পড়ার নোট
গলন হলো তাপ গ্রহণ করে কঠিন পদার্থের তরলে পরিণত হওয়া। কণাগুলো এমনভাবে চলাচলের সুযোগ পায় যে তারা আর নির্দিষ্ট অবস্থানে আবদ্ধ থাকে না। স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ কঠিন যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, তাকে গলনাঙ্ক বলে। এই চাপে বরফের গলনাঙ্ক । শরবতের গ্লাসে বরফ গলে পানি হওয়া এর পরিচিত উদাহরণ।
বাষ্পীভবন হলো তরলের বাষ্পে পরিণত হওয়া। তরলের উপরিতল থেকে ধীরে বাষ্প তৈরি হতে পারে, যেমন উঠানে মেলে রাখা ভেজা কাপড়ের পানি শুকায়। আবার নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলের সর্বত্র বুদবুদ তৈরি করে দ্রুত বাষ্পে পরিবর্তিত হওয়াকে স্ফুটন বলে। তাই পানি বাষ্প হতে হলে সব সময় ফুটতেই হবে, এমন নয়।
স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ তরল যে তাপমাত্রায় ফোটে, সেটি তার স্ফুটনাঙ্ক। পানির ক্ষেত্রে তা । নির্দিষ্ট চাপে বিশুদ্ধ পদার্থের গলন ও স্ফুটন চলাকালে তাপ দিলেও তাপমাত্রা স্থির থাকে। সরবরাহ করা তাপ তখন অবশিষ্ট কঠিনকে তরল বা তরলকে বাষ্পে পরিবর্তিত করতে ব্যবহৃত হয়। পরিবর্তন শেষ হলে আরও তাপে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে।
ঘনীভবন হলো তাপ সরিয়ে বাষ্পকে তরলে পরিণত করা। রান্নার হাঁড়ির অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঢাকনার নিচে জলীয় বাষ্প থেকে পানির ফোঁটা জমে। ঠান্ডা পানির বোতলের বাইরেও বায়ুর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতে পারে। এটি বোতলের ভেতরের পানি বাইরে চলে আসা নয়।
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থ তরল দশা অতিক্রম না করে সরাসরি বাষ্পে যায় এবং সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে সরাসরি কঠিন হিসেবে জমতে পারে। ন্যাপথালিন, কর্পূর ও আয়োডিন পরিচিত উদাহরণ। কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শুষ্ক বরফও সরাসরি গ্যাসে যায়। আলমারিতে রাখা ন্যাপথালিনের ধীরে ছোট হয়ে যাওয়া এভাবে বোঝা যায়।
সাধারণ ভুল হলো, তরল মোম ঠান্ডা হয়ে কঠিন হওয়াকে ঘনীভবন বলা। সেটি কঠিনীভবন; ঘনীভবনে শুরুর অবস্থা গ্যাসীয় এবং শেষের অবস্থা তরল। প্রক্রিয়ার নাম ঠিক করতে আগে শুরুর ও শেষের অবস্থা দেখো।
মনে রাখো: অবস্থার পরিবর্তন শনাক্ত করতে কোন অবস্থা থেকে কোন অবস্থায় যাচ্ছে এবং তাপ দেওয়া না সরানো হচ্ছে, তা দেখো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।