বন্ধন কেন হয়
পরমাণুগুলো নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস (সর্বশেষ স্তরে সাধারণত ৮টি ইলেকট্রন) পেতে চায়। কেউ ইলেকট্রন দিয়ে, কেউ নিয়ে, কেউ ভাগাভাগি করে এই বিন্যাস পায়; এভাবেই রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয়।
আয়নিক বন্ধন
সোডিয়ামের () সর্বশেষ স্তরের ১টি ইলেকট্রন ক্লোরিনকে () দিয়ে দিলে দুই পরমাণুরই অষ্টক পূর্ণ হয়: সোডিয়াম হয় , ক্লোরিন হয় । বিপরীত চার্জের এই দুই আয়নের মধ্যে প্রবল তড়িৎ আকর্ষণই আয়নিক বন্ধন। আয়নগুলো কেলাসে শক্তভাবে সাজানো থাকে বলে আয়নিক যৌগ গলাতে অনেক তাপ লাগে।
সমযোজী বন্ধন
দুটি অধাতু পরমাণু কেউই ইলেকট্রন ছাড়তে চায় না, তাই তারা ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে। পানির অণুতে অক্সিজেন দুটি হাইড্রোজেনের সাথে একটি করে ইলেকট্রন জোড় ভাগ করে নেয়। এই ভাগাভাগির বন্ধনই সমযোজী বন্ধন।
লবণ বনাম চিনি: হাতে-কলমে
লবণ ও চিনি দুটিই পানিতে দ্রবীভূত হয়। কিন্তু লবণ-পানিতে ব্যাটারি আর বাল্ব যুক্ত করলে বাল্ব জ্বলে, চিনির দ্রবণে জ্বলে না। কারণ লবণ পানিতে আয়নে ভেঙে যায়, আর এই চলমান আয়নই বিদ্যুৎ বহন করে; চিনির অণু আয়নে ভাঙে না।
সাধারণ ভুল
- কঠিন লবণ বিদ্যুৎ পরিবহন করে লেখা। কঠিন অবস্থায় আয়ন নড়তে পারে না; গলিত বা দ্রবীভূত হলেই পরিবহন করে।
- সব সমযোজী যৌগ পানিতে অদ্রবণীয় ভাবা। চিনি ও অ্যালকোহল সমযোজী হয়েও পানিতে দ্রবীভূত হয়।