পড়ার নোট
পরমাণুর ইলেকট্রনগুলো K, L, M, N ইত্যাদি কক্ষপথে বিন্যস্ত থাকে। বহিঃস্থ স্তর বলতে ইলেকট্রন আছে এমন সর্বশেষ কক্ষপথকে বোঝায়। এই স্তরের ইলেকট্রনগুলোই যোজ্যতা ইলেকট্রন। তাই যোজ্যতা ইলেকট্রন নির্ণয়ের মূল কাজ হলো সঠিক বহিঃস্থ স্তর শনাক্ত করা। সব পরমাণুর ক্ষেত্রে একই কক্ষপথ বহিঃস্থ স্তর হয় না।
ক্যালসিয়ামের প্রতীক Ca। এর 20টি ইলেকট্রনের বিন্যাস 2, 8, 8, 2। এখানে K, L, M ও N কক্ষপথে যথাক্রমে 2, 8, 8 ও 2টি ইলেকট্রন আছে। N কক্ষপথ সর্বশেষ এবং এতে দুটি ইলেকট্রন রয়েছে। তাই ক্যালসিয়ামের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 2।
ক্লোরিনের প্রতীক Cl এবং বিন্যাস 2, 8, 7। এখানে M কক্ষপথই সর্বশেষ ইলেকট্রনযুক্ত কক্ষপথ। তাই ক্লোরিনের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা 7। ক্যালসিয়ামের ক্ষেত্রে N কক্ষপথ বিবেচনা করা হয়েছে বলে ক্লোরিনের ক্ষেত্রেও N কক্ষপথ ধরলে ভুল হবে। খালি বাইরের কক্ষপথ গোনা হয় না।
আরও কয়েকটি বিন্যাস তুলনা করো:
- নাইট্রোজেনের বিন্যাস 2, 5; বহিঃস্থ L কক্ষপথে 5টি ইলেকট্রন।
- ফ্লোরিনের বিন্যাস 2, 7; বহিঃস্থ L কক্ষপথে 7টি ইলেকট্রন।
- ফসফরাসের বিন্যাস 2, 8, 5; বহিঃস্থ M কক্ষপথে 5টি ইলেকট্রন।
এতে দেখা যায়, কক্ষপথের সংখ্যা আলাদা হলেও দুটি মৌলের যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা সমান হতে পারে। যেমন, নাইট্রোজেন ও ফসফরাস উভয়েরই এই সংখ্যা 5।
একটি অনুশীলন হিসেবে তিনটি নিরপেক্ষ ফ্লোরিন পরমাণুর মোট যোজ্যতা ইলেকট্রন গুনে দেখো। প্রথম ধাপে একটি পরমাণুর বিন্যাস 2, 7 থেকে বাইরের সংখ্যা 7 নাও। দ্বিতীয় ধাপে তিনটি পরমাণুর জন্য হিসাব করো: । এখানে 3 পরমাণুর সংখ্যা, 7 প্রতিটির যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা এবং 21 মোট সংখ্যা; এগুলো এককবিহীন গণনা।
রান্নার খাদ্য লবণের ক্লোরিনের বন্ধন বুঝতেও প্রথমে এই সাতটি বাইরের ইলেকট্রন শনাক্ত করতে হয়। এগুলো রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ ও বন্ধন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ভুল হলো সব কক্ষপথের ইলেকট্রন যোগ করে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলা।
মনে রাখো: ইলেকট্রন বিন্যাসের সর্বশেষ ইলেকট্রনযুক্ত কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যাই যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।