পড়ার নোট
দৈনন্দিন কোনো ঘটনায় ব্যাপন ঘটছে কি না বুঝতে দেখো, পদার্থের কণা নিজে থেকে উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে কি না। অন্যদিকে নিঃসরণ হলো খুব ছোট ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের কণার পারস্পরিক সংঘর্ষ ছাড়া একে একে বেরিয়ে যাওয়া। উভয় প্রক্রিয়াতেই কণার গতি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ঘটনাদুটি এক নয়।
ঘরের এক কোণে আতরের শিশির মুখ খুললে প্রথমে শিশির কাছেই সুগন্ধি কণার ঘনমাত্রা বেশি থাকে। কণাগুলো বায়ুর মধ্যে চলতে চলতে দূরের কম ঘনমাত্রার অঞ্চলে ছড়ায়। কিছুক্ষণ পর ঘরের অন্য পাশেও গন্ধ পাওয়া যায়। রান্নাঘর থেকে রান্নার গন্ধ ছড়ানোও একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। এখানে ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া নয়, মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াই বিবেচ্য।
চায়ের পানিতে চায়ের দ্রবীভূত উপাদান ছড়িয়ে পড়া তরল মাধ্যমে ব্যাপনের উদাহরণ। নাড়ালে মিশ্রণ দ্রুত হয়, তবে ব্যাপন বোঝাতে না নেড়ে কণার স্বতঃস্ফূর্ত ছড়ানো লক্ষ করতে হয়। তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতিশক্তি বাড়ে বলে একই ধরনের অবস্থায় ব্যাপন দ্রুত হয়।
রিকশা বা সাইকেলের টায়ারে অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকলে বাতাস ধীরে ধীরে বেরিয়ে টায়ার নরম হয়। বেলুনের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়েও এমন হতে পারে। এগুলো নিঃসরণের পরিচিত উদাহরণ। হঠাৎ টায়ার ফেটে প্রচুর বাতাস বের হওয়াকে এই ধীর, ক্ষুদ্র ছিদ্রনির্ভর ঘটনার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
এলপিজি লাইনের ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হলে সেখানে নিঃসরণ ঘটে। বের হওয়া গ্যাস পরে বায়ুতে ছড়ালে ব্যাপন ঘটে। লিকের স্থানে সাবান পানি দিলে বুদবুদ তৈরি হওয়া গ্যাস বের হওয়ার লক্ষণ। একই ঘটনায় তাই ধারাবাহিকভাবে দুটি প্রক্রিয়া থাকতে পারে।
তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের কণার গতি বাড়ে, যা নিঃসরণকেও প্রভাবিত করে। একই অবস্থায় হালকা গ্যাস ভারী গ্যাসের তুলনায় দ্রুত নিঃসৃত হয়। সাধারণ ভুল হলো, গন্ধ ছড়ানো এবং ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়া—দুটোকেই শুধু ব্যাপন বলা। ঘটনাটির কোন অংশ বিশ্লেষণ করছ, সেটি আগে চিহ্নিত করো।
মনে রাখো: মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত ছড়ানো ব্যাপন; ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের একে একে বের হওয়া নিঃসরণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।