পড়ার নোট
পদার্থের অতি ক্ষুদ্র কণা সাধারণ চোখে দেখা যায় না। তবে দৃশ্যমান ছোট কণার ওপর তাদের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে অদৃশ্য কণার গতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। আলোর রশ্মিতে ধূলিকণা এবং পানিতে ফুলের রেণুর অনিয়মিত চলাচল এমন দুটি পরিচিত উদাহরণ।
সকালে ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে সরু সূর্যের আলো ঢুকলে সেই আলোর পথে ছোট ধূলিকণা দেখা যায়। বাংলাদেশের ঘর বা শ্রেণিকক্ষে এই দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। আলো ধূলিকণাকে দৃশ্যমান করে। বাতাসে ভেসে থাকা অতি ছোট ধূলিকণার ওপর চারদিক থেকে বায়ুর অণু ধাক্কা দেয়। সব দিকের ধাক্কার প্রভাব প্রতি মুহূর্তে সমান হয় না। ফলে ধূলিকণা অনিয়মিতভাবে দিক পরিবর্তন করতে পারে।
একই ধারণা পানিতে ফুলের রেণু পর্যবেক্ষণ করেও বোঝা যায়। পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র রেণু অণুবীক্ষণযন্ত্রে দেখলে এলোমেলো বা আঁকাবাঁকা পথে চলতে দেখা যায়। পানির অদৃশ্য কণাগুলো চলতে চলতে রেণুকে ধাক্কা দেয়। বিভিন্ন দিক থেকে অসম ধাক্কার ফলে রেণুর চলার দিক বারবার বদলে যায়।
তরল বা গ্যাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণার এ ধরনের অনিয়মিত গতিকে ব্রাউনীয় গতি বলা হয়। এখানে দৃশ্যমান ধূলিকণা বা রেণু এবং তাদের ধাক্কা দেওয়া অদৃশ্য অণু এক জিনিস নয়। একটি ধূলিকণা বা রেণু নিজেই অনেক ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত। আমরা অণুর চলাচল সরাসরি দেখছি না; তার প্রভাব দেখছি।
পর্যবেক্ষণের সময় তিনটি বিষয় আলাদা করো: কোন কণাটি দেখা যাচ্ছে, কোন মাধ্যমে সেটি আছে এবং কী কারণে সেটির দিক বদলাচ্ছে। ধূলিকণার ক্ষেত্রে মাধ্যম বায়ু; রেণুর ক্ষেত্রে মাধ্যম পানি। দুই ক্ষেত্রেই মাধ্যমের কণার চলাচল ব্যাখ্যার মূল বিষয়।
সাধারণ ভুল হলো, আলো ধূলিকণাকে ঠেলে চালায় অথবা রেণু জীবিত বলেই নিজে চলে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া। আবার পাখার বাতাসে সব ধূলিকণার একদিকে ভেসে যাওয়াকে শুধু ব্রাউনীয় গতি বলা ঠিক নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষুদ্র কণার অনিয়মিত চলাচল।
মনে রাখো: ধূলিকণা ও রেণুর অনিয়মিত গতি অদৃশ্য বায়ু ও পানির কণার চলাচলের প্রমাণ দেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।