পড়ার নোট
আয়নিক বন্ধন হলো ইলেকট্রন আদান-প্রদানের ফলে সৃষ্ট বিপরীত আধানযুক্ত আয়নগুলোর মধ্যকার শক্তিশালী তড়িৎ আকর্ষণ। ধনাত্মক আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আয়নকে অ্যানায়ন বলে। বিপরীত আধান পরস্পরকে আকর্ষণ করে বলেই আয়নগুলো একত্রে থাকে। এই আকর্ষণকে কুলম্বীয় আকর্ষণও বলা হয়। আয়নিক বন্ধনযুক্ত যৌগ হলো আয়নিক যৌগ।
সাধারণত ধাতব পরমাণু সর্বশেষ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন ত্যাগ করে, আর অধাতব পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে। এতে উভয়ের বহিঃস্তরে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস তৈরি হতে পারে। এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বোঝা দরকার: ইলেকট্রন স্থানান্তরে আয়ন তৈরি হয়; তারপর বিপরীত আধানের আকর্ষণ আয়নগুলোকে যুক্ত রাখে। শুধু ইলেকট্রন ত্যাগ করাকেই বন্ধন বলা ঠিক নয়।
ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের গঠন ধাপে ধাপে দেখা যাক। ম্যাগনেসিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস ২, ৮, ২ এবং অক্সিজেনের ২, ৬।
- ম্যাগনেসিয়াম দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে: ।
- অক্সিজেন সেই দুটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে: ।
- উভয় আয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস হয় ২, ৮। এরপর বিপরীত আধানের আকর্ষণে ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড, , গঠিত হয়।
এখানে Mg ম্যাগনেসিয়াম, O অক্সিজেন এবং ইলেকট্রন বোঝায়। ওপরের ২+ ও ২− আয়নের আধানসংখ্যা নির্দেশ করে; এগুলো কোনো পরিমাপের একক নয়। সমান সংখ্যক এই দুই আয়নের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান পরস্পরকে প্রশমিত করে, তাই যৌগটি সামগ্রিকভাবে নিরপেক্ষ।
বাংলাদেশের রান্নাঘরের খাদ্য লবণেও একই নীতি কাজ করে। সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে। উৎপন্ন সোডিয়াম ও ক্লোরাইড আয়ন ত্রিমাত্রিকভাবে সজ্জিত হয়ে কেলাস গঠন করে। একটি আয়ন শুধু একটি বিপরীত আয়নের সঙ্গেই যুক্ত থাকে না; চারপাশের বিপরীত আধানযুক্ত আয়নগুলোর আকর্ষণও কাজ করে। শক্তিশালী আকর্ষণের জন্য সাধারণত আয়নিক যৌগের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি।
সাধারণ ভুল: আয়নিক বন্ধনে ইলেকট্রন শেয়ার হয় ভাবা। এখানে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয় এবং সৃষ্ট আয়নগুলোর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে।
মনে রাখো: আয়ন তৈরির কারণ ইলেকট্রন স্থানান্তর, আর আয়নিক বন্ধন হলো বিপরীত আধানের আকর্ষণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।