো পদার্থের কণার উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া। কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় মাধ্যমে ব্যাপন ঘটতে পারে। এখানে ঘনমাত্রা বলতে নির্দিষ্ট আয়তনে ছড়িয়ে থাকা পদার্থের কণার পরিমাণ বোঝায়। পানিতে এক ফোঁটা রং দিলে না নাড়লেও ধীরে ধীরে রং ছড়িয়ে পড়া ব্যাপনের উদাহরণ।

নিঃসরণ হলো গ্যাসের কণাগুলোর অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ ছাড়াই একে একে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। যেমন, বেলুন বা রিকশার টায়ারের অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বেরিয়ে যায়।

কণার গতিতত্ত্ব অনুযায়ী কণাগুলো গতিশীল। এই গতির কারণে ব্যাপন ঘটে এবং গ্যাসের কণা ক্ষুদ্র ছিদ্রের কাছে পৌঁছালে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।

তুলনার বিষয়ব্যাপননিঃসরণ
মূল ঘটনাকণার ছড়িয়ে মিশে যাওয়াগ্যাসের কণার বেরিয়ে যাওয়া
ছিদ্রের প্রয়োজননেইঅতি ক্ষুদ্র ছিদ্র আবশ্যক
সংঘর্ষছড়ানোর সময় সংঘর্ষ ঘটতে পারেছিদ্র দিয়ে যাওয়ার সময় পারস্পরিক সংঘর্ষ হয় না

হারের ক্ষেত্রে মনে রাখবে:

  • গ্যাসীয় মাধ্যমে ব্যাপন সাধারণত সবচেয়ে দ্রুত, তরলে ধীর এবং কঠিনে আরও ধীর। এই তুলনা নিঃসরণের জন্য নয়, কারণ নিঃসরণ গ্যাসের ক্ষেত্রে ঘটে।
  • তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, তাই ব্যাপন দ্রুত হয়।
  • একই অবস্থায় কম আণবিক ভরের গ্যাস দ্রুত ব্যাপিত ও নিঃসরিত হয়।

অ্যামোনিয়ার আণবিক ভর (১৭) হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের আণবিক ভরের (৩৬.৫) চেয়ে কম, তাই অ্যামোনিয়া দ্রুত ব্যাপিত হয়। কাচনলের দুই প্রান্ত থেকে এরা ছড়ালে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাদা ধোঁয়া হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের প্রান্তের কাছে তৈরি হয়:

NH3+HCl→NH4Cl\mathrm{NH_3 + HCl \rightarrow NH_4Cl}

এখানে NH3\mathrm{NH_3} অ্যামোনিয়া, HCl\mathrm{HCl} হাইড্রোজেন ক্লোরাইড এবং NH4Cl\mathrm{NH_4Cl} অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের রাসায়নিক সংকেত।

নিঃসরণের ব্যবহার হিসেবে গ্যাসলাইনের ক্ষুদ্র লিক শনাক্ত করা যায়। লিকের স্থানে সাবান পানির বুদবুদ গ্যাস বের হওয়ার লক্ষণ। নিঃসরণের হার তুলনা করে গ্যাসের মোলার ভর সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

মনে রাখো: ব্যাপন হলো কণার ছড়িয়ে মেশা, আর নিঃসরণ হলো অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের কণার একে একে বের হওয়া।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ব্যাপনচালিয়ে দেখো

    ১০০ cm লম্বা একটি কাচনলের দুই মুখে একই গ্যাস অ্যামোনিয়া (NH₃, আণবিক ভর ১৭) থাকলে উভয় গ্যাসের ব্যাপন হার সমান হওয়ায় তারা ঠিক মাঝখানে (৫০ cm দূরে) মিলিত হয়। এবার বাম মুখে অ্যামোনিয়া রেখে ডান মুখে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl, আণবিক ভর ৩৬.৫) ভেজানো তুলা রাখা হলো। গ্যাস দুটি পরস্পরের দিকে ব্যাপিত হলে কঠিন NH₄Cl-এর সাদা ধোঁয়ার বলয়টি NH₃ প্রান্ত থেকে কত দূরে তৈরি হবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ময়মনসিংহের একটি কৃষি গবেষণাগারে একই তাপমাত্রা (25 °C) ও চাপে চারটি গ্যাস রাখা আছে: মিথেন (CH₄, আণবিক ভর 16 g/mol), অ্যামোনিয়া (NH₃, আণবিক ভর 17 g/mol), অক্সিজেন (O₂, আণবিক ভর 32 g/mol) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂, আণবিক ভর 44 g/mol)। গ্যাস চারটিকে একই সাথে মুক্ত করে দিলে কোনটির ব্যাপন হার (rate of diffusion) সবচেয়ে বেশি হবে?

