offSchoolবেটা

রসায়ন · পদার্থের অবস্থা

ব্যাপন ও নিঃসরণের পার্থক্য (উদাহরণসহ)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২২ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ব্যাপনে কোনো পদার্থের কণা উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে নিজে থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যায়; এটি কঠিন, তরল ও গ্যাস তিন মাধ্যমেই ঘটতে পারে, কোনো ছিদ্র লাগে না। নিঃসরণে গ্যাসের কণা অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ ছাড়াই একে একে বাইরে বেরিয়ে যায়, যেমন টায়ারের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাস বেরোনো। দুটির হারই হালকা গ্যাসে বেশি।

ব্যাপন ও নিঃসরণ: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ব্যাপননিঃসরণ
মূল ঘটনা

কণা ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যায়

গ্যাসের কণা ছিদ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়

ছিদ্রের প্রয়োজন

নেই

অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র আবশ্যক

মাধ্যম

কঠিন, তরল ও গ্যাস (গ্যাসে সবচেয়ে দ্রুত)

কেবল গ্যাস

কণার সংঘর্ষ

ছড়ানোর সময় কণাগুলোর সংঘর্ষ ঘটে

ছিদ্র দিয়ে বেরোনোর সময় পারস্পরিক সংঘর্ষ হয় না

চালিকাশক্তি

ঘনমাত্রার পার্থক্য

পাত্রের ভেতর ও বাইরের চাপের পার্থক্য

উদাহরণ

ফুলের গন্ধ ছড়ানো, পানিতে রঙের ফোঁটা ছড়ানো, ঘরে এয়ার ফ্রেশনারের সুগন্ধ

বেলুন বা টায়ারের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে বাতাস বেরোনো

ব্যাপন

কোনো পদার্থের কণার উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে সমভাবে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। কণার গতিতত্ত্ব অনুযায়ী সব কণা সবসময় গতিশীল, তাই না নাড়লেও এক ফোঁটা রং পুরো গ্লাসের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে। তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, তাই ব্যাপন দ্রুত হয়: গরম খিচুড়ির গন্ধ ঠান্ডা খিচুড়ির চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি ঘরে ছড়ায়।

নিঃসরণ

গ্যাসের কণা অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ ছাড়াই একে একে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। একটি বেলুন ফুলিয়ে রেখে দিলে কয়েক দিনে চুপসে যায়, কারণ রাবারের অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাসের কণা ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। গ্যাস সিলিন্ডার বা পাইপলাইনের সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়াও নিঃসরণ; সাবান-পানি লাগালে ছোট ছোট বুদ্‌বুদ দেখে এমন ছিদ্র ধরা যায়।

হালকা গ্যাস দ্রুত চলে

একটি কাচনলের এক মাথায় অ্যামোনিয়া (NH3NH_3) আর অন্য মাথায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের (HClHCl) তুলা রাখলে দুই গ্যাস মিলিত হয়ে সাদা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের বলয় তৈরি করে। বলয়টি তৈরি হয় HClHCl প্রান্তের কাছে, কারণ NH3NH_3-এর আণবিক ভর (১৭) HClHCl-এর (৩৬.৫) চেয়ে কম, তাই এটি দ্রুত ব্যাপিত হয়ে বেশি পথ যায়।

মিল কোথায়

  • দুটিই কণার গতিশীলতার ফল, আর দুটির হারই তাপমাত্রা বাড়লে বাড়ে।
  • দুটিতেই হালকা গ্যাস ভারী গ্যাসের চেয়ে দ্রুত চলে।

সাধারণ ভুল

  • নিঃসরণ তরলেও হয় লেখা। নিঃসরণ কেবল গ্যাসের ক্ষেত্রে।
  • ব্যাপনের জন্য পর্দা বা ছিদ্র লাগে ভাবা। ব্যাপনে কোনো ছিদ্র লাগে না; ছিদ্র লাগে নিঃসরণে।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"ব্যাপন ও নিঃসরণের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" এলে ছিদ্র আর মাধ্যম দিয়ে লেখো:

ব্যাপননিঃসরণ
১. কোনো ছিদ্রের প্রয়োজন হয় না।১. অতি ক্ষুদ্র ছিদ্র আবশ্যক।
২. কঠিন, তরল ও গ্যাস তিন মাধ্যমে ঘটে।২. কেবল গ্যাসের ক্ষেত্রে ঘটে।

পাঠ্যবইয়ের একটি পরিচিত প্রশ্ন: "গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুললে ব্যাপন ও নিঃসরণ উভয়ই ঘটে, ব্যাখ্যা করো"। উত্তরে লেখো, সরু মুখ দিয়ে গ্যাসের কণা বেরিয়ে আসা নিঃসরণ, আর বাইরে এসে গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন।

উদ্দীপকে কাচনলের দুই প্রান্তে NH3NH_3 ও HClHCl থাকলে প্রশ্ন সাধারণত "সাদা বলয় কোন প্রান্তের কাছে হবে এবং কেন"। উত্তরে দুটির আণবিক ভর হিসাব করে দেখাও যে হালকা গ্যাসের ব্যাপন হার বেশি।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ময়মনসিংহের একটি কৃষি গবেষণাগারে একই তাপমাত্রা (25 °C) ও চাপে চারটি গ্যাস রাখা আছে: মিথেন (CH₄, আণবিক ভর 16 g/mol), অ্যামোনিয়া (NH₃, আণবিক ভর 17 g/mol), অক্সিজেন (O₂, আণবিক ভর 32 g/mol) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂, আণবিক ভর 44 g/mol)। গ্যাস চারটিকে একই সাথে মুক্ত করে দিলে কোনটির ব্যাপন হার (rate of diffusion) সবচেয়ে বেশি হবে?

    1. ক

      মিথেন (CH₄)

    2. খ

      অ্যামোনিয়া (NH₃)

    3. গ

      অক্সিজেন (O₂)

    4. ঘ

      কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) মিথেন (CH₄)

    1. নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের ব্যাপন হার তার আণবিক ভরের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক (গ্রাহামের ব্যাপন সূত্র); অর্থাৎ যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম, তার ব্যাপন হার তত বেশি।
    r∝1Mr \propto \frac{1}{\sqrt{M}}
    1. গ্যাসগুলোর আণবিক ভরের ক্রম: CH₄ (16 g/mol) < NH₃ (17 g/mol) < O₂ (32 g/mol) < CO₂ (44 g/mol)। মিথেনের (CH₄) আণবিক ভর সর্বনিম্ন হওয়ায় এর কণাগুলোর গতিবেগ সর্বাধিক এবং ব্যাপন হার সবচেয়ে বেশি।
  2. সিলেটে একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে একজন খেলোয়াড় পায়ে আঘাত পেয়ে অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করল। ক্যানের ভেতরের উচ্চ চাপে সরু ছিদ্রপথ দিয়ে ওষুধটি দ্রুত বেগে বাইরে নির্গত হলো এবং কিছুক্ষণ পর কয়েক মিটার দূরে বসা দর্শকরাও এর সুগন্ধ পেল। এখানে যথাক্রমে কোন দুটি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে?

    1. ক

      প্রথমে ব্যাপন, পরে নিঃসরণ

    2. খ

      প্রথমে নিঃসরণ, পরে ব্যাপন

    3. গ

      শুধুমাত্র ব্যাপন

    4. ঘ

      শুধুমাত্র নিঃসরণ

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) প্রথমে নিঃসরণ, পরে ব্যাপন

    1. অ্যারোসল ক্যানের ভেতরের গ্যাস উচ্চ চাপে আবদ্ধ থাকে; নজলে চাপ দিলে সরু ছিদ্রপথ দিয়ে উচ্চ চাপের প্রভাবে গ্যাসের দ্রুত নির্গমন হলো নিঃসরণ (effusion)।
    2. বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার পর সুগন্ধি কণাগুলো কোনো বহিঃস্থ চাপ ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে দর্শকদের নাকে পৌঁছায়, যা হলো ব্যাপন (diffusion)। ফলে প্রথমে নিঃসরণ এবং পরে ব্যাপন ঘটে।
  3. পরীক্ষাটি মূল্যায়ন করলে বলা যায়—

    i. শুধু এই পর্যবেক্ষণ থেকে দ্রুত রং ছড়ানোর একমাত্র কারণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি বলা যায় না

    ii. তুলনাটি যথাযথ করতে কোনো পাত্রের পানিই না নেড়ে পরীক্ষাটি পুনরায় করা উচিত

    iii. গরম পানিতে রং দ্রুত ছড়ানো প্রমাণ করে যে তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি কমে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i, ii ও iii

    4. ঘ

      i ও ii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i ও ii

    1. পানি নাড়লেও রং দ্রুত ছড়ায়। তাই সুমনের পরীক্ষায় তাপমাত্রার প্রভাব আলাদাভাবে নির্ণয় করা যায় না।
    2. কোনো পাত্রের পানি না নেড়ে অন্যান্য শর্ত একই রেখে তুলনা করতে হবে। তাপমাত্রা বাড়লে কণার গতি বাড়ে, কমে না। তাই i ও ii সঠিক।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বেলুন কয়েক দিনে চুপসে যায় কেন?

রাবারের অতি সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে বাতাসের কণা নিঃসরণে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়।

অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের মধ্যে কোনটির ব্যাপন হার বেশি?

অ্যামোনিয়া, কারণ এর আণবিক ভর (১৭) হাইড্রোজেন ক্লোরাইডের (৩৬.৫) চেয়ে কম।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো