offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৫ · টপিক ১৬

বিপরীত আধানের আয়ন যুক্ত হয়ে আয়নিক বন্ধন গঠন ও এর সংজ্ঞা

পড়ার নোট

আয়নিক বন্ধন হলো ইলেকট্রন আদান-প্রদানের ফলে সৃষ্ট বিপরীত আধানযুক্ত আয়নগুলোর মধ্যকার শক্তিশালী তড়িৎ আকর্ষণ। ধনাত্মক আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আয়নকে অ্যানায়ন বলে। বিপরীত আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে বলেই আয়নগুলো একত্রে থাকে। এই আকর্ষণকে কুলম্বীয় আকর্ষণও বলা হয়। আয়নিক বন্ধনযুক্ত যৌগ হলো আয়নিক যৌগ।

সাধারণত ধাতব পরমাণু সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন ত্যাগ করে, আর অধাতব পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এতে উভয়ের বহিঃস্তরে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস তৈরি হতে পারে। এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বোঝা দরকার: ইলেকট্রন স্থানান্তরে আয়ন তৈরি হয়; তারপর বিপরীত আধানের আকর্ষণ আয়নগুলোকে যুক্ত রাখে। শুধু ইলেকট্রন ত্যাগ করাকেই বন্ধন বলা ঠিক নয়।

ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের গঠন ধাপে ধাপে দেখা যাক। ম্যাগনেসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮, ২ এবং অক্সিজেনের ২, ৬।

  • ম্যাগনেসিয়াম দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে: Mg→Mg2++2e−\mathrm{Mg\rightarrow Mg^{2+}+2e^-}।
  • অক্সিজেন সেই দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে: O+2e−→O2−\mathrm{O+2e^-\rightarrow O^{2-}}।
  • উভয় আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস হয় ২, ৮। এরপর বিপরীত আধানের আকর্ষণে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, MgO\mathrm{MgO}, গঠিত হয়।

এখানে Mg ম্যাগনেসিয়াম, O অক্সিজেন এবং e−e^- ইলেকট্রন বোঝায়। ওপরের ২+ ও ২− আয়নের আধানসংখ্যা নির্দেশ করে; এগুলো কোনো পরিমাপের একক নয়। সমান সংখ্যক এই দুই আয়নের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান পরস্পরকে প্রশমিত করে, তাই যৌগটি সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ।

বাংলাদেশের রান্নাঘরের খাদ্য লবণেও একই নীতি কাজ করে। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে। উৎপন্ন সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন ত্রিমাত্রিকভাবে সজ্জিত হয়ে কেলাস গঠন করে। একটি আয়ন শুধু একটি বিপরীত আয়নের সঙ্গেই যুক্ত থাকে না; চারপাশের বিপরীত আধানযুক্ত আয়নগুলোর আকর্ষণও কাজ করে। শক্তিশালী আকর্ষণের জন্য সাধারণত আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।

সাধারণ ভুল: আয়নিক বন্ধনে ইলেকট্রন শেয়ার হয় ভাবা। এখানে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয় এবং সৃষ্ট আয়নগুলোর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে।

মনে রাখো: আয়ন তৈরির কারণ ইলেকট্রন স্থানান্তর, আর আয়নিক বন্ধন হলো বিপরীত আধানের আকর্ষণ।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • বন্ধন গড়ো: ইলেকট্রন কোথায় যায়?চালিয়ে দেখো

    স্কুলের ল্যাবে একটি ম্যাগনেসিয়াম ফিতা জ্বালালে চোখধাঁধানো সাদা আলো জ্বলে, আর পড়ে থাকে সাদা গুঁড়া: ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO)। Mg-এর বাইরের স্তরে ২টি ইলেকট্রন, O-এর বাইরের স্তরে ৬টি। দুটি পরমাণুই নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো পূর্ণ বাইরের স্তর চায়। ইলেকট্রনগুলো কোথায় যায়?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বিপরীত আধানযুক্ত আয়নগুলোর মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণে যে বন্ধন গঠিত হয়, তাকে কী বলে?

    1. ক

      সমযোজী বন্ধন

    2. খ

      ধাতব বন্ধন

    3. গ

      হাইড্রোজেন বন্ধন

    4. ঘ

      আয়নিক বন্ধন

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) আয়নিক বন্ধন

    1. ধনাত্মক ক্যাটায়ন ও ঋণাত্মক অ্যানায়নের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের ফলে আয়নিক বন্ধন গঠিত হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো