offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ২ · টপিক ৭

গলন, বাষ্পীকরণ, ঘনীভবন ও ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া

পড়ার নোট

গলন হলো তাপ গ্রহণ করে কঠিন পদার্থের তরলে পরিণত হওয়া। কণাগুলো এমনভাবে চলাচলের সুযোগ পায় যে তারা আর নির্দিষ্ট অবস্থানে আবদ্ধ থাকে না। স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ কঠিন যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, তাকে গলনাঙ্ক বলে। এই চাপে বরফের গলনাঙ্ক 0∘C0^\circ\mathrm{C}। শরবতের গ্লাসে বরফ গলে পানি হওয়া এর পরিচিত উদাহরণ।

বাষ্পীভবন হলো তরলের বাষ্পে পরিণত হওয়া। তরলের উপরিতল থেকে ধীরে বাষ্প তৈরি হতে পারে, যেমন উঠানে মেলে রাখা ভেজা কাপড়ের পানি শুকায়। আবার নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় তরলের সর্বত্র বুদবুদ তৈরি করে দ্রুত বাষ্পে পরিবর্তিত হওয়াকে স্ফুটন বলে। তাই পানি বাষ্প হতে হলে সব সময় ফুটতেই হবে, এমন নয়।

স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে বিশুদ্ধ তরল যে তাপমাত্রায় ফোটে, সেটি তার স্ফুটনাঙ্ক। পানির ক্ষেত্রে তা 100∘C100^\circ\mathrm{C}। নির্দিষ্ট চাপে বিশুদ্ধ পদার্থের গলন ও স্ফুটন চলাকালে তাপ দিলেও তাপমাত্রা স্থির থাকে। সরবরাহ করা তাপ তখন অবশিষ্ট কঠিনকে তরল বা তরলকে বাষ্পে পরিবর্তিত করতে ব্যবহৃত হয়। পরিবর্তন শেষ হলে আরও তাপে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে।

ঘনীভবন হলো তাপ সরিয়ে বাষ্পকে তরলে পরিণত করা। রান্নার হাঁড়ির অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঢাকনার নিচে জলীয় বাষ্প থেকে পানির ফোঁটা জমে। ঠান্ডা পানির বোতলের বাইরেও বায়ুর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতে পারে। এটি বোতলের ভেতরের পানি বাইরে চলে আসা নয়।

ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় কঠিন পদার্থ তরল দশা অতিক্রম না করে সরাসরি বাষ্পে যায় এবং সেই বাষ্প ঠান্ডা হয়ে সরাসরি কঠিন হিসেবে জমতে পারে। ন্যাপথালিন, কর্পূর ও আয়োডিন পরিচিত উদাহরণ। কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা শুষ্ক বরফও সরাসরি গ্যাসে যায়। আলমারিতে রাখা ন্যাপথালিনের ধীরে ছোট হয়ে যাওয়া এভাবে বোঝা যায়।

সাধারণ ভুল হলো, তরল মোম ঠান্ডা হয়ে কঠিন হওয়াকে ঘনীভবন বলা। সেটি কঠিনীভবন; ঘনীভবনে শুরুর অবস্থা গ্যাসীয় এবং শেষের অবস্থা তরল। প্রক্রিয়ার নাম ঠিক করতে আগে শুরুর ও শেষের অবস্থা দেখো।

মনে রাখো: অবস্থার পরিবর্তন শনাক্ত করতে কোন অবস্থা থেকে কোন অবস্থায় যাচ্ছে এবং তাপ দেওয়া না সরানো হচ্ছে, তা দেখো।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কণার গতিতত্ত্বে ন্যাফথালিনের অবস্থা পরিবর্তনচালিয়ে দেখো

    আলমারিতে কাপড়ের সুরক্ষায় রাখা সাদা ন্যাফথালিনের বল (গলনাঙ্ক ৮০ °C, স্ফুটনাঙ্ক ২১৮ °C) কক্ষ তাপমাত্রা ২৫ °C-এ কঠিন অবস্থায় থাকে। কণার গতিতত্ত্ব অনুসারে তাপ দিলে কণার গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শিথিল হতে থাকে। একটি টেস্টটিউবে ন্যাফথালিন নিয়ে উত্তপ্ত করে তাপমাত্রা ৮৫ °C করা হলে পদার্থটি কোন ভৌত অবস্থায় থাকবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে একজন শিক্ষার্থী চারটি কঠিন পদার্থ—বরফ (H₂O), খাবার লবণ (NaCl), কর্পূর (C₁₀H₁₆O) এবং গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆)—পৃথক পাত্রে নিয়ে মৃদু তাপ দিল। তাপ প্রদানের ফলে কোন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত (ঊর্ধ্বপাতন) হবে?

    1. ক

      খাবার লবণ (NaCl)

    2. খ

      বরফ (H₂O)

    3. গ

      কর্পূর (C₁₀H₁₆O)

    4. ঘ

      গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) কর্পূর (C₁₀H₁₆O)

    1. কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন (sublimation) বলে, এবং এ ধরনের পদার্থকে ঊর্ধ্বপাতিত বা উদ্বায়ী পদার্থ বলে।
    2. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে কর্পূর (C₁₀H₁₆O), ন্যাফথালিন, নিশাদল (NH₄Cl), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আয়োডিন হলো ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। অপরপক্ষে বরফ প্রথমে গলে তরল পানি হয় এবং খাবার লবণ ও গ্লুকোজ সাধারণ তাপে ঊর্ধ্বপাতিত হয় না।
  2. কুমিল্লার একটি গ্রামে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি মোমবাতি জ্বালালো। মোমবাতির জ্বলনের সময় পদার্থের তিনটি ভৌত অবস্থা (কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়) কীভাবে একই সাথে পরিলক্ষিত হয়? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মোমবাতি জ্বালানো হলে মোমের নিচের অংশ অপরিবর্তিত থেকে কঠিন অবস্থায় থাকে এবং শিখার তাপে সুতার চারপাশের মোম গলে তরলে পরিণত হয়। তরল মোম কৈশিক প্রক্রিয়ায় সুতা বেয়ে উপরে উঠে শিখার উত্তাপে বাষ্পে (গ্যাসীয় অবস্থা) রূপান্তরিত হয় এবং বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে আলো ও তাপ উৎপন্ন করে। এভাবে মোমবাতির জ্বলনের সময় কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়—তিনটি ভৌত অবস্থাই একই সাথে বিদ্যমান থাকে।

    1. কঠিন ও তরল অবস্থা: মোমবাতির নিচের অংশ অপরিবর্তিত কঠিন অবস্থায় থাকে এবং শিখার তাপে সুতার চারপাশের অংশ গলে তরলে পরিণত হয়।
    2. গ্যাসীয় অবস্থা ও জ্বলন: তরল মোম সুতা বেয়ে উঠে শিখার তাপে গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়ে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো ও তাপ উৎপন্ন করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো