পড়ার নোট
আয়নিক বন্ধন হলো ইলেকট্রন স্থানান্তরের ফলে সৃষ্ট বিপরীত আধানযুক্ত ক্যাটায়ন ও অ্যানায়নকে যুক্ত রাখার তড়িৎ আকর্ষণ বল। একে তড়িৎযোজী বন্ধনও বলা হয়। সাধারণত ধাতু ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অধাতু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এভাবে গঠিত আয়নগুলোর আকর্ষণে যে যৌগ তৈরি হয়, তা আয়নিক যৌগ।
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠনের ধাপগুলো দেখো:
- সোডিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস 2, 8, 1। বাইরের একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে এটি নিয়নের মতো 2, 8 বিন্যাস পায়: ।
- ক্লোরিনের বিন্যাস 2, 8, 7। সোডিয়ামের দেওয়া ইলেকট্রন গ্রহণ করে এটি আর্গনের মতো 2, 8, 8 বিন্যাস পায়: ।
- উৎপন্ন ধনাত্মক সোডিয়াম আয়ন ও ঋণাত্মক ক্লোরাইড আয়ন পরস্পরকে আকর্ষণ করে আয়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়।
এখানে Na সোডিয়াম, Cl ক্লোরিন এবং একটি ইলেকট্রন বোঝায়। উপরের + ও − আয়নের আধান নির্দেশ করে। এগুলো রাসায়নিক প্রতীক; এদের SI একক নেই। বাংলাদেশের রান্নাঘরের খাদ্য লবণের সংকেত । এর কেলাসে অসংখ্য সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন থাকে; আলাদা আলাদা ক্ষুদ্র লবণের অণু ধরে গঠন বোঝানো ঠিক নয়।
ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডে ঘটনাটি দুটি ইলেকট্রন নিয়ে ঘটে। ম্যাগনেসিয়ামের 2, 8, 2 বিন্যাস থেকে দুটি ইলেকট্রন বের হলে হয়। অক্সিজেনের 2, 6 বিন্যাসে সেই দুটি ইলেকট্রন যুক্ত হলে হয়। এখানে Mg ম্যাগনেসিয়াম ও O অক্সিজেন। উভয় আয়ন নিয়নের মতো 2, 8 বিন্যাস পায়। তাদের বিপরীত আধানের আকর্ষণে গঠিত হয়।
ক্যালসিয়াম অক্সাইডেও ক্যালসিয়াম দুটি ইলেকট্রন অক্সিজেনকে দেয়। সোডিয়াম হাইড্রাইডে সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন হাইড্রোজেনকে দেয়; এতে সোডিয়ামের অষ্টক এবং হাইড্রোজেনের দুই ইলেকট্রন পূর্ণ হয়। ফলে আয়নিক বন্ধন গঠনে সব গ্রহণকারী পরমাণুর আটটি ইলেকট্রন লাগবেই—এমন নয়।
সাধারণত গ্রুপ 1 ও 2-এর ধাতু এবং গ্রুপ 16 ও 17-এর অধাতুর মধ্যে এই বন্ধন দেখা যায়। তড়িৎ আকর্ষণের কারণে বন্ধনটি শক্তিশালী। সাধারণ ভুল হলো এখানে ইলেকট্রন শেয়ার হয় বলা। আয়নিক বন্ধনে ইলেকট্রন সম্পূর্ণ স্থানান্তরিত হয়, তারপর আয়নগুলোর আকর্ষণ কাজ করে।
মনে রাখো: ইলেকট্রন স্থানান্তরে আয়ন তৈরি হয়, আর বিপরীত আধানের আকর্ষণই আয়নিক বন্ধন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।