offSchoolবেটা

রসায়ন · মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা

দ্রব ও দ্রাবকের পার্থক্য (দ্রবণসহ)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২২ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

দ্রবণে যে পদার্থ দ্রবীভূত হয় তা দ্রব, আর যে পদার্থে দ্রবীভূত হয় তা দ্রাবক; দুটি মিলে তৈরি সমসত্ত্ব মিশ্রণই দ্রবণ। লবণ-পানিতে লবণ দ্রব, পানি দ্রাবক। সাধারণত দ্রাবক পরিমাণে বেশি থাকে আর দ্রবণের অবস্থা (কঠিন, তরল বা গ্যাস) দ্রাবকের অবস্থার মতো হয়। পানি অনেক পদার্থ দ্রবীভূত করে, তাই একে সর্বজনীন দ্রাবক বলে।

দ্রব ও দ্রাবক: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়দ্রবদ্রাবক
সংজ্ঞা

যে পদার্থ দ্রবীভূত হয়

যে পদার্থে দ্রবীভূত হয়

পরিমাণ

সাধারণত কম

সাধারণত বেশি

দ্রবণের অবস্থা

দ্রবণের অবস্থা নির্ধারণ করে না

দ্রবণ দ্রাবকের অবস্থা নেয়

দ্রবণে কী হয়

কণায় ভেঙে দ্রাবকের কণার ফাঁকে ছড়িয়ে পড়ে

দ্রবকে নিজের মধ্যে ধারণ করে

ঘনমাত্রার হিসাবে

এর মোল সংখ্যা গোনা হয়

দ্রবণের আয়তনে অন্তর্ভুক্ত

উদাহরণ

লবণ-পানিতে লবণ, শরবতে চিনি, কোমল পানীয়তে কার্বন ডাই-অক্সাইড

এসব দ্রবণে পানি; টিংচার আয়োডিনে অ্যালকোহল

দ্রব, দ্রাবক ও দ্রবণ

আধা গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে নাড়লে লবণ আর দেখা যায় না, কিন্তু পানি নোনতা হয়ে যায়। এখানে লবণ হলো দ্রব (যে দ্রবীভূত হলো), পানি দ্রাবক (যাতে দ্রবীভূত হলো), আর লবণ-পানি হলো দ্রবণ। দ্রবণের প্রতিটি অংশে লবণ সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে, তাই দ্রবণ একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ। পাঠ্যবইয়ে দ্রবীভূত পদার্থটিকে দ্রব বলা হয়েছে; অনেকে একে দ্রাবও বলেন, দুটির অর্থ একই।

পানি কেন সর্বজনীন দ্রাবক

পানির অণু ধ্রুবীয়, তাই এটি লবণের মতো আয়নিক যৌগের আয়নগুলোকে আলাদা করে টেনে নিতে পারে, আবার চিনির মতো অনেক সমযোজী যৌগও দ্রবীভূত করে। এত বেশি পদার্থ দ্রবীভূত করতে পারে বলে পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। তবে তেল বা মোম পানিতে দ্রবীভূত হয় না; এদের জন্য কেরোসিন বা পেট্রোলের মতো অধ্রুবীয় দ্রাবক লাগে।

মোলার দ্রবণে দ্রব আর দ্রাবক

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এক লিটার দ্রবণে এক মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকলে তাকে এক মোলার দ্রবণ বলে। লক্ষ করো, হিসাব হয় দ্রবণের আয়তনে, দ্রাবকের নয়: ৫৮.৫ গ্রাম লবণ (১ মোল NaClNaCl) নিয়ে পানি মিশিয়ে মোট আয়তন এক লিটার করলে ১ M দ্রবণ হয়।

সাধারণ ভুল

  • দ্রব আর দ্রাবক উল্টে লেখা। মনে রাখো, দ্রাবক-এর শেষে "ক": যে করে, অর্থাৎ যে দ্রবীভূত করে।
  • মোলার দ্রবণ বানাতে এক লিটার পানিতে দ্রব দেওয়া। দ্রব দিয়ে তারপর মোট দ্রবণ এক লিটার করতে হয়।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

দ্রব-দ্রাবক সাধারণত মোলারিটির গাণিতিক প্রশ্নের অংশ হিসেবে আসে। উদ্দীপকে দ্রবের ভর আর দ্রবণের আয়তন থাকলে আগে দ্রবের মোল সংখ্যা (ভর ÷ আণবিক ভর) বের করো, তারপর আয়তন লিটারে নিয়ে ভাগ করো:

মোলারিটি=দ্রবের মোল সংখ্যাদ্রবণের আয়তন (লিটার)\text{মোলারিটি} = \frac{\text{দ্রবের মোল সংখ্যা}}{\text{দ্রবণের আয়তন (লিটার)}}

পার্থক্য চাইলে লেখো:

দ্রবদ্রাবক
১. যে পদার্থ দ্রবীভূত হয়।১. যে পদার্থে দ্রবীভূত হয়।
২. সাধারণত পরিমাণে কম।২. সাধারণত পরিমাণে বেশি।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. খুলনার একটি বিদ্যালয়ের রসায়ন পরীক্ষাগারে তানিয়া ২৫০ mL এর একটি আয়তনমিতিক ফ্লাস্কে (volumetric flask) ৫.৩ g অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) দ্রবীভূত করে নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত পানি যোগ করে দ্রবণ প্রস্তুত করল। প্রস্তুতকৃত দ্রবণের মোলারিটি (molarity) কত? (দেওয়া আছে: পারমাণবিক ভর Na = ২৩, C = ১২, O = ১৬)।

    1. ক

      ০.১ M

    2. খ

      ০.২ M

    3. গ

      ০.৫ M

    4. ঘ

      ২.০ M

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ০.২ M

    1. Na₂CO₃ এর আণবিক ভর M = (২৩ × ২) + ১২ + (১৬ × ৩) = ৪৬ + ১২ + ৪৮ = ১০৬ g/mol।
    M=106 g/molM = 106\text{ g/mol}
    1. মোলারিটির সূত্র: S = (১০০০ × W) ⁄ (M × V), যেখানে W = ৫.৩ g এবং V = ২৫০ mL।
    S=1000×WM×VS = \frac{1000 \times W}{M \times V}
    1. মান বসিয়ে: S = (১০০০ × ৫.৩) ⁄ (১০৬ × ২৫০) = ৫৩০০ ⁄ ২৬৫০০ = ০.২ M (mol/L)।
    S=1000×5.3106×250=0.2 MS = \frac{1000 \times 5.3}{106 \times 250} = 0.2\text{ M}
  2. কোনো দ্রবণের মোলারিটি বলতে কী বোঝায়?

    1. ক

      প্রতি লিটার দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা

    2. খ

      প্রতি কিলোগ্রাম দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা

    3. গ

      প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের গ্রাম পরিমাণ

    4. ঘ

      প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যা

    1. এক লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাই ওই দ্রবণের মোলারিটি।
  3. কুমিল্লা জিলা স্কুলের রসায়ন পরীক্ষাগারে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবকে ২৫০ mL এর একটি আয়তনমিতিক ফ্লাস্কে ০.১ M ঘনমাত্রার গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) দ্রবণ তৈরি করতে বলা হলো। ডিজিটাল নিক্তিতে মেপে তাকে কত গ্রাম (g) বিশুদ্ধ গ্লুকোজ দ্রবীভূত করতে হবে? (দেওয়া আছে: পারমাণবিক ভর C = ১২, H = ১, O = ১৬)।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪.৫ g

    1. গ্লুকোজের (C₆H₁₂O₆) আণবিক ভর M = (১২ × ৬) + (১ × ১২) + (১৬ × ৬) = ৭২ + ১২ + ৯৬ = ১৮০ g/mol।
    M=(12×6)+(1×12)+(16×6)=180 g/molM = (12 \times 6) + (1 \times 12) + (16 \times 6) = 180\text{ g/mol}
    1. দ্রবণের ঘনমাত্রা S = ০.১ M এবং আয়তন V = ২৫০ mL। প্রয়োজনীয় দ্রবের ভর W = (S × M × V) ⁄ ১০০০।
    W=S×M×V1000W = \frac{S \times M \times V}{1000}
    1. মান বসিয়ে পাই: W = (০.১ × ১৮০ × ২৫০) ⁄ ১০০০ = ৪৫০০ ⁄ ১০০০ = ৪.৫ g।
    W=0.1×180×2501000=4.5 gW = \frac{0.1 \times 180 \times 250}{1000} = 4.5\text{ g}

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

লবণ-পানিতে দ্রব আর দ্রাবক কোনটি?

লবণ দ্রব, পানি দ্রাবক, আর লবণ-পানি হলো দ্রবণ।

পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন?

কারণ পানি ধ্রুবীয় হওয়ায় আয়নিক ও অনেক সমযোজী যৌগসহ অসংখ্য পদার্থ দ্রবীভূত করতে পারে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো