বন্ধন গড়ো: ইলেকট্রন কোথায় যায়?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
স্কুলের ল্যাবে একটি ম্যাগনেসিয়াম ফিতা জ্বালালে চোখধাঁধানো সাদা আলো জ্বলে, আর পড়ে থাকে সাদা গুঁড়া: ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড (MgO)। Mg-এর বাইরের স্তরে ২টি ইলেকট্রন, O-এর বাইরের স্তরে ৬টি। দুটি পরমাণুই নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো পূর্ণ বাইরের স্তর চায়। ইলেকট্রনগুলো কোথায় যায়?
Mg আর O মিলে MgO হওয়ার সময় Mg-এর বাইরের ২টি ইলেকট্রনের কী হয়?
- দুটিই O-কে দিয়ে দেয়: Mg²⁺ আর O²⁻ আয়ন তৈরি হয়
- O-এর সাথে ভাগাভাগি করে, যেমন পানির অণুতে হয়
- দুটি আলাদা O পরমাণুকে একটি করে দেয়: MgO₂
- নিজের কাছেই রাখে, আর O থেকে ৬টি ইলেকট্রন নেয়
যা বদলাতে পারবে
- প্রথম পরমাণু (ডট): হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), কার্বন (C), নাইট্রোজেন (N), অক্সিজেন (O), ফ্লোরিন (F), সোডিয়াম (Na), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), অ্যালুমিনিয়াম (Al), সিলিকন (Si), ফসফরাস (P), সালফার (S), ক্লোরিন (Cl), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar)
- দ্বিতীয় পরমাণু (ক্রস): হাইড্রোজেন (H), লিথিয়াম (Li), কার্বন (C), নাইট্রোজেন (N), অক্সিজেন (O), ফ্লোরিন (F), সোডিয়াম (Na), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), অ্যালুমিনিয়াম (Al), সিলিকন (Si), ফসফরাস (P), সালফার (S), ক্লোরিন (Cl), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar)
- বন্ধনের ধরন: পরমাণুরাই ঠিক করুক, আয়নিক, সমযোজী, ধাতব
- ছবি: বোর মডেল, তারপর ডট-ক্রস, শুধু বোর মডেল, শুধু ডট-ক্রস
যা মেপে দেখাবে
- সংকেত
- বন্ধনের ধরন
- স্থানান্তরিত ইলেকট্রন
- শেয়ার করা ইলেকট্রন জোড়
- প্রথম পরমাণুর আধান
- দ্বিতীয় পরমাণুর আধান
- সবার অষ্টক/দুই পূর্ণ
- বন্ধন কোণ (°)
- গলনাঙ্ক (°C)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- এবার দুটি অধাতু নাও, যেমন H আর O। ইলেকট্রন কি এখনো এক পরমাণু থেকে আরেকটিতে চলে যায়, নাকি দুই পরমাণুর মাঝখানে জোড়া বাঁধে?
- নিয়ন (Ne) নিয়ে চেষ্টা করো। তার বাইরের স্তরে কয়টি ইলেকট্রন? সে কেন কারো সাথে বন্ধন গড়ে না?
নিজে করে দেখো
- পানির অণু (H₂O) বানাও এবং দেখো বন্ধন কোণ কত।
ইঙ্গিত
হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন বেছে নাও।
- এমন একটি অণু বানাও যাতে দুটি পরমাণুর মাঝে দুই জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার হয় (দ্বিবন্ধন)।
ইঙ্গিত
অক্সিজেনের দরকার আরও ২টি ইলেকট্রন। O + O বা C + O চেষ্টা করো।
- এমন একটি আয়নিক যৌগ বানাও যেখানে একটি ধাতব পরমাণু দুটি অধাতব পরমাণুকে ইলেকট্রন দেয় (যেমন CaCl₂, যা বাতাস শুকনো রাখতে ব্যবহার হয়)।
ইঙ্গিত
যে ধাতুর বাইরে ২টি ইলেকট্রন, আর যে অধাতুর দরকার ১টি।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
অষ্টক নিয়ম: আয়নিক ও সমযোজী বন্ধন
পরমাণুরা বন্ধন গড়ে বাইরের স্তর পূর্ণ করতে, নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো ৮টি (H ও Li-এর ক্ষেত্রে ২টি) ইলেকট্রন পেতে। ধাতু আর অধাতু মিললে ধাতু তার বাইরের ইলেকট্রনগুলো দিয়ে দেয় আর ধনাত্মক আয়ন (ক্যাটায়ন) হয়; অধাতু সেগুলো নিয়ে ঋণাত্মক আয়ন (অ্যানায়ন) হয়। বিপরীত আধানের আকর্ষণই আয়নিক বন্ধন। দুটি অধাতু মিললে কেউই ইলেকট্রন ছাড়তে পারে না, তাই তারা ইলেকট্রন জোড়া শেয়ার করে: এটাই সমযোজী বন্ধন। এক জোড়া শেয়ার করলে একক বন্ধন, দুই জোড়ায় দ্বিবন্ধন, তিন জোড়ায় ত্রিবন্ধন।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
Mg-এর পক্ষে ৬টি ইলেকট্রন নেওয়ার চেয়ে ২টি ছেড়ে দেওয়া অনেক সহজ, আর O-এর ঠিক ২টিই দরকার। তাই একটি O দুটিই নেয়, ভাগাভাগি নয়: Mg²⁺ ও O²⁻।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- সব বন্ধনেই পরমাণুরা ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে
- একটি পরমাণু প্রতিটি সঙ্গীকে কেবল একটি করে ইলেকট্রন দিতে পারে
- ধাতুও অষ্টক পূরণের জন্য ইলেকট্রন গ্রহণ করে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- ওআরএস স্যালাইনে খাবার লবণ (NaCl) পানিতে Na⁺ ও Cl⁻ আয়নে ভেঙে যায়; এই আয়নগুলোই ডায়রিয়ায় হারানো লবণের ঘাটতি পূরণ করে। লবণ পানি বিদ্যুৎ পরিবহন করে, চিনির পানি করে না: চিনির অণুতে আয়ন নেই।
- রান্নার গ্যাসের মূল উপাদান মিথেন (CH₄): একটি কার্বন চারটি হাইড্রোজেনের সাথে চার জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে। সমযোজী অণু বলে এটি সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস।
পাঠ্যবইয়ের টপিক
- যোজ্যতা ইলেকট্রন
- বহিঃস্থ স্তরের ইলেকট্রন থেকে যোজ্যতা ইলেকট্রনের ধারণা
- আণবিক সংকেত ও গাঠনিক সংকেত
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং এর স্থিতিশীলতা
- অষ্টক ও দুই-এর নিয়মের সাহায্যে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের স্থিতিশীলতার ব্যাখ্যা
- অষ্টক ও দুই-এর নিয়ম
- রাসায়নিক বন্ধন
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন
- অষ্টক ও দুই-এর নিয়মের আলোকে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন সৃষ্টির কারণ
- বিপরীত আধানের আয়ন যুক্ত হয়ে আয়নিক বন্ধন গঠন ও এর সংজ্ঞা
- ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন ও সমযোজী বন্ধনের সংজ্ঞা
- ধাতুর গঠন ও ধাতব বন্ধন