ব্যাপন
কোনো পদার্থের কণার উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। কণার গতিতত্ত্ব অনুযায়ী সব কণা সবসময় গতিশীল, তাই না নাড়লেও এক ফোঁটা রং পুরো গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, তাই ব্যাপন দ্রুত হয়: গরম খিচুড়ির গন্ধ ঠান্ডা খিচুড়ির চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি ঘরে ছড়ায়।
নিঃসরণ
গ্যাসের কণা অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ ছাড়াই একে একে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। একটি বেলুন ফুলিয়ে রেখে দিলে কয়েক দিনে চুপসে যায়, কারণ রাবারের অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাসের কণা ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইনের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়াও নিঃসরণ; সাবান-পানি লাগালে ছোট ছোট বুদ্বুদ দেখে এমন ছিদ্র ধরা যায়।
হালকা গ্যাস দ্রুত চলে
একটি কাচনলের এক মাথায় অ্যামোনিয়া () আর অন্য মাথায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের () তুলা রাখলে দুই গ্যাস মিলিত হয়ে সাদা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের বলয় তৈরি করে। বলয়টি তৈরি হয় প্রান্তের কাছে, কারণ -এর আণবিক ভর (১৭) -এর (৩৬.৫) চেয়ে কম, তাই এটি দ্রুত ব্যাপিত হয়ে বেশি পথ যায়।
মিল কোথায়
- দুটিই কণার গতিশীলতার ফল, আর দুটির হারই তাপমাত্রা বাড়লে বাড়ে।
- দুটিতেই হালকা গ্যাস ভারী গ্যাসের চেয়ে দ্রুত চলে।
সাধারণ ভুল
- নিঃসরণ তরলেও হয় লেখা। নিঃসরণ কেবল গ্যাসের ক্ষেত্রে।
- ব্যাপনের জন্য পর্দা বা ছিদ্র লাগে ভাবা। ব্যাপনে কোনো ছিদ্র লাগে না; ছিদ্র লাগে নিঃসরণে।