    1. ক

      মিথেন (CH₄)

    2. খ

      অ্যামোনিয়া (NH₃)

    3. গ

      অক্সিজেন (O₂)

    4. ঘ

      কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মিথেন (CH₄)

    1. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের ব্যাপন হার তার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক (গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র); অর্থাৎ যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি।
    r∝1Mr \propto \frac{1}{\sqrt{M}}
    1. গ্যাসগুলোর আণবিক ভরের ক্রম: CH₄ (16 g/mol) < NH₃ (17 g/mol) < O₂ (32 g/mol) < CO₂ (44 g/mol)। মিথেনের (CH₄) আণবিক ভর সর্বনিম্ন হওয়ায় এর কণাগুলোর গতিবেগ সর্বাধিক এবং ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি।
  2. বগুড়ার একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে শিক্ষার্থীরা ৯০ cm লম্বা একটি অনুভূমিক কাচনল নিয়ে ব্যাপন পরীক্ষা পরিচালনা করল। কাচনলটির বাম মুখ দিয়ে মিথেন গ্যাস (CH₄, আণবিক ভর 16 g/mol) এবং ডান মুখ দিয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস (SO₂, আণবিক ভর 64 g/mol) একই সাথে একই তাপমাত্রা (25 °C) ও চাপে প্রবেশ করানো হলো। গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র অনুসারে ব্যাপন দূরত্বের অনুপাত আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক: d₁ ⁄ d₂ = √(M₂ ⁄ M₁), যেখানে d₁ + d₂ = ৯০ cm। মিথেন গ্যাস (CH₄) প্রান্ত থেকে কত সেন্টিমিটার (cm) দূরে গ্যাস দুটি মিলিত হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৬০ cm

    1. মিথেন ও সালফার ডাই-অক্সাইডের আণবিক ভর যথাক্রমে M₁ = ১৬ g/mol এবং M₂ = ৬৪ g/mol। কাচনলের মোট দৈর্ঘ্য d₁ + d₂ = ৯০ cm।
    M1=16 g/mol,M2=64 g/mol,d1+d2=90 cmM_1 = 16\text{ g/mol}, \quad M_2 = 64\text{ g/mol}, \quad d_1 + d_2 = 90\text{ cm}
    1. গ্রাহামের সূত্রানুসারে দূরত্বের অনুপাত: d₁ ⁄ d₂ = √(৬৪ ⁄ ১৬) = √৪ = ২। অর্থাৎ d₁ = ২ d₂।
    d1d2=6416=4=2  ⟹  d1=2d2\frac{d_1}{d_2} = \sqrt{\frac{64}{16}} = \sqrt{4} = 2 \implies d_1 = 2d_2
    1. সমীকরণে মান বসিয়ে পাই: ২ d₂ + d₂ = ৯০ ⇒ ৩ d₂ = ৯০ ⇒ d₂ = ৩০ cm। অতএব মিথেন প্রান্ত থেকে দূরত্ব d₁ = ২ × ৩০ = ৬০ cm।
    3d2=90 cm  ⟹  d2=30 cm,d1=2×30 cm=60 cm3d_2 = 90\text{ cm} \implies d_2 = 30\text{ cm}, \quad d_1 = 2 \times 30\text{ cm} = 60\text{ cm}
  3. সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার পরীক্ষাগারে একজন রসায়নবিদ গ্যাসীয় নমুনার বিশুদ্ধতা যাচাই করছেন। একই তাপমাত্রা ও চাপে একটি নির্দিষ্ট সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে ১০০ mL হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂, আণবিক ভর 2 g/mol) ব্যাপিত হতে ৫ সেকেন্ড সময় লাগে। একই অবস্থায় সমপরিমাণ (১০০ mL) অপর একটি অজ্ঞাত গ্যাসীয় নমুনা ব্যাপিত হতে ২০ সেকেন্ড সময় লাগে। গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র অনুসারে ব্যাপন সময় ও আণবিক ভরের সম্পর্ক: t₂ ⁄ t₁ = √(M₂ ⁄ M₁)। অজ্ঞাত গ্যাসটির আণবিক ভর (molar mass) কত g/mol?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৩২ g/mol

    1. উদ্দীপক অনুসারে হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ব্যাপন সময় t₁ = ৫ s এবং আণবিক ভর M₁ = ২ g/mol। অজ্ঞাত গ্যাসের ব্যাপন সময় t₂ = ২০ s।
    t1=5 s,M1=2 g/mol,t2=20 st_1 = 5\text{ s}, \quad M_1 = 2\text{ g/mol}, \quad t_2 = 20\text{ s}
    1. সমআয়তনের গ্যাসের জন্য ব্যাপন সময়ের অনুপাত: t₂ ⁄ t₁ = ২০ ⁄ ৫ = ৪।
    t2t1=205=4\frac{t_2}{t_1} = \frac{20}{5} = 4
    1. গ্রাহামের সূত্রে মান বসিয়ে পাই: ৪ = √(M₂ ⁄ ২)। উভয় পক্ষকে বর্গ করলে: ১৬ = M₂ ⁄ ২ ⇒ M₂ = ১৬ × ২ = ৩২ g/mol।
    4=M22  ⟹  16=M22  ⟹  M2=32 g/mol4 = \sqrt{\frac{M_2}{2}} \implies 16 = \frac{M_2}{2} \implies M_2 = 32\text{ g/mol}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো