পড়ার নোট
খাদ্য লবণ ও চিনি দেখতে দানাদার হলেও উত্তপ্ত করলে একই আচরণ করে না। খাদ্য লবণ, , একটি আয়নিক যৌগ; চিনি, , একটি সমযোজী যৌগ। এখানে Na সোডিয়াম, Cl ক্লোরিন, C কার্বন, H হাইড্রোজেন এবং O অক্সিজেনের প্রতীক। চিনির সংকেতের নিচের সংখ্যাগুলো একটি অণুতে সংশ্লিষ্ট পরমাণুর সংখ্যা বোঝায়।
এই দলগত কাজের উদ্দেশ্য হলো কোন পদার্থ তুলনামূলক সহজে গলে এবং সেই পার্থক্যের সঙ্গে কণাগুলোর আকর্ষণের সম্পর্ক বোঝা। নির্দিষ্ট চাপে কোনো কঠিন পদার্থ যে তাপমাত্রায় তরলে পরিণত হয়, সেটি তার গলনাঙ্ক। শুধু কতক্ষণ গরম করা হলো দেখে নির্ভুল গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায় না; এখানে মূলত আচরণের তুলনা করা হচ্ছে।
শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কাজটি করো:
- একই ধরনের দুটি পরিষ্কার, শুকনো, তাপসহনীয় পাত্রে অল্প এবং তুলনাযোগ্য পরিমাণ লবণ ও চিনি নাও। পাত্র দুটি চিহ্নিত করো।
- চিমটা বা উপযুক্ত ধারক দিয়ে পাত্র ধরে একই ধরনের তাপের উৎসে আলাদাভাবে ধীরে উত্তপ্ত করো।
- কোন নমুনা আগে তরল হচ্ছে এবং কোনো রঙের পরিবর্তন হচ্ছে কি না লক্ষ করো।
- পর্যবেক্ষণ লিখে রাখো এবং পাত্র ঠান্ডা হতে দাও। গরম পাত্র বা নমুনা হাতে ধরবে না।
চিনি তুলনামূলক কম তাপে গলে। আরও উত্তপ্ত করলে তা বাদামি এবং পরে কালো হতে পারে। খাদ্য লবণ একই ধরনের মৃদু উত্তাপে সহজে গলে না; তাকে গলাতে অনেক বেশি তাপমাত্রা লাগে। তাই পরীক্ষায় লবণ না গললেও তার গলনাঙ্ক নেই বলা যাবে না।
লবণের কেলাসে ধনাত্মক সোডিয়াম ও ঋণাত্মক ক্লোরাইড আয়ন শক্তিশালী তড়িৎ আকর্ষণে আবদ্ধ থাকে। তাদের সজ্জা পরিবর্তন করে তরল করতে বেশি শক্তি দরকার। চিনির পৃথক অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণ তুলনামূলক দুর্বল, তাই কম তাপেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
বাংলাদেশের রান্নাঘরে মিষ্টি তৈরির সময় চিনি গরম করলে রঙ বদলানোর ঘটনা দেখা যায়। তবে সাধারণ ভুল হলো চিনির কালো হয়ে যাওয়াকে শুধু গলন বলা। গলন হলো অবস্থার পরিবর্তন; দীর্ঘক্ষণ উত্তাপে চিনির বিয়োজনও ঘটে।
মনে রাখো: লবণ গলাতে চিনির চেয়ে বেশি তাপ লাগে, আর চিনির কালো হওয়া শুধু গলনের লক্ষণ নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।