দ্রব, দ্রাবক ও দ্রবণ
আধা গ্লাস পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে নাড়লে লবণ আর দেখা যায় না, কিন্তু পানি নোনতা হয়ে যায়। এখানে লবণ হলো দ্রব (যে দ্রবীভূত হলো), পানি দ্রাবক (যাতে দ্রবীভূত হলো), আর লবণ-পানি হলো দ্রবণ। দ্রবণের প্রতিটি অংশে লবণ সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে, তাই দ্রবণ একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ। পাঠ্যবইয়ে দ্রবীভূত পদার্থটিকে দ্রব বলা হয়েছে; অনেকে একে দ্রাবও বলেন, দুটির অর্থ একই।
পানি কেন সর্বজনীন দ্রাবক
পানির অণু ধ্রুবীয়, তাই এটি লবণের মতো আয়নিক যৌগের আয়নগুলোকে আলাদা করে টেনে নিতে পারে, আবার চিনির মতো অনেক সমযোজী যৌগও দ্রবীভূত করে। এত বেশি পদার্থ দ্রবীভূত করতে পারে বলে পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। তবে তেল বা মোম পানিতে দ্রবীভূত হয় না; এদের জন্য কেরোসিন বা পেট্রোলের মতো অধ্রুবীয় দ্রাবক লাগে।
মোলার দ্রবণে দ্রব আর দ্রাবক
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এক লিটার দ্রবণে এক মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকলে তাকে এক মোলার দ্রবণ বলে। লক্ষ করো, হিসাব হয় দ্রবণের আয়তনে, দ্রাবকের নয়: ৫৮.৫ গ্রাম লবণ (১ মোল ) নিয়ে পানি মিশিয়ে মোট আয়তন এক লিটার করলে ১ M দ্রবণ হয়।
সাধারণ ভুল
- দ্রব আর দ্রাবক উল্টে লেখা। মনে রাখো, দ্রাবক-এর শেষে "ক": যে করে, অর্থাৎ যে দ্রবীভূত করে।
- মোলার দ্রবণ বানাতে এক লিটার পানিতে দ্রব দেওয়া। দ্রব দিয়ে তারপর মোট দ্রবণ এক লিটার করতে হয়।