পড়ার নোট
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক
নির্দিষ্ট চাপে কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হওয়ার তাপমাত্রা হলো গলনাঙ্ক। তরলের সর্বত্র বুদবুদ সৃষ্টি হয়ে ফুটতে থাকার তাপমাত্রা হলো স্ফুটনাঙ্ক। তাপমাত্রার SI একক কেলভিন, K; দৈনন্দিন কাজে ডিগ্রি সেলসিয়াসও ব্যবহৃত হয়। আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত আণবিক সমযোজী যৌগের তুলনায় বেশি।
আয়নিক যৌগে বিপরীত আধানের অসংখ্য আয়ন ত্রিমাত্রিক কেলাসে সজ্জিত থাকে। এদের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎ আকর্ষণ কাজ করে। কণাগুলোকে এই সজ্জা থেকে সরাতে বা অনেক দূরে নিতে বেশি তাপশক্তি লাগে। তাই খাদ্য লবণ সহজে গলে না; এর গলনাঙ্ক প্রায় ।
আণবিক সমযোজী পদার্থে পৃথক অণুগুলোর মধ্যে তুলনামূলক দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ থাকে, যার মধ্যে ভ্যান্ডারওয়ালস আকর্ষণ বল রয়েছে। তাই সাধারণত কম তাপে অণুগুলো আলাদা হতে পারে। চিনি তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গলনের সঙ্গে বিয়োজনও দেখায়। মোম সহজে গলে এবং রান্নার তেল ঘরের তাপমাত্রাতেই তরল থাকে। তবে অণুর মধ্যকার সমযোজী বন্ধন ও অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ এক বিষয় নয়।
দ্রাব্যতা
কোনো দ্রাবকে পদার্থের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা হলো দ্রাব্যতা। পানি একটি পোলার দ্রাবক: এর অণুতে অক্সিজেনের দিকে আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেনের দিকে আংশিক ধনাত্মক প্রান্ত থাকে। অক্সিজেন শেয়ার করা ইলেকট্রনকে বেশি আকর্ষণ করে বলেই এই পার্থক্য হয়। বন্ধনের ইলেকট্রন জোড়কে নিজের দিকে আকর্ষণের ক্ষমতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে।
পানির বিপরীত আধানের প্রান্তগুলো আয়নিক যৌগের আয়নকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ যথেষ্ট হলে আয়নগুলো আলাদা হয় এবং পানির অণু দিয়ে ঘেরা অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্য লবণ, তুঁতে ও কাপড়কাচা সোডা এভাবে দ্রবীভূত হয়। তবে সিলভার ক্লোরাইড পানিতে অদ্রবণীয় একটি আয়নিক ব্যতিক্রম।
মোম, ন্যাপথলিন, সরিষার তেল ও কেরোসিন পানিতে সাধারণত দ্রবীভূত হয় না। কিছু সমযোজী পদার্থ উপযুক্ত জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়। আবার চিনি, গ্লুকোজ ও ইথানল পানিতে দ্রবণীয়। তাই শরবতে চিনি মিশলেও সরিষার তেল আলাদা স্তর তৈরি করে।
সাধারণ ভুল: পানিতে দ্রবীভূত হলেই আয়নিক যৌগ বলা, অথবা সব সমযোজী পদার্থের বন্ধন দুর্বল ভাবা।
মনে রাখো: গলন ও দ্রাব্যতা কণার আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে; সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।