offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৫ · টপিক ২০

আয়নিক ও সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্য

  • গলনাংক ও স্ফুটনাংক
  • দ্রাব্যতা

পড়ার নোট

গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক

নির্দিষ্ট চাপে কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হওয়ার তাপমাত্রা হলো গলনাঙ্ক। তরলের সর্বত্র বুদবুদ সৃষ্টি হয়ে ফুটতে থাকার তাপমাত্রা হলো স্ফুটনাঙ্ক। তাপমাত্রার SI একক কেলভিন, K; দৈনন্দিন কাজে ডিগ্রি সেলসিয়াসও ব্যবহৃত হয়। আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সাধারণত আণবিক সমযোজী যৌগের তুলনায় বেশি।

আয়নিক যৌগে বিপরীত আধানের অসংখ্য আয়ন ত্রিমাত্রিক কেলাসে সজ্জিত থাকে। এদের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎ আকর্ষণ কাজ করে। কণাগুলোকে এই সজ্জা থেকে সরাতে বা অনেক দূরে নিতে বেশি তাপশক্তি লাগে। তাই খাদ্য লবণ সহজে গলে না; এর গলনাঙ্ক প্রায় 801 ∘C801\,^{\circ}\mathrm{C}।

আণবিক সমযোজী পদার্থে পৃথক অণুগুলোর মধ্যে তুলনামূলক দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ থাকে, যার মধ্যে ভ্যান্ডারওয়ালস আকর্ষণ বল রয়েছে। তাই সাধারণত কম তাপে অণুগুলো আলাদা হতে পারে। চিনি তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় গলনের সঙ্গে বিয়োজনও দেখায়। মোম সহজে গলে এবং রান্নার তেল ঘরের তাপমাত্রাতেই তরল থাকে। তবে অণুর মধ্যকার সমযোজী বন্ধন ও অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ এক বিষয় নয়।

দ্রাব্যতা

কোনো দ্রাবকে পদার্থের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা হলো দ্রাব্যতা। পানি একটি পোলার দ্রাবক: এর অণুতে অক্সিজেনের দিকে আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেনের দিকে আংশিক ধনাত্মক প্রান্ত থাকে। অক্সিজেন শেয়ার করা ইলেকট্রনকে বেশি আকর্ষণ করে বলেই এই পার্থক্য হয়। বন্ধনের ইলেকট্রন জোড়কে নিজের দিকে আকর্ষণের ক্ষমতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে।

পানির বিপরীত আধানের প্রান্তগুলো আয়নিক যৌগের আয়নকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ যথেষ্ট হলে আয়নগুলো আলাদা হয় এবং পানির অণু দিয়ে ঘেরা অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্য লবণ, তুঁতে ও কাপড়কাচা সোডা এভাবে দ্রবীভূত হয়। তবে সিলভার ক্লোরাইড পানিতে অদ্রবণীয় একটি আয়নিক ব্যতিক্রম।

মোম, ন্যাপথলিন, সরিষার তেল ও কেরোসিন পানিতে সাধারণত দ্রবীভূত হয় না। কিছু সমযোজী পদার্থ উপযুক্ত জৈব দ্রাবকে দ্রবীভূত হয়। আবার চিনি, গ্লুকোজ ও ইথানল পানিতে দ্রবণীয়। তাই শরবতে চিনি মিশলেও সরিষার তেল আলাদা স্তর তৈরি করে।

সাধারণ ভুল: পানিতে দ্রবীভূত হলেই আয়নিক যৌগ বলা, অথবা সব সমযোজী পদার্থের বন্ধন দুর্বল ভাবা।

মনে রাখো: গলন ও দ্রাব্যতা কণার আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে; সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রমও আছে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • খাদ্য লবণ বনাম চিনি: আয়নিক ও সমযোজী যৌগের বৈশিষ্ট্যচালিয়ে দেখো

    স্কুলের বিজ্ঞান গবেষণাগারে একটি ব্যাটারি ও বাল্বযুক্ত বর্তনী দিয়ে দুটি যৌগের জলীয় দ্রবণের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে: একটি বিকারে খাদ্য লবণ (NaCl) এবং অন্যটিতে মিথেন (CH₄)। খাদ্য লবণের গলনাঙ্ক ৮০১ °C এবং মিথেনের গলনাঙ্ক -১৮২ °C। পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় কোনটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে বর্তনীর বাল্বটি জ্বালাবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূল থেকে সংগৃহীত অপরিশোধিত লবণ থেকে বিশুদ্ধ খাবার লবণ (NaCl) পৃথকীকরণের পর নোয়াখালীর একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে শিক্ষার্থীরা 20 °C তাপমাত্রায় এর দ্রাব্যতা পরীক্ষা করল। ওই তাপমাত্রায় পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের (NaCl) দ্রাব্যতা হলো ৩৬ g / ১০০ g পানি। ২৫০ g বিশুদ্ধ পানিতে 20 °C তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ কত গ্রাম (g) NaCl দ্রবীভূত করে একটি সম্পৃক্ত দ্রবণ প্রস্তুত করা সম্ভব? (সূত্র: দ্রবীভূত লবণের ভর = (দ্রাব্যতা × দ্রাবকের ভর) ÷ ১০০)।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৯০ g

    1. দেওয়া আছে, 20 °C তাপমাত্রায় পানিতে সোডিয়াম ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা S = ৩৬ g / ১০০ g পানি এবং দ্রাবকের (পানি) ভর m = ২৫০ g।
    S=36 g / 100 g water,msolvent=250 gS = 36\text{ g / 100 g water}, \quad m_{\text{solvent}} = 250\text{ g}
    1. প্রদত্ত সূত্রানুসারে দ্রবীভূত লবণের ভর = (৩৬ × ২৫০) ÷ ১০০।
    msolute=36×250100m_{\text{solute}} = \frac{36 \times 250}{100}
    1. গণনা করে পাই: m = ৯০০০ ÷ ১০০ = ৯০ g। অর্থাৎ ২৫০ g পানিতে সর্বোচ্চ ৯০ g NaCl দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি হবে।
    msolute=90 gm_{\text{solute}} = 90\text{ g}
  2. রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার একটি আম বাগানে ছত্রাক দমনে বোর্দো মিশ্রণ প্রস্তুতের জন্য তুঁতে বা ব্লু ভিট্রিওল (CuSO₄·5H₂O) স্ফটিক ব্যবহার করা হয়। নীল বর্ণের তুঁতে স্ফটিকে ভর হিসেবে বিশুদ্ধ কপার সালফেট (CuSO₄) থাকে ৬৪% এবং কেলাস পানি থাকে ৩৬%। স্থানীয় একটি গবেষণাগারে একজন শিক্ষার্থী ৭৫ g বিশুদ্ধ তুঁতে স্ফটিক একটি ক্রুসিবলে নিয়ে বুনসেন বার্নারে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত করল, যার ফলে সমস্ত কেলাস পানি বাষ্পীভূত হয়ে সাদা অনার্দ্র কপার সালফেট (CuSO₄) গুঁড়ায় পরিণত হলো। উত্তপ্ত করার ফলে ওই ৭৫ g তুঁতে নমুনা থেকে মোট কত গ্রাম (g) কেলাস পানি বাষ্পীভূত হয়ে অপসারিত হলো? (সূত্র: অপসারিত কেলাস পানির ভর = তুঁতের প্রারম্ভিক ভর × (পানির শতকরা হার ÷ ১০০))।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২৭ g

    1. দেওয়া আছে, তুঁতের প্রারম্ভিক ভর M = ৭৫ g এবং তুঁতে স্ফটিকে কেলাস পানির শতকরা হার = ৩৬%।
    M=75 g,%H2O=36%M = 75\text{ g}, \quad \%\text{H}_2\text{O} = 36\%
    1. প্রদত্ত সূত্রানুসারে অপসারিত কেলাস পানির ভর: m = ৭৫ × (৩৬ ÷ ১০০)।
    mwater=75×36100m_{\text{water}} = 75 \times \frac{36}{100}
    1. গণনা সম্পন্ন করে পাই: m = ২৭০০ ÷ ১০০ = ২৭ g। অর্থাৎ নমুনাটি থেকে মোট ২৭ g পানি বাষ্পীভূত হয়ে অপসারিত হলো।
    mwater=27 gm_{\text{water}} = 27\text{ g}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো