পড়ার নোট
ফুলের গন্ধ, ঘরের সুগন্ধি স্প্রে এবং পানিতে রং ছড়ানোর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় আছে: পদার্থের কণা স্থান পরিবর্তন করে আশপাশের মাধ্যমে মিশে যায়। উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে কণার এই স্বতঃস্ফূর্ত ছড়িয়ে পড়াকে ব্যাপন বলে। প্রতিটি ঘটনা বিশ্লেষণে কোন পদার্থ ছড়াচ্ছে এবং কোন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তা আলাদা করে চিনতে হবে।
বাড়ির উঠানে বেলি ফুলের কাছে সুগন্ধি কণার ঘনমাত্রা বেশি থাকে। ফুল থেকে আসা গন্ধযুক্ত কণা বায়ুতে ব্যাপিত হয়ে নাকে পৌঁছায়। রান্নার গন্ধ বা গরম চায়ের সুবাস পাওয়ার ক্ষেত্রেও বায়ু হলো মাধ্যম। কণাগুলো চলতে পারে বলেই উৎস থেকে কিছু দূরেও গন্ধ পাওয়া যায়।
সুগন্ধি স্প্রে করলে প্রথমে তরলের ছোট ফোঁটা বাইরে ছিটকে আসে। সুগন্ধির বাষ্প পরে বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন। স্প্রে করার যান্ত্রিক কাজ এবং পরে গন্ধের স্বতঃস্ফূর্ত ছড়ানোকে আলাদা করে বোঝা দরকার; সব ফোঁটা সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস হয়ে যায় না।
পানিতে তরল নীলের দ্রবণ দিলে প্রথমে ফোঁটার কাছে রং বেশি থাকে। পরে কণা ছড়িয়ে পুরো পানি নীল হয়। এটি তরল মাধ্যমে তরলের ব্যাপন। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের দানা দিলে দানা দ্রবীভূত হয় এবং তার কণা পানিতে ছড়িয়ে রঙিন দ্রবণ তৈরি করে। এখানে শুরুতে যোগ করা পদার্থটি কঠিন।
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাসও বায়ুতে মিশে ছড়ায়। উদ্ভিদের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণের ক্ষেত্রেও ব্যাপন ভূমিকা রাখে। গ্যাসীয় মাধ্যমে কণার চলাচল তুলনামূলক স্বাধীন বলে সাধারণত তরল মাধ্যমের চেয়ে ব্যাপন দ্রুত হয়। তাপমাত্রা বাড়লেও ব্যাপনের হার বাড়ে।
ফুটবলের অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হওয়া কিংবা গ্যাসলাইনের ছোট ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়া হলো নিঃসরণ। সেই গ্যাস বাইরে এসে বায়ুতে ছড়ানো হলো ব্যাপন। সাধারণ ভুল হলো, পানিতে রং ছড়ানোকে নিঃসরণ বলা অথবা স্প্রের প্রতিটি পর্যায়কে একই প্রক্রিয়া ধরা। ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়া এবং মাধ্যমে কণা ছড়ানো আলাদা লক্ষণ।
মনে রাখো: গন্ধ বা রং ছড়ানোর ব্যাখ্যায় ছড়ানো পদার্থ, মাধ্যম এবং কণার চলাচল চিহ্নিত করো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।