পড়ার নোট
পদার্থ হলো এমন বস্তু যার ভর আছে এবং যা স্থান দখল করে। পদার্থের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার পার্থক্য বুঝতে কণার দূরত্ব, আন্তঃকণা আকর্ষণ বল এবং চলাচল একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। তিন অবস্থাতেই পদার্থের ভর থাকে; শুধু গ্যাস চোখে দেখা যায় না বলে তার ভর নেই, এমন নয়।
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। কণাগুলো খুব কাছাকাছি থাকে এবং তাদের মধ্যে আকর্ষণ প্রবল। তাই তারা নির্দিষ্ট অবস্থান ছেড়ে চলাচল করতে পারে না, কেবল নিজ স্থানে কম্পন করে। চিনি, খাদ্যলবণ ও মার্বেল এর উদাহরণ। সাধারণ চাপে কঠিনের আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায় না, কারণ কণার মধ্যে ফাঁক খুব কম। তাপমাত্রা বাড়লে সাধারণত আয়তন সামান্য বাড়ে।
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কিন্তু নিজস্ব নির্দিষ্ট আকার নেই। কণার দূরত্ব কঠিনের তুলনায় বেশি এবং আকর্ষণ কম। ফলে কণা পরস্পরের পাশ দিয়ে স্থান পরিবর্তন করতে পারে। পানি, তেল ও কেরোসিন তাই প্রবাহিত হয় এবং পাত্রের আকার নেয়। সাধারণ চাপে তরলের আয়তনও সহজে কমে না। তাপে এর প্রসারণ সাধারণত কঠিনের তুলনায় বেশি।
গ্যাসীয় পদার্থের নিজস্ব নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। কণা অনেক দূরে থাকে, আকর্ষণ খুব কম এবং কণা বিক্ষিপ্তভাবে ছোটাছুটি করে। তাই গ্যাস ধারক পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। কণার মধ্যে বড় ফাঁক থাকায় চাপ দিয়ে গ্যাসকে সহজে সংকুচিত করা যায়। প্রসারণের সুযোগ থাকলে তাপ দিলে গ্যাসের আয়তন বাড়ে।
বাড়িতে এক গ্লাস পানি বাটিতে ঢাললে আকৃতি বদলায়, কিন্তু পানি না পড়লে তার পরিমাণ একই থাকে। অন্যদিকে, রিকশার টায়ারে বাতাস পাম্প করলে বেশি বাতাস সীমিত স্থানে রাখা যায়। প্রথম ঘটনা তরলের প্রবাহ এবং দ্বিতীয়টি গ্যাসের সংকোচন বোঝায়।
তাপ দিয়ে বরফকে পানি এবং পানিকে বাষ্পে পরিণত করলে কণার বিন্যাস ও চলাচল বদলে যায়। একটি সাধারণ ভুল হলো, তরলের আকার বদলানো মানেই তার আয়তন বদলানো মনে করা। আকার ও আয়তন আলাদা বৈশিষ্ট্য।
মনে রাখো: কঠিনের আকার ও আয়তন নির্দিষ্ট, তরলের শুধু আয়তন নির্দিষ্ট, গ্যাসের কোনোটিই নিজস্বভাবে নির্দিষ্ট নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।